সাইবার অপরাধ ঠেকাতে পুলিশের হিমশিম

প্রকাশ | ২৪ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

সহজ লভ্যতার কারণে একদিকে যেমন বেড়ে চলছে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা; তেমনি পাল্লা দিয়ে বেড়েই চলছে সাইবার অপরাধ। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুককেন্দ্রিক অপরাধের সংখ্যা বাড়ছে বেশি। ফেসবুক আইডি হ্যাকের শিকার হচ্ছেন অনেকেই। এ ছাড়া ই-মেইল আইডি হ্যাক, ফেক আইডি তৈরি করে ব্ল্যাকমেইল করা, সেক্সটোরেশন, মোবাইল ব্যাংকিং জালিয়াতি ও অন্যান্য হ্যারাসমেন্টের শিকার হচ্ছেন অনেকেই। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, তথ্যপ্রযুক্তিতে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করতে গিয়ে অনেকেই শখের বশে হ্যাকিং শিখছে। সেটি ভালো কাজে না লাগিয়ে ব্ল্যাকমেইলিং করে অর্থ আদায়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকান্ডেও জড়িয়ে পড়ছেন অনেকে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮ সালে তাদের কাছে সরাসরি ১ হাজার ৭৬৫টি অভিযোগ জমা পড়েছিল। এ ছাড়া হ্যালো সিটি অ্যাপস, ফেসবুক, মেইল ও হেল্পডেস্কের মাধ্যমে অভিযোগ এসেছে ৬ হাজার ৩০০টি। ২০১৯ সালে সরাসরি অভিযোগের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৩২টিতে। আর হ্যালো সিটি অ্যাপস, ফেসবুক, মেইল ও হেল্পডেস্কের মাধ্যমে অভিযোগ এসেছিল ৯ হাজার ২২৭টি। সাইবার ক্রাইম বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আগে সাইবার ক্রাইমবিষয়ক বেশি অভিযোগ আসত নারীদের কাছ থেকে। কিন্তু এখন সমান্তরালভাবে পুরুষরাও সাইবার ক্রাইমের শিকার হচ্ছেন।

২০১৯ সালে মোট অভিযোগের ৫৩ শতাংশ এসেছে পুরুষদের কাছ থেকে আর বাকি ৪৭ শতাংশ এসেছে নারীদের কাছ থেকে। সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের উপকমিশনার আ ফ ম আল কিবরিয়া বলেন, ‘অপরাধের প্যাটার্ন পরিবর্তন হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়বে, অপরাধের সংখ্যাও তত বাড়বে। তবে আমরা প্রতিনিয়ত সাইবার ক্রিমিনালদের নজরদারি করছি। অভিযোগ পেলেই আমরা তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ যদিও সাইবার ক্রাইমের শিকার হওয়া অনেকেই অসচেতনতার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল বা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে জানান তিনি।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা তিন কোটিরও বেশি। বেশির ভাগ লোকজনই ফেসবুকে নিজের আইডি খুললেও তা যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন না। ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে নিজেদের খোলামেলা ছবি বন্ধু বা প্রেমিক-প্রেমিকার কাছে আদান-প্রদান করে থাকেন। হ্যাকাররা সহজেই ওইসব আইডি হ্যাক করে খোলামেলা ছবিগুলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে থাকে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়েসসাইট হ্যাক করেও অর্থ আদায় করে হ্যাকাররা।

সাইবার ক্রাইম কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন সাইটের মধ্যে ফেসবুক সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। এ কারণে ফেসবুককেন্দ্রিক অপরাধের সংখ্যা বেশি। ২০১৯ সালে ঢাকার সাইবার ক্রাইম বিভাগে মোট ১২০১টি অভিযোগ এসেছে ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়া নিয়ে, যা মোট অভিযোগের ৪১ শতাংশ। তবে আইডি হ্যাকের ক্ষেত্রে নারীর চেয়ে পুরুষের অভিযোগ বেশি। এ বছর ৫০৫ জন নারী ও ৬৯৬ জন পুরুষ ফেসবুক আইডি হ্যাকিংয়ের অভিযোগ করেছেন। সাইবার ক্রাইম সূত্র জানিয়েছে, ফেইক আইডি, সেক্সটোরেশনের ক্ষেত্রে নারীরা শিকার হন বেশি। তবে মোবাইল ব্যাংকিং, ই-মেইল আইডি হ্যাকের ঘটনা পুরুষদের ক্ষেত্রে বেশি ঘটে।

সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহকারী পুলিশ কমিশনার ধ্রুব জ্যোতির্ময় গোপ বলেছেন, ‘হ্যাকিংয়ের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ‘ফিশিং অ্যাপ’ ব্যবহার করে হ্যাকাররা। এ কারণে অপরিচিতদের পাঠানো যেকোনো লিংকে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে বিরত থাকা এবং কোনোভাবেই পাসওয়ার্ড ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটগুলোও যথাযথ সাইবার নিরাপত্তার মাধ্যমে সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন সাইবার পুলিশ কর্মকর্তারা।

 

"