নারায়ণগঞ্জের বিআরটিএ

দালালচক্রের দাপটে পদে পদে ভোগান্তি

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

আবদুল আলীম, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে দালালচক্র। গাড়ির রেজিস্ট্রেশন অথবা লাইসেন্স সংগ্রহ করতে এলেই সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছে তাদের খপ্পরে পড়ে। প্রতারক চক্রটি কারো কাছ থেকে কম সময়ে কাজ করে দেওয়ার কথা বলে হাতিয়ে নিচ্ছে নগদ অর্থ। আবার কাউকে ধরিয়ে দিচ্ছে নকল লাইসেন্স। তবে এই অফিসের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন প্রতারণার ঘটনা ঘটছে তাদের কার্যালয়ের বাইরে; অফিসে কোনো দালাল নেই। প্রতারণার শিকার আতিকুর রহমান নামের এক যুবক বিআরটিএ নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) সৈয়দ আইনুল হুদা চৌধুরীর কাছে এলে নকল লাইসেন্স তৈরির বিষয়টি সবার সামনে আসে। বিআরটিএ নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়কে কেন্দ্র করে সক্রিয় রয়েছেন দালালচক্রের সদস্যরা। তাদের নজর থাকে নতুনভাবে যারা ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, ঘুষ না দিলে কিংবা দালাল ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে হলে পদে পদে ভোগান্তির শিকার হতে হয় গ্রাহকদের। লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড (মাঠ) টেস্ট পরীক্ষায় পাস করার পর নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য সরাসরি ছবি তোলা এবং আঙুলের ছাপ দেওয়ার সিরিয়াল পেতেও দিতে হয় বাড়তি টাকা। সরকার নির্ধারিত পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য মোট ২ হাজার ২৪ টাকা ও অপেশাদারদের ক্ষেত্রে মোট ৩ হাজার ৬০ টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। তবে দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে লাইসেন্স পেতে গুনতে হয় অতিরিক্ত আরো কয়েক হাজার টাকা। এছাড়াও বিআরটিএ নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়কে কেন্দ্র করে সক্রিয় রয়েছে নকল ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরির চক্রও। নারায়ণগঞ্জ শহরের বাবুরাইল এলাকা থেকে দুলাল মিয়ার ছেলে আতিকুর রহমান লাইসেন্সের আবেদনপত্র নিয়ে গত মঙ্গলবার দুপুরে বিআরটিএ নারায়ণগঞ্জের সহকারী পরিচালকের কক্ষে যান। তিনি তার আবেদনটি সহকারী পরিচালকের হাতে তুলে দেন। তিনি আবেদনটি হাতে নিয়েই বুঝতে পারেন এটি নকল। এটি স্ক্যান করে তৈরি করা হয়েছে। এতে বিআরটিএ নারায়ণগঞ্জের কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে তৈরি করা হয়েছে। তখন প্রশ্নের উত্তরে যুবক আতিকুর রহমান জানান, দুই বছর আগে বাবুরাইল ব্যাপারীপাড়া এলাকার স্বপন ও লিটনের মাধ্যমে তিনি মোটরসাইকেল চালানোর জন্য একটি লাইসেন্স করেছিলেন। সেই লাইসেন্সটি কিছুদিন আগে হারিয়ে গেছে। পরে তিনি লাইসেন্সটি তোলার জন্য আবারও স্বপনের দ্বারস্থ হন। তখন স্বপন থানায় একটি জিডি করে তাকে একটি আবেদনের সিøপ ধরিয়ে দেন। এরপর স্বপন তাকে বলেন, বিআরটিএ কার্যালয়ে কর্মরত নগর খানপুরের বাসিন্দা বিপ্লব নামে এক ব্যক্তি তাকে লাইসেন্সটি বুঝিয়ে দেবেন। কিন্তু দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও তাকে লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছিল না। সম্প্রতি তিনি স্বপনের ব্যবহৃত মুঠোফোনও বন্ধ পাচ্ছেন। যে কারণে তিনি নিজেই বিআরটিএ কার্যালয়ে এসেছেন। এরপর বিআরটিএ নারায়ণগঞ্জ ওই কাগজে থাকা যুবকের নাম অনলাইনে সার্চ দিয়ে দেখতে পান, তার নামে এর আগে কোনো লাইসেন্স নেওয়া হয়নি। তার নামে লাইসেন্স হারানোর যে জিডি করা হয়েছিল তাতে উল্লিখিত লাইসেন্স নম্বরটিও একজন নারীর নামে নেওয়া।

বিআরটিএ সহকারী পরিচালক সৈয়দ আইনুল হুদা চৌধুরী বলেন, আমাদের কার্যালয়ের সামনে কোনো দালালচক্র ভিড়তে পারে না। আমার দরজা গ্রাহকদের জন্য সবসময়ই খোলা থাকে; কিন্তু ওই যুবকটি নিজ এলাকার প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়েছেন। আমি তাকে কৌশল খাটিয়ে ওই প্রতারক চক্রের সদস্যদের আটক করতে বলেছি। যদি তাদের আটকাতে পারেন তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেব। বর্তমানে লাইসেন্সের কার্ড সংকটের কথা স্বীকার করে তিনি আরো জানান, সারা দেশেই লাইসেন্সের কার্ড সংকট। যে কারণে আগে স্বাভাবিকভাবে লাইসেন্স পেতে দেড় মাসের মতো সময় লাগত, সেখানে এখন লাগছে দ্বিগুণ।

"