নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কৌশলে চলছে কোচিং বাণিজ্য

প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

মেহেরপুর ও জয়পুরহাট প্রতিনিধি

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরুর আগেই সব ধরনের কোচিং বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রনালয়। তবে মন্ত্রনালয়ের নির্দেশকে অমান্য করে মেহেরপুর, জয়পুরহাটে কৌশলে চলছে কোচিং বাণিজ্য।

মেহেরপুর প্রতিনিধি জানান, মেহেরপুরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার পাশাপাশি নামে বেনামে কোচিং সেন্টার চালাচ্ছেন অসাধু শিক্ষকরা। নানা রকম প্রলোভন ও পরীক্ষায় কম নাম্বার দেয়ার ভয় দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের কোচিং করতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে অনেক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, কোচিং বন্ধের জন্য আদালত রায় দিয়েছেন। তবুও বন্ধ হচ্ছে না। শিক্ষকরা সকাল বিকাল কোচিংয়ে সময় দেয়। ক্লাসে ভালোভাবে পড়ালে শিক্ষার্থীদের আর প্রাইভেট কিংবা কোচিং করতে হয় না। শিক্ষকরাই কোচিং করার জন্য ক্লাসে পড়া ফাঁকি দিয়ে থাকেন।

গতকাল রোববার সরেজমিনে মেহেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের কোচিং করাতে দেখা যায়। জেলা শহরে এসএসসি পরীক্ষার মধ্যে রয়েল একাডেমি কোচিং, আইডিয়াল প্লাস, জব কোচিং, এ টু জেট কোচিং, ইউনাইডেট স্কুল এন্ড কলেজ, গোল্ডন ফিউচার, রেডিয়াস কোচিং, এরিথ মেথিং কোচিং, প্রাঞ্জল ইংলিশ কোচিং সেন্টার সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে এসএসসি পরীক্ষার মধ্যেও কোচিং করাচ্ছে। জেলা শিক্ষা অফিসার আবদুল মালেক জানান, পরীক্ষার সময়ে কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার জন্য চিঠি দেয়া হয়েছিল। তারপরেও বন্ধ হয়নি। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করে আইনগত ব্যবস্থার সুপারিশ করবেন বলে জানান তিনি।

এদিকে জয়পুরহাট প্রতিনিধি জানান, জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন স্থানে কোচিং সেন্টারের সাইনবোর্ড সরিয়ে স্কুল ও একাডেমীর সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে চলছে কোচিং। কোথাও কোথাও বাইরে তালা ঝুলিয়ে ভিতরে চলছে কোচিংয়ের কার্যক্রম। এদিকে, সরকারের নির্দেশ অমান্য করে পূনরায় কোচিং সেন্টারগুলো চালু হওয়ায় প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে শঙ্কায় আছেন অভিভাবকরা।

গত ১ জানুয়ারী, ২০১৮ দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকায় ‘জয়পুরহাটে প্রাইভেটের নামে চলছে কোচিং বাণিজ্য’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর কয়েকদিন কোচিং বন্ধ থাকলেও বিভিন্ন কৌশলে আবারো শুরু হচ্ছে এসব কোচিং সেন্টার।

গতকাল রোববার জয়পুরহাট শহরের বদরমাস্টার রোডে সরেজমিনে দেখা যায়, ভার্টেক্স কোচিং সেন্টারের মেইন দরজা বন্ধ। ভিতরে দুটি রুমে প্রায় শতাধিক ছাত্রছাত্রী কোচিংয়ের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিচ্ছে। নাম না প্রকাশের শর্তে কোচিংয়ের শিক্ষক ও কিছু শিক্ষার্থী কোচিংয়ের কথা স্বীকার করেন।

বিসিএস একাডেমী নামে আরেক কোচিংয়ে গিয়ে দেখা যায় দুটি রুমে শতাধিক ছাত্রছাত্রী কোচিং করছে।

সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে কোচিংয়ের পরিচালক ও শিক্ষকরা সটকে পড়ে। এভাবে চলছে বেশ কয়েকটি কোচিং একাডেমী।

জয়পুরহাট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ বলেন, সরকারী নিয়ম অনুসারে কোচিং সেন্টার বন্ধ রয়েছে। কিউ অনিয়ম করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক মোকাম্মেল হক বলেন, যদি কেউ কোচিং চালায় অবশ্যই তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"