না.গঞ্জে ৭০ ভাগ ভবনই ঝুঁকিপূর্ণ, নগরে আতঙ্ক

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

আব্দুল আলীম, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জ নগরীর বাবুরাইলের চারতলা ভবন ধসের ঘটনার পর জেলাজুড়ে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। এর আগে নগরীর খানপুর এলাকায় আরো একটি চারতলা ভবন হেলে পড়ে। কয়েক দিনের ব্যবধানে দুটি ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ বসবাসকারী জনসাধারণের মাঝে বিরাজ করছে আতঙ্ক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নারায়ণগঞ্জের ৭০ ভাগ ভবনই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই শহরের গলাচিপা, নিতাইগঞ্জ, চাষাড়া, টানবাজার, মহিমা গাঙ্গুলী, ভিপি রোড, এসএম মালেহ রোড এলাকায়। এসব ভবন চিহ্নিত করা হলেও তা অপসারণের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। কিন্তু সম্প্রতি নগরীর বাবুরাইলের ভবন ধসের ঘটনা ঘটলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। ক্যামিকেলের গুদাম, ডায়িং কারখানা, গ্যাস সিলিন্ডারের মজুদ দুর্বল ভবনগুলোর হুমকির মাত্রা বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।

খানপুরের মোবারক মিয়া বলেন, নতুন ভবন নির্মাণে রাজউকের নীতিমালা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক করতে হবে। আইন না মানলে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। পুরোনো ভবন মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার আগেই। সঠিক কারণ অনুসন্ধান করতে হবে। জনসাধারণকে সতর্ক করতে হবে।

নিতাইগঞ্জের লতিফ বলেন, দুই ভবনের মাঝে প্রয়োজনীয় ফাঁকা জায়গা রাখা হয় না। দুর্ঘটনায় মানুষ গিয়ে দাঁড়াবে কোথায়? বিল্ডিং কোড না মেনে সরু রাস্তার পাশে গড়ে তোলা হচ্ছে বহুতল ভবন। এগুলো কী করে সম্ভব হলো? বিল্ডিং কোড যারা কার্যকর করবে সেই কর্মকর্তারা কোথায়? তারা কি ঘুমিয়ে আছে? জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে শত শত পরিবার। সরু রাস্তার পাশে নির্মাণ করা হয়েছে অসংখ্য ভবন। কালের আবর্তনে ঐতিহ্যবাহী অনেক ভবন হারিয়ে গেছে। তবে নগরের নিতাইগঞ্জ, খানপুর, টানবাজার, বঙ্গবন্ধু সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে জরাজীর্ণ প্রায় শতাধিক ভবন। ঐতিহাসিকদের মতে, প্রাচ্যের ড্যান্ডি হিসেবে খ্যাত নারায়ণগঞ্জ শহর প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো। এ শহরে এখনো শত বছরের প্রাচীন বহুতল ভবন রয়ে গেছে। যেগুলো এখন চিহ্নিত পরিত্যক্ত ভবন হিসেবে। তারপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব ভবনে বসবাস করছে শত শত পরিবার। অনেক সরকারি অফিস ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান রয়েছে পরিত্যক্ত ভবনগুলোতে। কিন্তু কোনো যথাযথ কোনো পদক্ষেপ না থাকায় এ সমস্যা চলছে। সিটি করপোরেশন বলছে পুরোনো কিছু ভবন এরই মধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে। বাকিগুলো ভাঙার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, এরই মধ্যে আবার পরিত্যক্ত ভবনগুলোতে সংস্কার কাজ চালানো হচ্ছে। অনেক সরকারি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার অফিসের কাজ চলছে এসব পরিত্যক্ত ভবনে। সরকারের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এসব পরিত্যক্ত ভবনগুলোতে কাজ চলছে বলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, ১৩৫ বছরের পুরোনো নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা বিলুপ্ত করে প্রায় আট বছর আগে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে রূপান্তরিত হওয়ার পর এ পরিত্যক্ত ভবনগুলো একাধিকবার ভেঙে ফেলার জন্য নোটিস দেওয়া হয়। সিটি করপোরেশনের ১৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস জানান, এরই মধ্যে কয়েকটি ভবন স্ব-উদ্যোগে ভেঙে ফেলা হয়েছে। অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে ফেলার জন্য সিটি করপোরেশন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। প্রাণহানি হয়ে কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সিটি করপোরেশন এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো ভেঙে ফেলার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে নগরবাসীর প্রত্যাশা। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান কর্মকর্তা এহতেসামুল হক বলেন, আমরা এরই মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করেছি। তাদের ভবনগুলো নিজ দায়িত্বে সড়িয়ে ফেলার নির্দেশ ও দিয়েছি। এরপরও তারা নির্দেশ না মানলে আমরা কঠোর হতে বাধ্য হব।

"