মেধা মননে এগোচ্ছে ময়মনসিংহ শিশু পরিবারের মেয়েরা

প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০

শেখ মো. ফুয়াদ, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ শিশু পরিবার বা সদনের জন্মলগ্ন শুরু হয়েছিল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের পরপরই। ১৯৭২ সালে মুক্তিযুদ্ধে আহত বা নিহত পিতৃ-মাতৃহীন এতিম শিশুদের সুরক্ষা ভরণ-পোষণের জন্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে সদরের দুটি শিশু পরিবারসহ মোট ৮৫টি শিশু পরিবার সারা দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। জানা যায়, এসব শিশু পরিবারে পরিবার বিচ্ছিন্ন পিতৃ-মাতৃহীন শিশু বা সন্তানদের এখানে সরকারি উদ্যোগে খুঁজে বের করে নিয়ে আসা হতো। এরপর তাদের পরিচর্যা তথা নিরাপত্তা, শিক্ষা, ভরণ-পোষণ, স্বাস্থ্যসুবিধা, খেলাধুলা, কম্পিউটার প্রশিক্ষণসহ আরো বহুবিধ সুবিধা এই এতিমদের প্রদান করা হতো। মূলত পিতৃহীন শিশুদেরই এই পরিবারে আনা হতো। সরকারি খরচে তার ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত সব ধরনের সুবিধা বিনামূল্যে ভোগ করতো। বিশেষ করে তাদের উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়া হতো। তাদের চারবেলা খাবার, পোশাক, চিকিৎসা, খেলাধুলা, বইপড়া, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ বিতর্ক ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতাসহ সব ক্ষেত্রে তাদের অগ্রাধিকা দেওয়া হতো। ময়মনসিংহ বালিকা শিশু পরিবারের অন্তত পাঁচজন মেয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ জেলার বিভিন্ন কলেজ, টিটি কলেজ, টিটিসি ইত্যাদিতে তারা পড়াশোনা করছে। তাদের কেউ কেউ এলএলবি ক্লাসে ভর্তি হয়েছে। আকুয়া চৌরঙ্গী মোড়ে সরকারি শিশু পরিবারের বালিকা পঞ্চমতলা ভবনে প্রায় ১৮০ জন শিশুকে একটি করে বেড বা বিছানা দিয়ে তাদের রাখা হয়েছে। এই পরিবারের উপ-তত্ত্বাবধায়ক নাজনীন নাহার বলেন, আমাদের মেয়েরা ময়মনসিংহ বিভাগীয় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন পুরস্কার, জেলা প্রশাসন আয়োজিত বিজয় দিবস-২০১৯ কুচ-কাওয়াজ ও ডিসপ্লেতে প্রথম পুরস্কার, জাতীয় সমাজসেবা দিবস-২০১৮-তে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয় পুরস্কার পায়। তিনি বলেন, এ প্রতিষ্ঠান থেকে মন্ত্রণালয়ে বৃত্তিপ্রাপ্ত হয়ে তিনজন এসএসসিতে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও ল’ কলেজে আমাদের ১৮’ উত্তীর্ণ মেয়েরা এখন পড়াশোনা করছেন। জেলা সমাজসেবা উপপরিচালক আবু আবদুল্লাহ মো. ওয়ালিউল্লাহ জানান, আমি যোগদানের পর শিক্ষার সর্বোচ্চ মানোন্নয়নসহ অতি উন্নতমানের খাবার চার বেলা দিয়ে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, এখানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানতে ১০০-এর অধিক বই ও তথ্যচিত্র নিয়ে বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপন করা হয়েছে যাতে শিশুরা মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির জনক সম্পর্কে জানতে পারে। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে পরিবারগুলোতে লোডশেডিংকালে যেন বিদ্যুৎ থাকে তার জন্য আইপিএস স্থাপন করেছি উল্লেখ করে বলেন, এখানে ২৪ ঘণ্টা পরিবীক্ষণের জন্য ডাইনিংয়ে খাবার পরিবেশনকালে লেখাপড়ার স্থানে, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সিসি টিভি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। আমরা জাতির জনকের অঙ্গীকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এগুলো করেছি।

তিনি আরোবলেন, শিশুদের যে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে তা অব্যাহত থাকবে এবং আমি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ও আমাদের পরিচালকের নির্দেশে দুটি এতিম শিশু পরিবারকে যেভাবে আগামী দিনে জাতির জনকের বাংলাদেশ গড়তে হয় সেভাবেই এগিয়ে নিয়ে যাব এবং আমি এই পরিবার থেকে উপকারভোগী এতিম মেয়েদের ইনশাআল্লাহ। কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে।

 

"