কলাপাড়ায় অভিযানের পরও চলছে জাটকা নিধন

প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কোস্টগার্ড এবং মৎস্য বিভাগের নিয়মিত অভিযানের পরও এক শ্রেণির জেলেরা অবাধে চালাচ্ছে জাটকা নিধন। তবে জেলেদেরে দাবি পেটের দায়, অসচেতনতা কিংবা মহাজনের দাদনের চাপে বিভিন্ন নদ-নদীতে এ জাটকা শিকার করছে তারা। আর জেলেদের এমন দাবি মানতে নারাজ মৎস্য বিভাগ ও কোস্টগার্ড।

গতকাল সোমবার সরেজমিনে জানা গেছে, কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরসহ বিভিন্ন শাখা নদীতে প্রতিদিন এক শ্রেণির জেলেরা জাটকা নিধন করছে। এসব জাটকা নিধনে ব্যবহার করছে ছোট ফাঁসের নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল। কোস্টগার্ড এবং মৎস্য অধিদপ্তরের চোখ ফাঁকি দিয়ে শিকার করা জাটকা মাছ আবার স্থানীয় ছোট হাট-বাজারসহ গ্রামে ফেরি করে বিক্রি করছে। আর এসব জাটকা শিকারের জন্য জেলে ও ব্যবসায়ীরা দায়ী করছেন একে অপরকে। তবে মৎস্য অধিদপ্তর জানায়, জাটকা শিকার বন্ধসহ প্রজননকালীন সময়ে ইলিশ আহরণ বন্ধ রাখার জন্য জেলেদের বিভিন্ন প্রনোদনা দেওয়া হচ্ছে।

সচেতনতা বৃদ্বির জন্য জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের নিয়ে উঠোন বৈঠক, সেমিনার করা হচ্ছে। এর ফলে নদ-নদীর মোহনাসহ সাগরে বাড়ছে ইলিশের প্রাচুর্যতা। আর জাটকা নিধন বন্ধে উপকূলীয় মোহনার বিভিন্ন নদ-নদীতে চলছে নিয়মিত অভিযান। গতকাল দিনভর সাগর মোহনাসহ রামনাবাদ নদীতে অভিযানকালে ৩০ মণ জাটকা এবং ছয় লাখ ১০ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করে। একইদিন কলাপাড়া পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রায় ১০ মণ জাটকা উদ্ধার করে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর। এসব জাল গুলো পায়রা বন্দর এলাকায় পুড়িয়ে ফেলা হয়। জাটকা স্থানীয় বিভিন্ন এতিমখান, মাদ্রাসাসহ দুঃস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। তবে এভাবে যদি জেলেদের জাটকা আহরণ চলতে থাকে ইলিশ মৌসুমে ইলিশে সংকট দেখা দিবে বলে মনে করেছেন মৎস্য সংশ্লিষ্টরা।

কোস্টগার্ড রামনাবাদ স্টেশন কমান্ডার মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। চলমান অভিযানে প্রায়শই নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল আটক করা হচ্ছে। আটক জাল পুড়িয়ে ফেলাসহ মাছ মাদ্রাসা, এতিমখানাসহ দুঃস্থদের মাঝে বিলি করা হচ্ছে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, সীমিত লোকবল এবং ট্রান্সপোর্ট সমস্যা নিয়েই জাতীয় সম্পদ ইলিশসহ অন্যান্য প্রজাতির মাছ রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতিতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জেলেদের সচেতনা বৃব্দিতে নিয়মিত সভা-সমাবেশ করা হচ্ছে। আমি শুনেছি এরপরও অনেকে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে জাটকা নিধন করেছে।

"