আসামি ধরতে গিয়ে হরিজন যুবককে মারধর

প্রতিবাদে দুই পুলিশকে মারধর হরিজনদের

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সাদা পোশাকে আসামী ধরতে গিয়ে হরিজন পল্লীর এক যুবককে মারধর করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গৌরীপুর থানার দুই পুলিশ সদস্যকে পিটুনী দিয়েছে হরিজন পল্লীর সদস্যরা। পিটুনির শিকার ওই পুলিশ সদস্যরা হলেন গৌরীপুর থানার এএসআই আব্দুল আওয়াল ও ওয়্যারল্যাস অপারেটর রফিকুল ইসলাম। গত শুক্রবার রাতে গৌরীপুর পৌর শহরের গো-হাটা সংলগ্ন হরিজন পল্লীতে এই ঘটনা ঘটে। তবে পুলিশের দাবি, হরিজন সদস্যদের সঙ্গে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

হরিজন পল্লী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার শীতের রাতে পৌর শহরের গো-হাটা হরিজন পল্লীর তিন যুবক- সাজন বাসফোড় , রামু বাসফোড় ও রাজু বাসফোড় পল্লীর পথের সামনে আগুন পোহাচ্ছিলো। এসময় এএসআই আব্দুল আউয়াল ও ওয়্যারল্যাস অপারেটর রফিকুল ইসলাম মোটরসাইকেল যোগে এই পথে যাওয়ার সময় হরিজন যুবকদের দেখে গাড়ি থামিয়ে তাদের দেহ তল্লাশি করে। এসময় হরিজন যুবকরা নিজেদের পরিচয় দিয়ে ঘটনার প্রতিবাদ করলে পুলিশ রামু নামে এক যুবককে মারধর ও অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করে। মারধরের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ হরিজন নারী-পুরুষরা ঘটনাস্থলে এসে দুই পুলিশ সদস্যকে মারধর করে আটকে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দুই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।মারধরের শিকার হরিজন যুবক রামু বাসফোর বলেন, রাইতের বেলা আমরা বাড়ির সামনে আগুন থাপাইতেছিলাম। এই সময় সিভিলে দুই পুলিশ আইস্যা আমরারে গাঞ্জা ব্যবসায়ী কইয়্যা গালমন্দ করতে থাকে। আমরা হরিজন পল্লীর পরিচয় দেওয়ার পরেও একজন পুলিশ আমারে হুদাই মারধর করে। পরে আমরার লোকজন পুলিশের ওপর অ্যাকশানে যায়।

স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রাতের বেলায় আমার গো-হাটা এলাকায় চা খাচ্ছিলাম। পরে হরিজন পল্লীতে চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি দুই পুলিশকে বাথরুমে আটকে রেখেছে হরিজনরা। খবর পেয়ে থানা থেকে কয়েকজন পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এএসআই আব্দুল আউয়াল বলেন, আসামী ধরতে গেলে হরিজন সদস্যদের একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে। তবে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার আহাম্মদ বলেন, শুক্রবার রাতে গাঁজা ব্যবসায়ী ধরার অভিযান গেলে পুলিশের সাথে হরিজন পল্লীর সদস্যদের একটু ঝামেলা হয়। তবে পুলিশের সাথে হরিজনদের মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

 

"