আমদানিনির্ভর ফসলের উৎপাদন বাড়াতে হবে : ড. রাজ্জাক

প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, আমদানিনির্ভর ফসলের উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি কমিয়ে আনতে হবে। গতকাল শনিবার রাজধানীর মণিপুরিপাড়ায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে কৃষিতত্ত্ব সমিতির ৩৫তম বার্ষিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ড. রাজ্জাক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের কৃষক ও কৃষিকে মর্মে-মর্মে উপলব্ধি করেন বলেই কৃষিকে লাভজনক করতে কৃষিপণ্যের উৎপাদন খরচ কমাতে পঞ্চমবারের মতো সারের দাম কমালেন। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বেই বাংলাদেশের কৃষিতে বিপ্লব হয়েছে। যার জন্য বিশ্ব¦ব্যাপী তিনি প্রশংসিত।’

কৃষির উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা উন্নত-বিশ্বের মর্যাদা লাভের যে স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে হাঁটছি, তা সফল করতে কৃষিকে বাণিজ্যিক, আধুনিক কৃষি ও কৃষিকে শতভাগ যান্ত্রিকীকরণ করতে হবে। জনবহুল এ দেশে মাত্র ৮ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন হেক্টর জমিতে আবাদ করে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হয়েছে। এখন এই দেশ খাদ্য-উদ্বৃত্তের দেশেরও মর্যাদা অর্জন করেছে। তিনি বলেন, ‘কৃষিবিদদের যথাযথ দায়িত্ব পালন এবং আমাদের মেহনতি কৃষক ভাইদের জন্য, সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রীর কৃষির প্রতি দরদের ফলে এসব সম্ভব হয়েছে। নগরায়ণ, শিল্পায়নের ফলে বছরে প্রায় ৬৫ হাজার হেক্টর কৃষিজমি হ্রাস পাচ্ছে, তাই আমাদের অল্প জমিতে অধিক ফসল ফলাতে হবে এবং মাটির স্বাস্থ্যের প্রতি অধিক গুরুত্ব দিতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭১-৭২ সালে আমাদের খাদ্য উৎপাদন ছিল ১১ মিলিয়ন টন, যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৭-১৮ সালে উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৩৬২ দশমিক ৭৯ মিলিয়ন টনে। আমাদের কৃষিতে নানাবিধ সমস্যা রয়েছে, বিশেষ করে কৃষিশ্রমিকের হ্রাস, জমির উর্বরতা এবং পানির প্রাপ্যতা হ্রাস পাচ্ছে। এরপরও আমাদের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষির এই উৎপাদনশীলতাকে টেকসই করতে হলে কৃষির প্রক্রিয়াজাত, বাণিজ্যিকীকরণ ও রফতানিতে যেতে হবে। আমাদের সুন্দর ভবিষৎ নির্ভর করে কৃষির ওপর। শুধু ধানের ওপর নির্ভর করলে হবে না, এর পাশাপাশি লাভজনক ফসল আবাদ করতে হবে।’ দেশে তৈলবীজ ও ডালের উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগামীতে ভুট্টার উৎপাদন ৬০ থেকে ৭০ লাখ টন করতে হবে। কারণ ভুট্টা থেকে তেল উৎপাদন করা যায়। তিনি বলেন, কৃষির বৈচিত্রায়ণ ও নিরাপদ পুষ্টিকর খাদ্যের প্রতিও অধিক গুরুত্ব দিতে হবে।

বাংলাদেশ এগ্রোনমি সোসাইটির সভাপতি ড. মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে, অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইআরডির সদস্য ও সিনিয়র সচিব ড. মো. সামসুল ইসলাম ও কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. ওয়াইস কবীর।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের মহাসচিব ড. মো. ওমর আলী এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন প্রফেসর ড. পরিমল কান্তি বিশ্বাস।

 

"