নিষিদ্ধ পলিথিন শপিং ব্যাগে সয়লাব শাজাহানপুর

প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি

নিষিদ্ধ পলিথিন শপিং ব্যাগে বগুড়া শাজাহানপুর বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। উপজেলার ফুটপাতের হকার, কাঁচাবাজার, ভোগপণ্য বাজার সর্বত্রে আইন অমান্য করে পলিথিন ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রকাশ্যে পলিথিনের ব্যবহার হলেও দেখার কেউ নেই। পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতনমহল।

জানা গেছে, ২০০২ সালের পহেলা জানুয়ারি ঢাকা ও পহেলা মার্চ সারা দেশে পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে সরকার। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন(সংশোধিত)২০০২ অনুযায়ী, এই আইন অমান্য করলে ১০বছরের সশ্রম কারাদন্ড এবং ১০লক্ষ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে।

জানা গেছে, বগুড়া শাজাহানপুর উপজেলা বনানী গন্ডগ্রামের মিয়াপাড়া নামক এলাকায় রয়েছে ১টি পলিথিন উৎপাদন কারখানা। এখানে দীর্ঘ বছর যাবৎ পলিথিন উৎপাদন করা হচ্ছে। উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় ২টি ও বেজোরা এলাকায় ১টি কারখানা রয়েছে। এসব কারখানা থেকে উৎপাদিত পলিথিন বগুড়া শহরের রাজাবাজার থেকে পাইকারি বিক্রয় করা হয়। উপজেলার প্রায় প্রতিটি বন্দরেই রয়েছে একাধিক পলিথিন শপিং ব্যাগের খুচরা বিক্রেতা। আইন অমান্য করে স্বাভাবিকভাবেই চলছে পলিথিনের ব্যবহার। বিশেষ করে মুদি, বেকারি, মাছ, মাংস, তরিতরকারী এবং ফলমূলের দোকানে ব্যাপক হারে পলিথিনের ব্যবহার হয়ে আসছে। প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় পলিথিন নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টিই ভুলেই গেছে ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

উপজেলার নয়মাইল এলাকার পলিথিন ব্যাগের খুচরা ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ ও বনানী বন্দরের ব্যবসায়ী সুকুমার রায়সহ আরও অনেক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, তারা বাজারের চাহিদা পূরণ করতে পলিথিন শপিং ব্যাগ বিক্রি করছেন। পলিথিন ব্যাগ ছাড়া বাজার কল্পনাই করা যায় না। টাকা দিয়ে ক্রেতারা পাটের ব্যাগ কিনতে চায় না। পুলিশ-প্রশাসন পলিথিন ব্যাগ বিক্রি বন্ধে অনেক আগে অভিযান চালালেও বর্তমানে আসে না। একারণে তারা নির্ভয়ে ব্যবসা করছেন।

শফিকুল ইসলাম, ইব্রাহিম হোসেন খোকন, সেলিম নাহিদসহ একাধিক উপজেলাবাসী জানান, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আর্বজনার স্তূপ পলিথিন ব্যাগে সয়লাব হয়ে থাকে। পরবর্তিতে এসব আর্বজনা করতোয়া নদীতে ফেলা হয়। এতে পলিথিন দিয়ে নদী ভরাট ও পানি দূষিত হচ্ছে।

বগুড়া সরকারী আযিযুল হক কলেজের সাবেক বাংলা বিভাগের ডিপার্টমেন্ট প্রধান অধ্যাপক রাশেদা বিলকিস জানান, পলিথিন মাটির স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। পচনশীল না হওয়ায় বাধা সৃষ্টি করে সবধরনের চাষাবাদে। ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার হয় পলিথিন তৈরিতে। দেশে সরকারিভাবে পলিথিন নিষিদ্ধ হলেও এর ব্যবহার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে হুমকির মুখে রয়েছে পরিবেশ।

শাজাহানপুরে পলিথিন ব্যাগ বিক্রি এবং ব্যবহার বন্ধে অভিযান পরিচালনা না হওয়ার কারন জানতে চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তিতে ৩৩৩ নাম্বারে ফোন করে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফোন কেন রিসিভ করেন না বিষয়টি জানতে চাইলে সেখান থেকে জানানো হয় এ বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না।

"