দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে : নৌ-প্রতিমন্ত্রী

বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবি

প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২০, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবির ঘটনায় দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। ঘটনায় তদন্ত কমিটি নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিবেদন জমা দেবে বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মীদের করোনা চিকিৎসার জন্য ৬০ শয্যার বিশেষায়িত ইউনিট ও নতুন হাসপাতাল ভবনের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের লাইফ লাইন। চট্টগ্রামের মানুষের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা আছে। করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) চিকিৎসায় সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে চট্টগ্রামবাসীর পাশে থাকবে চট্টগ্রাম বন্দর। নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্দরের সঙ্গে জড়িতদের সাহসী পদক্ষেপের কারণে করোনাকালে অপারেশন এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ হয়নি। কোভিড-১৯ এর জন্য পৃথিবীর কোনো দেশ প্রস্তুত ছিল না। উন্নত দেশেও স্বাস্থ্যসেবা থমকে গেছে। বাংলাদেশের মানুষের সাহসিকতা ও সরকারের সাহসী ব্যবস্থাপনা ছিল। দশ বছরে চট্টগ্রাম বন্দর বিশ্বের সেরা ১০০ কনটেইনার হ্যান্ডলিংকারী বন্দরের তালিকায় ৬৪তম অবস্থানে এসেছে। আমরা চাই ৩০-৫০তম অবস্থানের মধ্যে চলে আসতে। চট্টগ্রাম বন্দরের আওতায় মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, বে-টার্মিনাল, পিসিটিসহ অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তাই বন্দরের জন্য শুধু উদ্ধারকারী জাহাজ নয়, হেলিকপ্টার কেনারও পরিকল্পনা রয়েছে। উদ্বোধনকালে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম আবুল কালাম আজাদ বলেন, বন্দরে হাজারো লোকের আনাগোনা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বন্দরের লোকজন স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করেছেন। কিছু সহকর্মী করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছেন তারা। এক মুহূর্তও বন্ধ ছিল না অপারেশন কাজ। স্টেক হোল্ডাররা সহযোগিতা করেছেন। দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করছি, আমরা লক্ষ্য থেকে একচুলও পিছপা হব না। হাসপাতাল সম্পকে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, বন্দর হাসপাতালে ৫০ শয্যার করোনা ইউনিটে ১৩ জন চিকিৎসক, ৩৬ জন নার্সসহ ১৫৯ জন নিয়োগ দিয়েছি। তারা সেবা দেওয়ার জন্য এখানে এগিয়ে এসেছেন। বিএসসি, মেরিন একাডেমি, এনএমআইর প্রয়োজনে স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারব। আমাদের লোকজনকে আমরা সেবা দিতে পারলে নগরের হাসপাতালে ভিড় কমবে, নগরবাসী উপকৃত হবেন। এ সময় বন্দরের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলম, পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম, বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক, প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তাসহ বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গ, এক লাখ বর্গফুটের ৬ তলা ভিত্তির ৪ তলা করে ৫টি ব্লক ১৫০ শয্যার হাসপাতাল করা হয়েছে। প্রতি ব্লকের জন্য আলাদা গেট তৈরি করা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসকের আলাদা কক্ষ, রোগীদের আলাদা ওয়ার্ড ও অপারেশন থিয়েটারও রয়েছে। সি ও ই ব্লকে করোনা ইউনিট ও আইসোলেশন সেন্টার করা হয়েছে। ২৫ শয্যায় হাই-ফ্লো অক্সিজেন সিস্টেম রাখা হয়েছে। আইসিইউ চালুর কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

"