পুলিশের প্রশ্ন

চোর এ পিস্তল কীভাবে পেল?

প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

চোর ধরতে গিয়ে চোরের ঘর থেকে ৭ দশমিক ৬ বোরের একটি বিদেশি পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলি পেয়েছে পুলিশ। ঊর্ধ্বতন এক পুলিশ কর্মকর্তা বলছেন, পিস্তলটি সাধারণত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবহার করে থাকে। তার কাছে এ পিস্তল কোথা থেকে এলো, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া ওই চোরের ঘর থেকে চুরির এত পরিমাণ মালামাল উদ্ধার করেছে যে, পুলিশ তা দেখে তাজ্জব হয়ে গেছে। গ্রেফতার হওয়া চোরের নাম মোহাম্মদ সোহান। গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

ডিসি সুদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে অজ্ঞাতনামা চোর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন মানিকদি এলাকার আমিনুল ইসলামের বাসায় দরজার তালা ভেঙে চুরি করে। তার বাসা থেকে ৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, এক জোড়া স্বর্ণের বালা, দুটি স্বর্ণের ব্রেসলেট, তিনটি স্বর্ণের গলার চেইন, দুটি গলার হার, তিন জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, ৮টি স্বর্ণের আংটি, যার ওজন ১০ ভরি হয়। এ ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা হয়। মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সোহানের যোগসাজশ পায় পুলিশ।

সুদীপ কুমার বলেন, গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহান জানায়, সে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে নিয়মিত ‘ক্রাইম পেট্রোল’ দেখে চুরির কাজে লিপ্ত হয়েছে। সেখান থেকে চুরির আধুনিক কলাকৌশল শিখেছে বলে তার ভাষ্য। সে দিনের বেলায় চুরি করা বেছে নিত। প্রথমে দারোয়ানের গতিবিধি লক্ষ্য করে সুযোগমতো বাসায় প্রবেশ করত। বাসায় দরজায় তালা থাকলে তা খোলার জন্য বিশেষ যন্ত্র রয়েছে তার কাছে। পরে ভেতরে প্রবেশ করে চুরি শেষে সে বেরিয়ে যেত। তবে যেসব বাসায় সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো নেই, ওইসব বাসাকে মূলত টার্গেট করত চোর সোহান।

সোহানের বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া মালামালের মধ্যে একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, এক রাউন্ড গুলি, ৩০০ গ্রাম গাঁজা, নগদ ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা, তিনটি চাকু, একটি খুর, দুটি স্ক্রু ড্রাইভার, দুটি রেঞ্চ, পাঁচটি ঘড়ি, চাবি ২২টি, তিনটি মানিব্যাগ, টর্চলাইট, স্বর্ণালঙ্কার, ইমিটেশন ও বেশ কয়েকটি হাতলযুক্ত ব্যাগ রয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে ডিসি বলেন, ‘তার কাছ থেকে যে বিদেশি পিস্তল পাওয়া গেছে, সেটা মূলত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবহার করে থাকে। এ ছাড়া অন্য কারো এই অস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ নেই। এই অস্ত্র সে কোথায় পেয়েছে তা বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদে জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে সে জানিয়েছে, এক লোকের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বিদেশি পিস্তলটি কিনেছে। কেনার পর সে এখনো ওই পিস্তলটি ব্যবহার বা প্রদর্শন করেনি বলে দাবি করেছে।

 

"