কয়েকজন তরুণের ভাবনা-সময়ের গল্প

প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্তমানের করোনাসংকটের সময় সরকারের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তর থেকেই সামর্থ্য অনুযায়ী নানা উদ্যোগের দেখা মিলছে আর্তমানবতার সেবার। তেমনই একটি সংগঠন সময় ফাউন্ডেশন তাদের ব্যতিক্রমধর্মী ও সময়োপযোগী বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে ইতোমধ্যে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। আজকের গল্প এ সময় ফাউন্ডেশনের একদল তরুণ নিয়েই।

অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সাইদ বলেছিলেন, ‘মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়’। আজকের সময় ফাউন্ডেশনের তরুণরা সমাজসেবার এ রকম প্ল্যাটফরমের স্বপ্ন দেখেছিলেন আজ থেকে এক যুগ আগে। ভাবনাটা প্রথমে আসে দুজন তরুণ আজকের সভাপতি ইমরান চৌধুরী এবং পরিচালক রেজওয়ান শাহনেওয়াজ সুজিতের মাথা থেকে। শুরুর গল্পটা জানতে চাইলে ফাউন্ডেশনের পরিচালক সুজিত বলেন, ২০০৯ সালে ঢাকার অওটই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় আইলার আঘাতে বিধ্বস্ত মানুষজনদের সাহায্য করার জন্য তাদের বন্ধুমহল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই মিলে অর্থ সাহায্য তুলে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সরাসরি জরুরি সাহায্য বিতরণের মাধ্যমে তাদের শুরু। এরপর মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা সময় ক্লাব নামে একটি সংগঠনই গড়ে তুলেন নানাবিধ সমাজসেবা করার প্রত্যয়ে। তারপর থেকে সংগঠনটি গরিব-দুঃখীদরে মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, রোজার মাসে ইফতার, ঈদের কাপড় এবং বিনামূল্যে দাঁত ও চোখের চিকিৎসা দিয়ে আসছিল। সময়ের পরিক্রমায় বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পাঠ চুকালেও তারা সরে আসেনি মানবসেবার সেই শপথ থেকে। বরঞ্চ উপার্জনের একটি অংশ দিয়ে চাকরির পাশাপাশি প্রতিনিয়ত সমাজসেবা করার চিন্তাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবার তারা গড়ে তুললেন সময় ফাউন্ডেশন। সময়টা তখন ২০১৮। প্রতিষ্ঠালগ্নের শুরু থেকে ধারাবাহিকভাবে সময় ফাউন্ডেশন রোজার মাসে এতিম এবং পথশিশুদের মাঝে ইফতার ও ঈদ উপহার বিতরণ, অবৈতনিক স্কুল, গরিব-দুঃখীদের ও অসহায়দের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে নিভৃতেই কোনোরূপ প্রচারের আলো ছাড়াই। কিন্তু সাম্প্রতিক করোনা দুর্যোগে সময় ফাউন্ডেশনের সক্রিয় সদস্যদের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ নজর কেড়েছে সমাজের অনেকেরই। লকডাউনের একদম শুরু থেকেই সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমে তারা এখন পর্যন্ত ২০ হাজারের মতো মানুষের মাঝে বিতরণ করেছে রান্না করা খাবার। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী থেকে শুরু করে বস্তিবাসী কিংবা রাস্তার শ্রমজীবী মানুষ সবার কাছেই এ সময় ফাউন্ডেশনের কর্মীরা ছুটে গেছে খাবারের প্যাকেট নিয়ে। এ ছাড়াও ৩ হাজার পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জরুরি খাবারের প্যাকেট। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে চাইলে ফাউন্ডেশনের সভাপতি ইমরান জানান, জটিল পরিস্থিতির কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক থাকলেও পরবর্তীতে তারা এটিকে ছড়িয়ে নিয়ে গেছেন টাঙ্গাইল, চাঁদপুর, নরসিংদী, নাটোর, লালমনিরহাটসহ প্রায় ১৫টি জেলায়। শুধু খাদ্যসামগ্রী বিতরণেই তারা নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখেননি বরঞ্চ এই লকডাউন সময়টায় মানুষজন যাতে ঘরে বসেই জরুরি চিকিৎসা পরামর্শ পেতে পারে; সেজন্য তারা চালু করেছেন সময় টেলিসেবা নামে আরেকটি উদ্যোগ। ১৯ জন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত এই উদ্যোগ থেকে যে কেউ সেবা নিতে পারছেন একদম বিনামূল্যে। এজন্য একটি ডেডিকেটেড হটলাইন নাম্বার চালুর কথাও জানান সভাপতি ইমরান।

‘ঈদের আনন্দ ছড়াই, খুশি বাড়াই’Ñ এই মন্ত্র নিয়ে করোনা মহামারির সময়েও কিছু অসহায় মানুষের মাঝে উৎসবের বার্তা পৌঁছে দিতে ঈদের দিন ১১০০ মানুষের মাঝে মুখরোচক খাবার ও পথশিশুদের মাঝে কাপড় বিতরণ করেছে সময় ফাউন্ডেশন।

 

"