নৃ-গোষ্ঠীকে ‘আদিবাসী’ হিসেবে স্বীকৃতি দাবি

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীকে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের কর্মসূচির বক্তারা। জাতিসংঘ ঘোষিত এই দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন না করায় সরকারের সমালোচনাও করেছেন তারা। গতকাল বুধবার রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত হয়।

কর্মসূচিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা রাজা দেবাশীষ রায় নিজেদের আদিবাসী স্বীকৃতি এখনো না পাওয়ার খেদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘সরকার কবে স্বীকৃতি দেবে, তার আশায় বসে থাকলে চলবে না। অধিকার রক্ষায় আদিবাসীদের একতাবদ্ধ হতে হবে, লড়াই করতে হবে। সাংবিধানিক উপায়ে, আইনি পন্থায় সে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।’

পাহাড় ও সমতলে বসবাসরত বিভিন্ন জাতিসত্তার অধিকার হরণ, নির্যাতন ও লাঞ্ছনার দায়ে অভিযুক্তদের আগামীতে ভোট না দিতে অনুরোধ জানান বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত। সমাবেশে আসা চাকমা, ওঁরাও, ম্রো, কাচালং, ত্রিপুরা, গারো, লামা ও হাজং জনগোষ্ঠীর সংগঠনগুলোর সদস্যরা সমস্বরে তাকে সমর্থন জানান।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধক লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘আমি বৈচিত্র্যে সৌন্দর্য খুঁজে বেড়াই। কিন্তু বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবন যাদের, সেই আদিবাসীদের সংখ্যা দিন দিন কমে আসছে।’

লেখক ও কলামনিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘জাতিসংঘের ঘোষণার পরও বাংলাদেশে দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্যাপিত না হওয়া ভীষণ লজ্জার।’ আদিবাসী বিষয়ক ঘোষণাপত্রে আদিবাসীদের মৌলিক অধিকার, আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার, ভূমি, অঞ্চল বা টেরিটরি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর পূর্ণ অধিকার, ভূমির ওপর ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ, আদিবাসীদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন, শিক্ষাসহ নিজস্ব ভাষা ও জীবনধারা সংরক্ষণের স্বীকৃতি দেয় জাতিসংঘ।

কর্মসূচির প্রধান অতিথি সরকারের মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন তাদের আদিবাসী স্বীকৃতি পাওয়ার দাবির প্রতি সমর্থন জানান। তিনি বলেন, ‘আদিবাসীদের অধিকারের বিষয়টি সংবিধানে বিক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন হয়েছে। সেই সঙ্গে পার্বত্য শান্তি চুক্তি পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন এখনো হয়নি।’

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর যে অন্যায়, অত্যাচার, নিপীড়নের মনোভাব, তা পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর মতো। এক জাতি আরেক জাতির অধিকার খর্ব করে মূলত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে।’

বাংলাদেশে বসবাসরত বিভিন্ন জাতিসত্তার মানুষদের বাদ দিয়ে কাক্সিক্ষত উন্নয়ন বা এসডিজি গোল অর্জন করা ‘যাবে না’ বলে মত প্রকাশ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।

আদিবাসী ফোরামের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমার (সন্তু লারমা) সভাপতিত্বে এই সমাবেশে নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন, আদিবাসী নারীনেত্রী সারা মারান্ডি উপস্থিত ছিলেন। বেলা ২টায় মূল অনুষ্ঠান শেষে একটি শোভাযাত্রা বের হয়। শহীদ মিনার থেকে দোয়েল চত্বর, বাংলা একাডেমি, টিএসসি ঘুরে আবার শহীদ মিনারে ফিরে শেষ হয় শোভাযাত্রাটি।

"