কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের ঝাঁজ

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

চার মাস ধরে বাজারে ওঠা-নামা করছে পেঁয়াজের দাম। এ সময়ের মধ্যে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ক্রেতাদের কিনতে হয়েছে সর্বোচ্চ ১৪০ টাকা দামে। তবে এখন তা কমে বাজারভেদে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। দাম কিছুটা কমলেও তা পর্যাপ্ত না বলে মনে করছেন ক্রেতারা। এ নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর খিলগাঁও, মতিঝিল টিঅ্যান্ডটি, ফকিরাপুল, সেগুনবাগিচা, রামপুরা, খিলগাঁও রেলগেট কাঁচাবাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। এসব বাজারে দেখা যায়, বাজারভেদে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ১৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এসব বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি আমদানি করা ভারতীয় (বড়) পেঁয়াজ বিক্রি হতে দেখা গেছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকা। এক সপ্তাহ আগে আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ (ছোট) প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছিল ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা।

সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি সব ধরনের পেঁয়াজে ১০ টাকা কমেছে। তবে পেঁয়াজে দাম কমলে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে। খিলগাঁও বাজারের বিক্রেতা হাসিবুল বলেন, পাইকারি বাজারে দাম কমলে খুচরাতে কমবে। সেখানে কিছুটা দাম কমায় খুচরাতেও দাম করতে শুরু করেছে। তবে আদমানি করা পেঁয়াজ দেশের বাজারে এলে দাম কমে যাবে। আরিফা নামে খিলগাঁও বাজারের এক ক্রেতা বলেন, পেঁয়াজের কেজি যেখানে ১৪০ ছুঁই ছুঁই সেখানে ১০ টাকা কম কোনো দাম কমার মধ্যে পড়ে না। আমদানি করা পেঁয়াজ প্রতিনিয়ত বাজারে আসছে। নতুনভাবে আমদানি করা হচ্ছে, তাহলে দাম কেন কমবে না?। তার মতে, বাজারে পেঁয়াজের ঘাটতি নেই অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের আশায় দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

এদিকে, সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাকসেলে খোলা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। সরকারি বন্ধের দিন ছাড়া প্রতিদিন ৪৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি ট্রাকসেলে অব্যাহত রয়েছে। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ট্রাকসেলে বিক্রি অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে। বাজারে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করলেও মসলা জাতীয় অন্য পণ্য আদা-রসুনের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এসব বাজারে প্রতি কেজি দেশি রসুন বিক্রি হতে দেখা গেছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। চীনা রসুন ১৫০ টাকা, দেশি আদা ১৭০ টাকা, চীনা আদা ১৬০ টাকা, প্রতি কেজি কাঁচা আদা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। এ ছাড়া, রান্নায় অতি আবশ্যক কাঁচামরিচের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কমেছে কেজিতে ১০ টাকা। বর্তমানে বাজারে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে রান্নার নিত্য এ পণ্যটি।

এদিকে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি ও কারসাজির অপরাধে চার পাইকারি ব্যবসায়ীকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল রাজধানীর পুরান ঢাকার শ্যামবাজারে অভিযান চালিয়ে এই জরিমানা করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজার তদারকি টিম। অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক আবদুল জব্বার ম-ল। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিরা সার্বিক সহযোগিতা করেন।

আবদুল জব্বার ম-ল বলেন, ‘পুরান ঢাকার শ্যামবাজারের পাইকারি পেঁয়াজের আড়তদারদের মালিক সমিতি আমদানি করা পেঁয়াজের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। সমিতির বেঁধে দেওয়া দাম অনুযায়ী তুরস্ক, মিসর এবং চীন থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ সর্বোচ্চ ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা যাবে। মিয়ানমারের পেঁয়াজ সর্বোচ্চ ৮০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা যাবে। কিন্তু বেশ কিছু আড়ত নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছে। তারা দাম নিয়ে কারসাজি করতে আইন অনুযায়ী মূল্য তালিকা প্রদর্শন করেনি। এসব অপরাধে চার প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে নগর বাণিজ্যালয়কে ২০ হাজার টাকা, আমানত ভান্ডারকে ২০ হাজার টাকা, নিউ বাণিজ্যালয়কে ২০ হাজার টাকা এবং নির্ধারিত মূল্য অপেক্ষা অধিক মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রির অপরাধে আলহাজ বাণিজ্যালয়কে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘পেঁয়াজের মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত বাজার অভিযান করা হচ্ছে। কিছু কিছু ব্যবসায়ী অনৈতিকভাবে পেঁয়াজের মূল্য বাড়াচ্ছে, তাদের জরিমানার পাশাপাশি সতর্ক করছি। ভবিষ্যতে তারা এ ধরনের অপরাধ পুনরায় করলে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।’

 

"