অনশন ভাঙলেও আন্দোলন থামেনি শিক্ষকদের

নন-এমপিও

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির আশ্বাসে আমরণ অনশন কর্মসূচি স্থগিত করলেও আন্দোলন স্থগিত করেননি নন-এমপিও শিক্ষকরা। টানা পঞ্চম দিনের মতো জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে এমপিওর দাবিতে স্লোগান ও বক্তব্য দিয়েছেন শিক্ষক নেতারা।

শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে আস্থা থাকলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎ না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে নিশ্চিত করেন নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার ও সাধারণ সম্পাদক বিনয় ভূষণ মজুমদার।

তারা জানান, বৃহস্পতিবার শিক্ষকদের পদযাত্রায় পুলিশ বাধা দেওয়ার পর তারা অনশনে বসেন। সেদিন রাতে শিক্ষামন্ত্রী ফোন দিয়ে তাদের অনশন ভাঙতে বলেন। একইসঙ্গে সামর্থ্যরে ভিত্তিতে সবাইকে এমপিওভুক্ত করার আশ্বাসও দেন। শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে আন্দোলনরত শিক্ষকরা অনশন ভাঙলেও প্রেস ক্লাবের সামনের রাস্তা থেকে সরে যাননি। একই রকমভাবে স্লোগান ও বক্তৃতা দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

অধ্যাপক ডলার বলেন, রোববার আমাদের সঙ্গে দেখা করবেন বলে কথা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। সেখানে এমপিওভুক্তির ব্যাপারে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিরা। আলোচনা যদি ফলপ্রসূ হয়, তাহলে আমরা আন্দোলনে ইস্তফা দিয়ে শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাব। না হলে সোমবার সকাল থেকে আবারও আমরণ অনশন শুরু করবেন বঞ্চিত শিক্ষকরা। তবে শিক্ষামন্ত্রী কখন ও কোথায় আলোচনায় বসবেন সেটি এখনো শিক্ষক নেতাদের জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ডলার। তবে বৈঠকটি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

এদিকে, এমপিওভুক্তির জন্য বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকেও সম্মতি দেওয়া হয়েছে। এ বছর মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিলিয়ে ২ হাজার ৭০০-এরও কিছু বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হতে পারে। যেকোনো সময় এমপিওভুক্তির এই তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এমপিওভুক্ত (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) হলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকার থেকে মাসে মূল বেতন ও কিছু ভাতা পাবেন। বর্তমানে সারা দেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে প্রায় ২৮ হাজার। এগুলোতে শিক্ষক-কর্মচারী আছেন প্রায় ৫ লাখ। উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০১০ সালে ১ হাজার ৬২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছিল।

"