৪১ হাজার হতদরিদ্র পাবে ‘মেয়র হেলথ কার্ড’

প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো

মহানগরীর রেডিসন ব্লুর বে-ভিউ হলে দি ওয়ার্ল্ড ব্যাংক আয়োজিত নগর এলাকায় স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং জনসংখ্যা প্রকল্পবিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন কর্মশালায় উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের প্রধান স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ পেট্রিক এম মুলেন, চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামসুদ্দোহা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম প্রধান ডা. আ এ মো. মহিউদ্দিন ওসমানি ও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী বক্তব্য দেন। কর্মশালায় বিশ্বব্যাংকের প্রধান স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ পেট্রিক এম মুলেন নগর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি এবং জনসংখ্যা সম্পর্কিত তথ্য চিত্র উপস্থাপন করেন।

মেয়র বলেন, চসিক তার স্বাস্থ্যসেবা নগরবাসীর দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নগরীর হতদরিদ্র পরিবারকে ৪১ হাজার ‘মেয়র হেলথ কার্ড’ দেওয়া হবে। প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে ১ হাজার পরিবারকে এই কার্ড প্রদান করা হবে। ফলে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ডেলিভারি, ওষুধপত্রসহ সব চিকিৎসাসেবা ভোগ করবে মেয়র হেলথ কার্ডধারীরা। এ চিকিৎসা সেবা জানুয়ারি ২০২০ সাল হতে কার্যকর হবে বলে তিনি জানান। তিনি আরো বলেন, নগরীর ৭০ লাখ নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে থাকে চসিক। নগরবাসীর মধ্যে অধিকাংশই দরিদ্র ও হতদিরদ্র জনগোষ্ঠী। এই নগরীতে প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ দরিদ্র-হতদরিদ্র আছে। এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেবার আওতায় আনার লক্ষে চসিক ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে সিটি মেয়র চারটি মাতৃসদন হাসপাতাল, একটি জেনারেল হাসপাতাল, ৫৩টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র/দাতব্য চিকিৎসালয়, ৩৩৫টি স্থায়ী/অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র, একটি ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি অ্যান্ড ম্যাটস, একটি মিডওয়াইফারি ইনস্টিটিউট, ১২টি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাকেন্দ্র, একটি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিচালনা এবং এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতি মাসে ১ লাখের অধিক জনসাধারণকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে থাকে বলে তিনি কর্মশালায় উল্লেখ করেন। এছাড়াও স্বাস্থ্য বিভাগ হতে জন্ম নিবন্ধন, মৃত্যু নিবন্ধন, প্রিমিসেস লাইসেন্স, বিনামূল্যে কুকুর কামড়ানোর টিকা প্রদান করছে চসিক। মারাত্মক পুষ্টিজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদানের লক্ষে সিটি করপোরেশন জেনারেল হাসপাতালে একটি স্যাম কর্নার চালু করা হয়েছে। দেশে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এ খাতে সরকারি আনুকূল্য পেলেও চসিক সেই আনুকূল্য থেকে বঞ্চিত। তারপরেও এই সেবা অব্যাহত রেখেছে।

"