মাসখানেক ধরে বন্ধ রামেকের করোনা ল্যাব

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২০, ০০:০০

বিশেষ প্রতিবেদক, রাজশাহী

মাসখানেক ধরেই ঠিকমতো কাজ করছে না রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) করোনা ল্যাব। সেই ল্যাবে পরীক্ষা করতে গিয়ে নষ্ট হচ্ছে রিএজেন্ট। এদিকে, ব্যাপক হারে নমুনা আসছে পরীক্ষার জন্য। ল্যাবে পরীক্ষা করতে না পেরে জট কমাতে প্রায় আড়াই হাজার নমুনা পাঠানো হয়েছে ঢাকায়। এই ল্যাবে পরীক্ষার পরও প্রায় সাড়ে তিনশ নমুনার কোনো রেজাল্টই পাওয়া যায়নি। আর সাড়ে চার হাজারেরও বেশি নমুনা পরীক্ষার পর পজিটিভি এসেছে মাত্র ৯৪টি।

পয়লা এপ্রিল দেশের তৃতীয় করোনা ল্যাব চালু হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগে। মাসখানেক না যেতেই দেখা দেয় নানা বিপত্তি। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন জেলা থেকে ৮ হাজার ১০০টি নমুনা এলেও পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৬৫৬টির। ল্যাবের ত্রুটির কারণে রিপোর্ট দেওয়া যায় নি ৩৪১টির। দিন দিন নমুনা বাড়তে থাকায় জট কমাতে ঢাকায় পাঠানো হয় প্রায় আড়াই হাজার নমুনা।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সাবেরা গুলনাহার জানান, শুরুদিকে ভালই চলছিল ল্যাব। কিন্তু মাসখানেক থেকে নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে প্রায় প্রতিদিনই অর্ধেক নমুনার রেজাল্ট ইনভ্যালিড আসে। তখন ওই নমুনাগুলো আবারো পরীক্ষা করতে হয়। এভাবে প্রতিটি নমুনার জন্যই রিএজেন্ট লাগে একটি করে। ফলে কোনো নমুনার ইনভ্যালিড হলে তার রিএজেন্টও বাতিল হয়ে যায়। এতে সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন ব্যক্তির নমুনার রেজাল্ট দেওয়া যায়নি।

এতোদিন কোনো রকমে কাজ চললেও গত শনিবার ও রোববার পুরোপুরি বন্ধ ছিল করোনা ল্যাব। এরই মধ্যে রিয়েল টাইম পিসিআর মেশিন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ইঞ্জিনিয়াররা এসে পৌঁছেছেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর পরীক্ষামূলকভাবে ল্যাবটি চালু হয়েছে গত সোমবার। এরপরও আশ্বস্ত হতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী বলেন, দেশে প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বাড়ছে মৃত্যু। ঈদের পর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী হঠাৎ করেই দ্বিগুণ হয়েছে। এ অবস্থায় বেশি বেশি নমুনা টেস্টের প্রয়োজন। বিশেষ করে, চলতি মাসের মাঝামাঝিতে কাজের চাপ আরো বাড়বে। এমন পরিস্থিতির মুখেরও আমরা ল্যাবের সমস্যার কারণে নিয়মিত টেস্ট করতে পারছি না। ইঞ্জিনিয়াররা সফটওয়্যারের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তারা দুদিন ধরে কাজ করছেন। তবে এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না কী হবে!।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় ল্যাবে পরীক্ষার কাজে জড়িত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান, গতকাল সোমবার পরীক্ষামূলকভাবে মেশিন রান করানো হয়েছিল। আজকে আবারো নমুনা মেশিনে নিয়ে ইঞ্জিনিয়াররা বসেছেন। এখন দেখা যাক কী হয়। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় সোমবার পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ৯১৭ ব্যক্তির। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী বগুড়ায়-৩৫৭জন। আর এই বিভাগে করোনায় মারা গেছে ৬জন।

 

"