ঈদে দুর্ঘটনামুক্ত সড়কের দাবি

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর সারা দেশে ঝুঁকিমুক্ত সড়ক পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার যে দাবি উঠেছিল, দীর্ঘ ছয় বছরেও তা পূরণ হয়নি। সরকার নানা পদক্ষেপ নিলেও সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারেনি। এ কারণে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য প্রাণহানি ঘটছে।

গতকাল শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক মিশুক মুনীরের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। এ সময় তারা আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় যাত্রী হয়রানি বন্ধ ও দুর্ঘটনামুক্ত সড়কের নিশ্চয়তা দেওয়ার দাবি জানান।

নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে। অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন জাতীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল, সেকেন্দার হায়াত, পুষ্পেন রায় ও জসি সিকদার। এ সময় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তৃতায় আশীষ কুমার দে বলেন, দুর্ঘটনা কমানোসহ একটি পরিবেশসম্মত জনবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্ট সব মহলকে নিয়ে জাতীয় সংলাপ ডাকার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।

মুর্শিকুল ইসলাম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা শুধু অকালে বহু মানুষের প্রাণই কেড়ে নিচ্ছে না; জাতীয় অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাবও ফেলছে। একইভাবে দুঃসহ যানজটের কারণে প্রতিদিন বহু কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। ফলে সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, দুর্ঘটনা ও যানজট কমাতে হলে সড়ক পরিবহন খাতকে ঢেলে সাজাতে হবে।

সেকেন্দার হায়াৎ বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহায় ঘরমুখী সাধারণ মানুষের নির্বিঘেœ যাতায়াত নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে এখন থেকেই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সেকেন্দার হায়াৎ বলেন, শুধু সড়কের নিরাপত্তা দিলেই হবে না, গণমানুষের নিরাপদ যাতায়াতের স্বার্থে নৌ ও রেলপথের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।

২০১১ সালের ১৩ আগস্ট দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের জোকা এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক আশফাক মুনীরসহ (মিশুক মুনীর) পাঁচজন নিহত এবং আরো কয়েকজন আহত হন।

"