সরকারি গাছ বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ

ইন্দুরকানীতে পাউবো কর্তৃপক্ষের নাম ভাঙ্গিয়ে গাছ বিক্রি

প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

ইমন চৌধুরী, ইন্দুরকানী (পিরোজপুর)

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষের নাম ভাঙ্গিয়ে বেড়িঁবাধের সরকারি গাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে বালিপাড়া পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির (ডাব্লিউএমসি) সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন ফকিরের বিরুদ্ধে। ডাব্লিউএমসি সদস্যদের অজ্ঞাতে উর্ধ্বতন এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতির নামে গোপনে একের পর এক গাছ বিক্রি করার অভিযোগ তুলেছেন কমিটির অন্যান্য সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দরা।

সরেজমিনে জানা যায়, বালিপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব চরবলেশ^র ছোরের খালের উপর নির্মিত স্লুইচ গেটের দুইপাশে এবং কচা নদী সংলগ্ন পাশর্^বর্তী বেড়িবাঁধের পাশে রেইন্ট্রি, চম্বল, মেহেগনি সহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১৭ থেকে ১৮টি গাছ রয়েছে। গত ৩ মাস আগে এখানে রাস্তা নির্মাণ করার সময় ২টি চম্বল, ১ মেহেগনিসহ কয়েকটি গাছ বিক্রি করেন। এর আগে তিনি স্লুইচগেটের উত্তর পাশের্^ রেইন্ট্রি, চম্বল ও একটি গুলব গাছ বিক্রি করেন। যার বাজার মূল্য ছিল প্রায় অর্ধলাখ টাকা। আর এ পুরো টাকাই তিনি আত্মসাৎ করেছেন। গাছ বিক্রির সময় স্থানীয়দের প্রশ্নের সম্মুখিন হলে তিনি কখনো পাউবোর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি, কখনো মসজিদ মাদ্রাসায় দান করার কথা বলে এড়িয়ে গেছেন।

এদিকে গত মঙ্গলবার স্লুইচ গেটের উত্তর পাশ থেকে দুটি চম্বল গাছ কাটতে দেখে স্থানীয়রা প্রশ্ন করলে গাছ কাটা শ্রমিকরা জানান, গাছ দুটি সাড়ে ৫ হাজার টাকায় চরবশে^র গ্রামের বাবুল নামে এক ব্যক্তি দেলোয়ার হোসেন ফকিরের কাছ থেকে কিনেছেন। যদিও গাছ দুটির বর্তমান বাজার মূল্য ছিল প্রায় ১০ হাজার টাকা। অপরদিকে গোপনে সরকারি গাছ বিক্রির কথা আশপাশ জানাজানি হলে গত বুধবার গাছ কাটা শ্রমিকদের গাছ কেটে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার কথা বলেন তিনি। ডাব্লিউএমসির সদস্য আব্দুল বারেক হাওলাদার বুধবার সকালে অভিযোগে জানান, দেলোয়ার হোসেন ফকির যে কমিটির সেক্রেটারি ওই কমিটির আমি একজন সদস্য। অথচ আমাদের কোন সদস্যকে না জানিয়ে এবং সংশ্লিস্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে তিনি গোপনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২টি গাছ কেটে বিক্রি করেছেন। এর আগেও তিনি চরবলেশ^র ছোরের খালের স্লুইচ গেট এলাকা থেকে এক এক করে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের আরো ৫টি সরকারি গাছ বিক্রি করেছে।

অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন ফকির বলেন, গাছ বিক্রয় করেছে কৃষ্ণ ভক্ত নামের এক লোক, এ জায়গা তার, আমি কোন গাছ বিক্রয় করিনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় বাসিন্দা কৃষ্ণ ভক্তের স্ত্রী জানান, স্ল্ইচ গেট করার জন্য আমরাই ওখানে জমি দিয়েছি। আর এ গাছগুলোর অধিকাংশই আমাদের রোপন করা। দেলোয়ার ফকির কখনো আমাদের নাম ভাঙ্গিয়ে আবার কখনো কর্তৃক্ষের নাম বলে গাছ গুলো বিক্রি করছেন। আমরা হিন্দু মানুষ তাই ভয়ে এদের সামনে মুখ খুলে কথা বলতে পারি না।

 

বালিপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) শহিদুল ইসলাম বাবুল এ ব্যাপারে বলেন, গাছ বিক্রি করার ব্যাপারে আমাদের পরিষদকে কোন অবহিত করা হয়নি। ইউনিয়নেরর ৪ নং ওয়ার্ডের (চরবলেশ^র) ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, গাছ বিক্রির বিষয়ে আমাদের আগে তিনি কিছুই জানাননি।

পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে দেলোয়ার হোসেন ফকির বলেন, আমি সমিতির সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাড. এম মতিউর রহমান এর অনুমতি নিয়ে গাছ বিক্রয় করেছি। তিনি দাবি করেন, বেড়িবাঁধের গাছ আমাদের, এখানে সরকারের কোন অংশ নাই।

পিরোজপুর পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সাইদ আহম্মদ বুধবার দুপুরে জানান, এই গাছ বিক্রির ব্যাপারে আমরা আগে এবং এখন কোন অনুমতি দেইনি তাকে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাম ভাঙ্গিয়ে এভাবে সরকারি গাছ বিক্রির প্রমান পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

"