শুদ্ধি অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে চট্টগ্রামের নাগরিক সমাজ

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামের নাগরিকরা বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যায় সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার এবং দেশে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মাদক, ক্যাসিনো এবং কালো টাকার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুদ্ধি অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। গতকাল শনিবার নাগরিক সমাজের মানববন্ধন থেকে এ শুদ্ধি অভিযানকে স্বাগত জানানো হয়। মানববন্ধনে চট্টগ্রামের বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন ছাড়াও ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। গতকাল শনিবার সকালে প্রেস ক্লাবের সামনে চট্টগ্রাম নাগরিক উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে এ ঘোষণা দেন মেয়র নাছির উদ্দীন।

মানববন্ধনে মেয়র নাছির প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দুর্নীতি, জুয়া এবং ক্যাসিনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামেও যুদ্ধ ঘোষণা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী যা নিজের ঘর থেকেই শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন, যা বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে নজির ঘটনা। এখান থেকে বিপথগামী দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য বার্তা রয়েছে বলে মেয়র মনে করেন।

মানববন্ধন ও সমাবেশ চট্টগ্রাম নাগরিক উদ্যোগের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও প্রধান সমন্বয়কারী সাংস্কৃতিক সংগঠক খোরশেদ আলমের সঞ্চালনায়ে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সদস্য সচিব ও প্রাবন্ধিক লেখক শেখ মুজিব আহমেদ। একাত্মতা প্রকাশ করে মানববন্ধন ও সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নঈম উদ্দিন চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা ও পরিবেশবিদ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইদরিস আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের যুগ্ম সম্পাদক সফর আলী, চট্টগ্রাম আবাহনীর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর জালাল উদ্দিন ইকবাল, মোহাম্মদ ঈসা, চসিক কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন, শৈবাল দাশ সুমন, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সহসভাপতি প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন, আওয়ামী লীগ নেতা মো. ইসা, রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অনুপ সাহা, কর আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আহসান উল্লাহ, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিতাই প্রসাদ ঘোষ, মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদ সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুমন দেবনাথ, কবি অ্যাডভোকেট তুতুল বাহার, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সদস্য আবদুল মান্নান ফেরদৌস, সাংস্কৃতিক সংগঠক দেওয়ান মাকসুদ আহমেদ, ছড়াকার ও লেখক আ ফ ম মোদাছের আলী, আইনজীবী ও কবি তুতুল বাহার, মানবাধিকার সংগঠক আমিনুল হক বাবু, নগর যুবলীগের সদস্য ওয়াহিদুল আলম শিমুল, জাবেদুল আলম সুমন, এম এ মান্নান শিমুল, সুমন সাহেদ সিদ্দিকী, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মুকসুদ আলী, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।

মেয়র নাছির বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যার নিন্দা ও গভীর শোক জানিয়ে বলেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী জিরো টলারেন্স চট্টগ্রামবাসীসহ দেশবাসী সমর্থন জানিয়েছে। এই হত্যাকা-কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক শক্তি যাতে দেশের গণতন্ত্র স্থিতিশীলতা নিয়ে ষড়যন্ত্র করতে না পারে সেজন্য নাগরিকদের দায়িত্বশীলতার কথাও উল্লেখ করেছেন মেয়র। তিনি বলেন, নিকটাত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও যুবলীগ সভাপতির ক্ষেত্রেও কঠোর হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তার (যুবলীগ সভাপতির) বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ও ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে শিক্ষণীয়। আবরার হত্যার বিচারের প্রক্রিয়ায় সরকার ও আওয়ামী লীগ সচেতনভাবেই দায়িত্ব পালন করেছে। মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন আরো বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শান্তির ইতিহাস। তিনি প্রসঙ্গক্রমে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হত্যা ও ৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, রাতের আঁধারে স্বজন হারিয়ে, দিবালোকে বারেবারে হামলার শিকার হয়েও প্রধানমন্ত্রী ও জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনা এ দেশের মানুষের শান্তি উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের জন্য কাজ করেছেন করেছেন। তাকে সমর্থন দেওয়া ও নাগরিক সমাজের দায়িত্ব।

মেয়র নাছির বলেন, ক্যাসিনো জুয়া, দুর্নীতি বন্ধে শুদ্ধি অভিযান ও বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার হত্যাকা-ে দোষীদের শাস্তি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগ সাদরে গ্রহণ করেছে দেশের জনগণ। মানববন্ধন সমাবেশটিতে সভাপতির বক্তব্যে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে কোনো ক্যাম্পাস হত্যাকা-ের ক্ষেত্রে এত দ্রুত আসামি গ্রেফতার ও প্রশাসন এত দৃঢ় অবস্থান নেওয়া লক্ষ্য করা যায়নি। প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনার কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে। এছাড়া সন্ত্রাস, ক্যাসিনো, মাদক জঙ্গিবাদ ও কালোটাকার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্সকে চট্টগ্রামবাসীসহ দেশবাসী স্বাগত জানিয়েছেন। আবরার হত্যাকা-কে কেন্দ্র করে ইতিহাসের কোনো কালো শক্তিকে কোনো মহল যাতে আহ্বান জানাতে না পারে, সে ব্যাপারেও নাগরিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানান এই নাগরিক সংগঠক।

 

"