চমেকে চালু হচ্ছে আধুনিক ওয়াশিং মেশিন

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নতুন ওয়াশিং মেশিন আগামী সপ্তাহে চালু হতে যাচ্ছে। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এ মেশিন চমেক হাসপাতালে রোগীদের অপারেশন থিয়েটার ও ব্যবহৃত চাদর পরিষ্কার করার কাজে লাগবে। এরই মধ্যে ওয়াশিং মেশিন চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ মেশিন চালু করা হবে বলে চমেক হাসপাতালে উপপরিচালক আখতারুল ইসলাম জানান। নতুন এই ওয়াশিং মেশিন চালু হলে চমেক হাসপাতাল রোগীদের চাদর অপরিষ্কারের অভিযোগ থেকে মুক্তি পাবে।

সূত্র জানায়, হাসপাতালের সব ধরনের চাদর পরিষ্কার করা যাবে এই মেশিনে। এতে রোগী ও স্বজনদের চাদর পরিষ্কার নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ থেকে মুক্তি পাবে চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিনের অভিযোগ চাদর ভালো করে পরিষ্কার না হলে রোগীদের দেওয়া হতো। বছরে হাসপাতালে চাদর পরিষ্কার করার ব্যয় কমে আসবে অর্ধেকে। চমেক হাসপাতাল সূত্র জানা যায়, সেন্ট্রাল মসজিদের পাশে লিনেন স্টোরে ৪১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ওয়াশিং মেশিন স্থাপন করা হবে। প্রতিদিন দুই শিফটে ৮০০ চাদর পরিষ্কার করা যাবে। এতে হাসপাতালে প্রতি বছর ২৫ লাখ টাকার মতো ব্যয় কমবে হাসপাতালের। একটি চাদর পরিষ্কার করতে এই মেশিনে খরচ হবে ১ টাকা করে। এদিকে চমেক হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে চাদর অপরিষ্কার অবস্থায় রোগীদের দেওয়া হতো। রোগীদের এ অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ভালোভাবে পরিষ্কার করত না। পরিষ্কার না হলে রোগীদের অপরিষ্কার অবস্থায় দেওয়া হতো। নার্সরা রোগীদের যেভাবে চাদর দিতেন সেভাবে তা গ্রহণ করতে হতো। ফলে এখানে লেগে থাকত নানা রোগ-জীবাণু। নতুন চাদর চাইলেও নার্সরা দিতেন না।

চমেক হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার কামরুজ্জামান বলেন, রোগীদের চাদর পরিষ্কারের কাজ করে আমাদের অনেক সহকর্মী নানা ধরনের রোগ ও জীবাণুতে আক্রান্ত হয়েছে। নতুন ওয়াশিং মেশিন আসলে এ অবস্থা মুক্তি মিলবে। বর্ষাকালে চাদর শুকানোর চিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

চমেক হাসপাতাল উপপরিচালক আখতারুল ইসলাম বলেন, চমেক হাসপাতালে ৪১ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময় নতুন ওয়াশিং মেশিন ক্রয় করা হয়েছে। এরই মধ্যে ওয়াশিন মেশিন চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে। বসাতে আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ লাগতে পারে। চালু হলে হাসপাতালে সেবার মান আরো এক ধাপ বেড়ে যাবে। নতুনভাবে এই মেশিন স্থাপন করাই হাসপাতালে চাদর পরিষ্কারের ব্যয় কমে যাবে। আগে যেখানে পরিষ্কার ও লন্ড্রি করতে ৩০ থেকে ৩২ টাকা খরচ হতো সেখানে এখন ২ টাকা খরচ হবে। তিনি বলেন, লন্ড্রি মেশিন এরই মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে। পরিষ্কার ও লন্ড্রি মেশিন চালু হলে প্রতি বছর হাসপাতালে ৫০ লাখ টাকা ব্যয় কমে যাবে। এছাড়াও চাদর অপরিষ্কার ও লন্ড্রি না করে রোগীদের ভাঁজ করে দেওয়ার অভিযোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

 

"