জলজট নিরসনে ড্রেনেজ বিভাগকে সিটির কাছে হস্তান্তরের দাবি

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা ওয়াসার ড্রেনেজ বিভাগকে সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন। এর জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কারিগরি সহায়তাসহ কারিগরি, লোকবল এবং বাজেটের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের হাতে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় উদ্যোগী ভূমিকা নিতে পারে বলে সংগঠনটি মনে করে। ‘বারংবার জলজটে জনদুর্ভোগ : প্রতিকারের উপায় কী?’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক ও নগরায়ণ-সুশাসন কমিটির সদস্যসচিব স্থপতি ইকবাল হাবিব এ দাবি জানান। গতকাল বুধবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির গোলটেবিল মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ইকবাল হাবিব বলেন, সিটি করপোরেশন একটি নির্বাচিত ও জবাবদিহিমূলক সরকারি ব্যবস্থা। এ কারণে সিটি করপোরেশনকে মূল দায়িত্ব দিয়ে সময়নির্ভর ও সমন্বিতভাবে ড্রেনেজ ও পানি নিষ্কাশনের মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।

এই স্থপতি বলেন, ‘সকলের চোখের সামনেই ২৫ বছর ধরে প্রাকৃতিক খালকে কালভার্ট বানানোর মহোৎসব চলেছে। আজ ওয়াসা বলছে, জলাবদ্ধতায় তাদের কোনো দায় নেই। কিন্তু বাপার পক্ষ থেকে সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই, ১৯৮৮ সালে যখন বন্যা হয়, তখন বিদেশি বিনিয়োগে বাংলাদেশ সয়লাব হয়ে যায়। সেই টাকার প্রতি আকর্ষণে জনস্বার্থ প্রকৌশল অধিদফতর এবং পৌর করপোরেশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থায় ওয়াসা হাত দেয়। এরপর এই টাকাগুলো খাওয়ার জন্য ওয়াসা ড্রেনেজ ডিভিশন নামের একটি ডিভিশন করে। সে সময় ঢাকা শহরের পান্থপথ খালসহ প্রচুর খাল কালভার্ট সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে বিনিয়োগের মহোৎসব করেছে। আজ তারা বলছে, এ দায় আমার নয়। ওয়াসা বলছে, এর নামের মধ্যে তো ড্রেনেজ নেই। এই প্রতারণা আমরা গ্রহণ করতে রাজি নই।’

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১৯৯৫ সালে প্রণীত ও গৃহীত ঢাকা মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যানের অধীনে মূল কাঠামো পরিকল্পনা ও স্বল্পমেয়াদি অঞ্চল পরিকল্পনা নীতিমালায় সুস্পষ্টভাবে ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) করা পর্যন্ত প্লাবনভূমি সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। তবে এর কার্যক্রম গ্রহণ করার ক্ষেত্রে রাজউকের দীর্ঘমেয়াদি উদাসীনতা এবং ব্যবসায়ী কার্যক্রমের প্রতি গভীর মনোযোগ এবং পর্যাপ্ত লোকবল ও কারিগরি দক্ষ লোকের অভাবের যুক্তি দিয়ে এগুলো ‘উপহার’ হিসেবে ভূমিদস্যুদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ২০১০ সালে ড্যাপ পাস হয়। যেদিন এটা পাস হয়, সেদিন এর গলা চেপে ধরা হয়। যাতে এই প্লাবনভূমিগুলো উদ্ধার করা না যায়।

সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আকতার মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনায় সমস্যা নেই, সমস্যা আছে তা বাস্তবায়নে। গত ১০-১৫ বছরের মধ্যে বৃহত্তর ড্রেনেজ মহাপরিকল্পনার বড় ধরনের কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি। জলজট দূর করতে হলে শহরে যে বৃষ্টি পড়ে, তা পড়া থেকে শুরু করে নদীতে যাওয়া পর্যন্ত পথের কোথাও কোনো জায়গায় বাধা রাখা যাবে না।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সমন্বয়হীনভাবে কাজ করার কারণে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। এর জন্য টাকা খরচ হচ্ছে জনগণেরই। ব্যক্তিমানুষকেও আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত রাখতে নগরের কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে হবে। জনগণকে পাশে নিয়ে সরকারকে সব প্রকল্পের মধ্যে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন।

"