চট্টগ্রাম ওয়াসাতে হচ্ছে প্রথম গবেষণা সেল

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো

ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার পানির চাহিদা পূরণে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পানির উৎপাদন এবং উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং রোগজীবাণু, ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ, রং এবং গন্ধমুক্ত পানির সরবরাহ নিশ্চিতকরণে, পাইপলাইন স্থাপন বা মেরামতের ফাঁদে পড়ে সীমাহীন দুর্ভোগ-বিশুদ্ধ পানি পেতে বন্দরনগরীর দুর্ভোগ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে অব্যবস্থাপনা দূর করতে, দেশে প্রথমবারের মতো গবেষণা সেল গঠন করতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। প্রতিষ্ঠানটির ৫৩তম বোর্ডসভায় প্রস্তাব ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার বোর্ড সদস্য মহসীন কাজী। এদিকে নগরবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ বছরজুড়ে অপরিপল্পিকতভাবে খোঁড়াখুঁড়ি ও একই স্থানে একাধিকবার খোঁড়াখুঁড়ি। এছাড়াও অন্যান্য সেবাসংস্থার সঙ্গে সমন্বয়হীনতা না করা। যে কারণে নগরবাসী কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এজন্য চট্টগ্রাম ওয়াসাকে পানি নিয়ে নগরবাসীর কষ্ট লাঘব ও কাক্সিক্ষত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দরকারি গবেষণার জন্যই সেল কাজ করবে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার বোর্ড সদস্য মহসীন কাজী বলেন, দিন দিন মানুষের পানির চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামে মিরসরাই বঙ্গবন্ধু অর্থনৈতিক জোন ও দক্ষিণ চট্টগ্রামে চায়না অর্থনৈতিক জোন হচ্ছে। জনাধিক্যতা, অপরিকল্পিত শিল্পায়ন প্রকৃতির ভারসাম্যতা নষ্ট করছে। বন্দরনগীর জনসংখ্যা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ১ কোটি হবে। তেমনিভাবে জনসংখ্যানুযায়ী পানির চাহিদাও বাড়ছে। এ অবস্থায় পানির উৎপাদন বৃদ্ধি আবশ্যক। নদীময় বাংলাদেশে মানবসৃষ্ট কারণে নদী, খালবিল, জলাশয়গুলোর মধ্যে অধিকাংশই মৃতপ্রায়। সবার জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে পানির উৎসগুলো পরিচ্ছন্ন রাখা ও বাঁচিয়ে রাখা জরুরি। নিরাপদ পানির ক্ষত্রে সেবার পরিধি বিস্তার করার পাশাপাশি সেবা প্রদান প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা দরকার। দেশের বড় বড় শহরের আশপাশে নদীগুলো শিল্প, পয়ো ও পৌর বর্জ্য দ্বারা অতিমাত্রায় দূষিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ও হালদাকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসার ভবিষ্যৎ কোনো ধরনের পরিকল্পনা নেই। আগামীতে আমাদের পানি কতটুকু প্রয়োজন হবে। সেটা কীভাবে আসবে। কীভাবে করলে সুযোগ সুবিধা হবে ও কি কি অসুবিধা হবে। তার পরিকল্পনা গ্রহণ করার জন্য গবেষণা সেল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে সনাক চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী বলেন, শুধু গবেষণা সেল গঠন করলে হবে না। যোগ্য দক্ষ ব্যক্তিকে এটির দায়িত্ব দিতে হবে। ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহায়তা করবে। গবেষণা সেলের মতামত-পরামর্শের সুফল ভোগ করতে পারবে নগরবাসী।

"