খানসামায় আলু ক্ষেতে ‘লেট ব্লাইট’ রোগের আক্রমণ

মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

তারিকুল ইসলাম চৌধুরী, খানসামা (দিনাজপুর)

অদিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় আলু বাজার ধ্বসের পর মরার ওপর খাড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে আলু ক্ষেতে ‘ লেট ব্লাইট’ রোগের আক্রমণ। কিন্তু প্রথম দিকে আলু ক্ষেতে তেমন রোগ বালাই চোখে না পড়লেও কনকনে শীতে লেট ব্লাইট রোগ দেখা দিয়েছে। এ রোগ মহামারি হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছে উপজেলার বিভিন্ন আলু ক্ষেতে। উপজেলাটিতে প্রায় সব আলুর ক্ষেতেই কম বেশি এ রোগ আক্রমণ চোখে পড়ে।

স্থানীয়রা জানান, জেলার খানসামায় প্রতি বছর জনপ্রিয় কয়েক চাষাবাদের মধ্যে আলু চাষ অন্যতম। এখানে আগাম আলু চাষ ও উত্তোলনের পরে পরেই অনেক কৃষক আবার আলুর বীজ একই জমিতে রোপণ করেন। এ রোপণ করা আলু পৌষ শেষে ও মাঘের দিকে উত্তোলন করে থাকেন। তবে বেশির ভাগ কৃষক অগ্রায়ণের দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতেই আলুর বীজ রোপন করে থাকেন। তারা এ আলু উত্তোলনের পরেই ভুট্টা লাগান। সরেজমিনে জানা যায় , উপজেলার অনেক কৃষক এ রোগ সনাক্ত করতে ও এর সঠিক পরিচর্যা জানে না, আবার অনেক কৃষক এ রোগ সনাক্ত করতে ও এর সঠিক পরিচর্যা করতে জানে। এবার যে জানে ও যে জানে না উভয়েরই আলু ক্ষেতে এ শীতে হঠাৎ লেট ব্লাইট রোগ আক্রমণ করেছে। এ রোগ আক্রমণের কারণ হলো অতিরিক্ত শীত অবহেলা, আলু দাম কম, কীটনাশকের দাম বেশি। পাকের হাটের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, এ রোগ আলুর গাছে প্রথমে আক্রমণ করে তারপরে গাছটির পাতা শুকিয়ে মরে যায়। আলুতে দাগের মত গর্ত থাকে। আমার আলুর ক্ষেতে লেট ব্লাইট রোগ আক্রমণ করে পাতা মরে পঁচে গেছে। কি পরিচর্যা করবো আলুর তো দামেই নাই। উপজেলা কৃষি অফিসার আফজাল হোসেন এ সম্পর্কে বলেন, এবার আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৮ হাজার ৬০ হেক্টর কিন্তু অর্জিত হয়েছে ৪০ হাজার ৭০ হেক্টর জমি। এ উপজেলায় চাষ হয়েছে গ্রানুলা, কার্ডিনাল, লেডিরোসেটা, কারেস, স্টারি দেশীয় নানা জাত। আলুর লেট ব্লাইট রোগটি শীতজনিত রোগ। এ রোগ সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন করাসহ মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ রোগ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে।

 

"