সিলেটের জিন্দাবাজার থেকে সরছে না পার্সেল সার্ভিস

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০

মহানগর (সিলেট) প্রতিনিধি

সিলেট নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা জিন্দাবাজার। এই এলাকার যানজট নিত্যদিনের সঙ্গী। সকাল ৮টা হোক বা রাত ৮টা, কখনোই এই এলাকা যানজটমুক্ত রাখা যায় না। তাই প্রায় চার বছর আগে সিলেট ট্রাফিক প্রশাসন জিন্দাবাজার এলাকার পার্সেল সার্ভিসের অফিসগুলো এখান থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সিলেট জেলা পার্সেল সমিতির সদস্যদের নিয়ে সভা করে তাদের প্রতিষ্ঠান জিন্দাবাজার এলাকা থেকে সরানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রায় তিন মাস আগে সভা করে আবারও একই নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু চার বছরে মাত্র একটি পার্সেল অফিস সরলেও এখনো সাতটি সেখানে রয়েছে বহাল তবিয়তে। ওইসব পার্সেল সার্ভিসের বড় বড় কার্গো ভ্যান অবাধেই জিন্দাবাজারে প্রবেশ করার কারণে তীব্র যানজট লেগেই থাকে।

জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে আবারও ট্রাফিক প্রশাসন সব পার্সেলের ম্যানেজার ও সিলেট জেলা পার্সেল সমিতির সদস্যদের নিয়ে ফের সভা করে। আবারও সিদ্ধান্ত হয় ২০২০ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে জিন্দাবাজার থেকে সব পার্সেল সার্ভিস সরানোর। সভায় সব পার্সেলের প্রতিনিধিরা ট্রাফিক প্রশাসনের সিদ্ধান্তে সম্মতি প্রকাশ করলেও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেই। এমনকি ট্রাফিক প্রশাসনও পালন করছে নীরব ভূমিকা।

সিলেট জেলা পার্সেল সমিতি সূত্রে জানা যায়, সিলেট জেলা পার্সেল সমিতির সদস্য হিসেবে আছে আটটি পার্সেল সার্ভিস। সুন্দরবন পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিস, বাংলাদেশ পার্সেল সার্ভিস, রেইনবো পার্সেল সার্ভিস, সুগন্ধা পার্সেল সার্ভিস, জননী পার্সেল সার্ভিস, এসএ পরিবহন পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিস, এজেআর পার্সেল সার্ভিস, ওমেক্স পার্সেল সার্ভিস। চার বছর আগের ট্রাফিক প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী এসএ পরিবহন পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিস, সুগন্ধা পার্সেল সার্ভিস, রেইনবো পার্সেল সার্ভিস জিন্দাবাজার থেকে অফিস স্থানান্তর করে। তবে প্রায় ২ বছর আগে রেইনবো পার্সেল সার্ভিস আবারও জিন্দাবাজারে তাদের অফিস নিয়ে আসে।

বাংলাদেশ পার্সেল সার্ভিসের ম্যানেজার মো. জাহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের অফিসের বিল্ডিংয়ের মালিকের সঙ্গে চুক্তি পূর্ণ না হওয়ায় আমরা যেতে পারছি না। চার-পাঁচ মাসের মধ্যে চুক্তি শেষ হবে। তখন আমরা নতুন জায়গায় চলে যাব।’

রেইনবো পার্সেল সার্ভিসের ম্যানেজার হাসান বলেন, ‘আমি এক মাস যাবত এই প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হিসেবে আছি। তাই ট্রাফিক প্রশাসনের সিদ্ধান্ত বা প্রতিষ্ঠান স্থানান্তরের বিষয়ে আমি জানি না। আগের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে জানাতে পারব।’

জননী পার্সেল সার্ভিসের ম্যানেজার মিজানুর রহমান মনির বলেন, ‘আমাদের এত সামর্থ্য নাই যে, সিলেটে দুটি অফিস রেখে ব্যবসা করার। তাছাড়া আমাদের প্রতিষ্ঠানের গাড়ি দুবার আসে। খুব সকালে ও বেলা ১১টার দিকে। তখন তেমন সমস্যা হয় না।’

অফিস স্থানান্তর নিয়ে মতবিরোধ আছে সিলেট জেলা পার্সেল সমিতির সদস্যদের মধ্যেও। বেশ কয়েকটি পার্সেল সার্ভিসের ম্যানেজার ও কর্মীরা ট্রাফিক প্রশাসনকে দুষছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, ট্রাফিক প্রশাসনের দায়িত্বরতরা প্রতি মাসে প্রতিটি পার্সেল সার্ভিস থেকে মোটা অঙ্কের মাসোহারা পান। তারা বিভিন্ন সময় ডেকে নিয়ে সভা করে নির্দেশনা দেন আর মাসোহারার পরিমাণ বাড়ান। এই উদ্যোগ কখনোই বাস্তবায়ন করবে না ট্রাফিক প্রশাসন। কারণ জিন্দাবাজার থেকে অফিস স্থানান্তর করলে ট্রাফিক পুলিশের মাসোহারা বন্ধ হয়ে যাবে।

এ ব্যাপারে সিলেট জেলা পার্সেল সমিতির সভাপতি মো. মানিকুজ্জামান চৌধুরী মানিক বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠান সুগন্ধা পার্সেল সার্ভিসের অফিস স্থানান্তর করা হয়েছে। আমি সভাপতি, তাই কেউ যেন প্রশ্ন না তুলে, সেজন্য আগে আমার পার্সেল সার্ভিস স্থানান্তর করেছি।’

তিনি বলেন, ‘অফিস স্থানান্তরের ব্যাপারে সমিতির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছে, স্থানান্তরের ব্যাপারে ট্রাফিক প্রশাসন যেহেতু জোর দিচ্ছে না তো আমি কেন জোর দিচ্ছি। এখন ট্রাফিক প্রশাসন যদি তাদের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য কোনো উদ্যোগ না নেয়, আমার কিছু করার নেই।’

এ ব্যাপারে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) মুহিবুর রহমান বলেন, ‘আমি এই পদে নতুন এসেছি। ওই সময় প্রশাসনের দায়িত্বে ছিলেন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ হানিফ। তিনি ভালো বলতে পারবেন।’

এ ব্যাপারে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ হানিফ বলেন, ‘তিন মাস আগে সব পার্সেল সার্ভিসের অফিস জিন্দাবাজার থেকে সরানোর মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। লিখিত নির্দেশনা দেওয়ার জন্য ডিসি স্যারের নির্দেশনা রয়েছে। তবে লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কি না, সেটা আমি বলতে পারব না। কারণ আমি এখন প্রশাসনের দায়িত্বে নেই। এখন যিনি দায়িত্বে আছেন তিনি এ ব্যাপারে আপডেট দিতে পারবেন।’

নগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ উপকমিশনার (ট্রাফিক) নিকুলিশ চাকমা বলেন, ‘বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন। আমরা আবারও তাদের সঙ্গে আলাপে বসব। যাতে করে দ্রুত সময়ের মধ্যে তারা জিন্দাবাজার এলাকা থেকে তাদের পার্সেল সার্ভিস কার্যালয়গুলো অন্যত্র সরিয়ে নেন।’

 

"