বছরে ১০ হাজার হর্ন, জব্দ মামলা কয়েক হাজার

হর্নের বিকট শব্দে বিপর্যস্ত নগরবাসী

প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০

কাইয়ুম আহমেদ

ঢাকা মহানগরীতে শব্দদূষণ বিশেষ করে যানবাহনের বিকট হর্ন নগরবাসীকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। এই নীরব ঘাতক শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে সচেতনতা বাড়ানো এবং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এই দূষণ কমানো সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে, মারাত্মক ক্ষতিকর হাইড্রোলিক হর্ন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পুলিশ। গত এক বছরে ঢাকায় ১০ হাজার হর্ন জব্দ ও কয়েক হাজার মামলা দিয়েছে। আর এই দূষণ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক ফরিদ আহমেদ।

রাজধানীতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে অভিযান চালিয়ে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ গত এক বছরে ১০ হাজার হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। গত ১৬ আগস্ট নগরীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে ‘শব্দদূষণ ও হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধে করণীয়’ নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য দেন তিনি। ওইদিন ডিএমপি কমিশনার বলেন, হাইড্রোলিক হর্নের অননুমোদিত ব্যবহার কমে এলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। পরে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে জব্দ করা হাইড্রোলিক হর্নগুলো ধ্বংস করা হয়। তিনি জানান, বাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান দেদার হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করছে। সাধারণ হর্নের তুলনায় হাইড্রোলিক হর্নে অনেক গুণ বেশি শব্দ হয়। এসব যানবাহন শহর ও মহাসড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় হাইড্রোলিক হর্নের শব্দে ঘুম থেকে মানুষ আঁৎকে ওঠে। এই হর্ন রাস্তার পাশে থাকা হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গুরুতর শব্দদূষণ ঘটায়। এই হর্নের শব্দ এক কিলোমিটার দূরে পর্যন্ত শব্দদূষণ করে। হাইড্রোলিক হর্ন বাজানোর পেছনে গাড়িচালকদের অজ্ঞতা, গাড়ির মালিকের নিয়ন্ত্রণহীনতা, যত্রতত্র হর্ন কেনাবেচা, গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান কম হওয়া, শাস্তির পরিমাণ কম হওয়া, সতর্কতামূলক রোড সাইন কম থাকা, প্রশিক্ষণের ঘাটতি ইত্যাদি বিষয় নজরে আনেন ডিএমপি কমিশনার।

রাজধানীতে রাতে বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানের মতো ভারী যানবাহন হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করছে। ডিএমপির পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়ার পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তবে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ হাইড্রোলিক হর্নের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নগরবাসী, চালক, মালিক, হর্নবিক্রেতা, প্রস্তুতকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করছে ডিএমপি।

অন্যদিকে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ রাখতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছেন পরিবেশবিদরা। স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে তীব্র এবং তীক্ষè শব্দ প্রতিনিয়ত আমাদের শ্রবণশক্তির ওপর প্রভাব ফেলছে। যার ফলে নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। শব্দদূষণ কমিয়ে আনতে এক কর্মসূচির সমাপনীতে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সবার মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে শব্দদূষণ কমিয়ে আনা সম্ভব।

শব্দদূষণের মাত্রা নির্ণয়ে আটটি বিভাগীয় শহরে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক কর্মসূচি চালায় পরিবেশ অধিদফতর। জরিপে শব্দদূষণের উৎস চিহ্নিত করা, হর্ন গণনা, জনমত যাচাই এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে ২০ হাজার মানুষকে। বিধিমালা ২০০৬ বাস্তবায়নে বিআরটিএ, পুলিশ, সিটি করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্টদেব নিয়ে কাজ করার কথা জানায় পরিবেশ অধিদফতর।

জানা গেছে, শব্দ যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হলেও উচ্চমাত্রার সেই শব্দই বিরক্তি ও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহরগুলোতে শব্দের মাত্রা ভয়াবহ দূষণের পর্যায়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঘোষিত মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর মাত্রা ৮০ ডেসিবলের অনেক ওপরে ঢাকা শহরের শব্দের মাত্রা। শহরে শব্দ দূষণের প্রধান মাধ্যম যানবাহনের হর্ন। আগে যাওয়ার প্রচেষ্টায় অকারণে হর্ন বাজাতে থাকেন চালকরা। শহরের রাস্তায় নামলেই অনবরত হর্নের শব্দে কান ঝালাপালা হচ্ছে নাগরিকদের। কমে যাচ্ছে শ্রবণ ক্ষমতা। কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও শিকার হচ্ছেন এই নীরব ঘাতকের।

"