চট্টগ্রামে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সর্বাত্মক প্রস্তুতি

প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২০, ০০:০০

মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামে দু-এক দিনের মধ্যে করোনা শনাক্তের কিট আসবে। ডাক্তারদের জন্য পিপিই এরই মধ্যে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের পিপিইসহ নিরাপত্তা সরঞ্জাম দেওয়া হচ্ছে। আরো সরঞ্জাম আসছে। এলে সেগুলোও দেওয়া হবে। তা ছাড়া, পাঁচ থেকে সাতজনের বেশি জড়ো হওয়া ঠেকাতে সেনাবাহিনীর সদস্যরা সিভিল প্রশাসনের সঙ্গে মাঠে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. ইলিয়াস হোসেন।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে বিভাগীয় কমিশনার এ বি এম আজাদের সভাপতিত্বে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে প্রশাসন ও সশস্ত্রবাহিনীর কর্মপদ্ধতি নির্ধারণে অনুষ্ঠিত সভা শেষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক এসব তথ্য জানান। সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জন সাহা, বিভাগীয় পরিচালক স্বাস্থ্য ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীরসহ সংশ্লিষ্ট কমিটির কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য পাঁচটি ভেন্যু ঠিক করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে, সিআরবির চট্টগ্রাম রেলওয়ে হাসপাতাল, হালিশহরের পিএইচ আমিন উচ্চবিদ্যালয়, বহদ্দারহাটের সিডিএ গার্লস স্কুল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ ফজিলাতুন্নেছা হল এবং পটিয়ার মোজাফফরাবাদ স্কুলকে আমরা প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন হিসেবে তৈরি রাখা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, কোনো জায়গায় অধিক লোক যাতে জড়ো হতে না পারে, পাঁচ থেকে সাতজনের বেশি লোক যাতে জড়ো না হয় এবং জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া লোকজন যাতে নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে চলাফেরা করে- সেটা নিশ্চিত করবে সেনাবাহিনী।

মো. ইলিয়াস হোসেন জানান, ইন অ্যাইড টু সিভিল পাওয়ার অনুসারে সেনাবাহিনী যে কাজগুলো করবে, সেই কর্মপরিকল্পনা সভায় আমরা ঠিক করেছি। হোম কোয়ারেন্টাইনে যারা আছেন, সেখানে অনেকেই কোয়ারেন্টাইন মানছে না। আমরা মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা দিয়েছি অনেককে। এরপরেও অনেকে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

সব প্রবাসীদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীকে সরকার মাঠে নামিয়েছে। এখানেও (চট্টগ্রামে) সেনাবাহিনী সেটা করবে। পাশাপাশি আমাদের সিভিল প্রশাসনকে তারা সব ধরনের সহায়তা দেবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, চট্টগ্রামে আমাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে ৯৭৩ জন। এ সংখ্যা গত ৩ দিন ধরে একই অবস্থায় আছে। এটা আমাদের জন্য একটা পজিটিভ দিক। নতুন করে কোনো প্রবাসী আমাদের এখানে আসেনি। আমাদের এখানে আইসোলেশনেও কোনো রোগী নেই। তবে যদি আইসোলেশনের দরকার হয়- তিনটি হাসপাতাল আমরা তৈরি রেখেছি।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আমরা ফ্লু কর্নার ওপেন করেছি। জেনারেল হাসপাতালেও ফ্লু কর্নার ওপেন করা হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে কমপক্ষে দুটি আইসিইউ বেড করোনা রোগীর জন্য রাখতে বলা হয়েছে। দুই-একটি বেসরকারি হাসপাতালকে পুরোপুরি করোনা বেইজড করতে আমরা কাজ করছি।

জেলা প্রশাসক বলেন, উপজেলা পর্যায়ে কোনো রোগীর উপসর্গ দেখা দিলে তিনি প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাবেন। ডাক্তার যদি তাকে নমুনা সংগ্রহ করতে বলেন, বা তাকে আইসোলেশনে পাঠানোর প্রয়োজন মনে করেন- তাহলে ১০টি অ্যাম্বুলেন্স আমাদের প্রস্তুত রয়েছে। সেই অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ তাকে হাসপাতালের আইসোলেশনে নিয়ে আসবে। সেখানে তার চিকিৎসা হবে।

এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও মোকাবেলায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সদস্য সচিব চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, তিনি মঙ্গলবার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এবং সরকার গৃহীত করোনা প্রতিরোধ সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলো যাতে দ্রুত কার্যকর করা যায় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাই তৎপর রয়েছেন জানান। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একজন হেলথ অফিসার নিয়োজিত সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছেন। তিনি বলেন, গত ৩১ জানুয়ারি থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্ক্রিনিং কার্যক্রম শুরু করা হয়। এ পর্যন্ত ৭ হাজার ১৭২ জন নাবিকের জ্বর পরীক্ষা এবং করোনার লক্ষণ বা উপসর্গ ছিল কিনা কেস হিস্ট্রি নিয়েছি। গত সোমবার আগের ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষা করেছি ১৪৯ জনের। তিনি বলেন, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত দুই দিন কোনো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট আসেনি। তাই কোনো যাত্রীকে পরীক্ষাও করা হয়নি। এর আগে শাহ আমানত বিমানবন্দরে আমরা ৫২ হাজার ১১৩ জন বিদেশ থেকে আসা যাত্রীর তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হয়েছে।

 

"