ঢাবিতে সম্প্রীতির বন্ধন

প্রকাশ : ১৭ জুন ২০১৭, ০০:০০

ইমরান হোসেন

ইফতারের আগ মুহূর্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ঘুরে শিক্ষার্থীদের ইফতার আয়োজনের মনোরম দৃশ্য চোখে পড়ে। টিএসসিজুড়ে ছোট ছোট দলে গোল হয়ে বসে আছেন শিক্ষার্থীরা। প্রতিটি দলে কমপক্ষে ৫-১০ জন শিক্ষার্থী, কোনো দলে আরো বেশি। সবার সামনে নানা পদের বাহারি ইফতার। ছোলা, পিয়াজু, মুড়ি, খেজুর, আলুর চপ, ডিমের চপ, বেগুনি, জিলাপি, দই, বুরিন্দা, ফলের জুস, লেবুর শরবত ও মৌসুমি ফল। রয়েছে পুরান ঢাকার শাহী বিরিয়ানি ও কাবাব। কয়েকজন ছাত্রীকেও দেখা গেল হল থেকে বিভিন্ন খাবার রান্না করে এনেছেন বন্ধুদের জন্য।

পরিবার-আত্মীয়স্বজন ছেড়ে পবিত্র রমজান মাসে ক্যাম্পাসে থাকতে কেমন লাগে জানতে চাইলে পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শিমুল শাহরিয়ার বলেন, ‘এসময় পরিবারকে ছাড়া ইফতারি করা অবশ্যই কষ্টদায়ক। বাধ্য হয়েই আমরা ছুটি থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় বাসায় যেতে পারি না। তবে যখন হলের বন্ধু, সিনিয়র-জুনিয়র মিলে একত্রে ইফতারি করি, তখন এটাকেও একটা পরিবারের মতো মনে হয়। যে কারণে পরিবার থেকে দূরে থাকলেও এখন আর তত বেশি খারাপ লাগে না।’ নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জহির বলেন, ‘রমজান আমাদের ত্যাগ-মহিমা আর সম্প্রীতির শিক্ষা দেয়। সারা দিন রোজা থেকে আমরা যেমন ত্যাগের মহিমা উপলব্ধি করতে পারি আবার সকলে একত্রে ইফতারি করার মধ্যে দিয়ে সম্প্রীতির শিক্ষাও লাভ করি।’

আইন বিভাগের ছাত্র অপু বলেন, হলের ও বিভাগের বন্ধু, ঢাকায় বসবাসরত এলাকার বন্ধু মিলে প্রায় দিনই ইফতার করা হয়। ফলে সম্প্রীতির বন্ধনটা খুবই নিবিড় হয়।

ইফতার ঘিরে উৎসবের আমেজ দেখা যায় টিএসসি, মল চত্বর, হাকিম চত্বর, কার্জন হলের সবুজ এলাকা, ভিসি চত্বর, অপরাজেয় বাংলা, বটতলা, আইবিএ ভবনের সামনের খোলা জায়গা, মধুর ক্যান্টিন, ডাকসু ক্যান্টিন ও চারুকলার ক্যাম্পাসে। এ ছাড়া এসএম হল, এফ রহমান হল, হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হল, শহীদুল্লাহ হল, জিয়াউর রহমান হল, জসীমউদ্দীন হল, বঙ্গবন্ধু হল, সূর্যসেন হল, শামসুন্নাহার হল, রোকেয়া হল, কুয়েত-মৈত্রী হলসহ ক্যাম্পাসের প্রতিটি সবুজ চত্বরেও ইফতারির আয়োজন করা হয়। ইফতার মহিমান্বিত ও অসাম্প্রদায়িক করতে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী বন্ধুদের নিয়ে ইফতার করেন শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী দীপক চন্দ্র রায় বলেন, ‘প্রতি বছরই বন্ধুদের সঙ্গে একাধিক ইফতারিতে অংশ নিই। আসলে আমরা কে কোন ধর্মের, সেটি বড় বিষয় না। সবাই যে একসঙ্গে ইফতার করছি, সেটাই আমার কাছে মুখ্য।’

"