রাজশাহীতে আ.লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ২

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে দুজন আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত দুজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তাদের মধ্যে ২৮ নম্বর ওয়ার্ড (পশ্চিম) স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক জুবায়ের হাসান জনির (২৬) ডান পায়ে গুলি লেগেছে। তিনি কাজলার ফুলতলা এলাকার আসলামের ছেলে। অন্যজন হলেন একই এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে সুজন (২৮)। তিনি একই ওয়ার্ডের যুবলীগের সদস্য। তার বাম হাতের কনুই থেকে কবজি পর্যন্ত চাপাতির আঘাত রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বালুর ব্যবসা করার জন্য ২০১০ সালে ফুলতলা ২৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সভাপতি আবদুস সাত্তার বিভিন্নজনের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেন। সেই অর্থ দিয়ে পরে কেনা হয় ড্রেজার। কিন্তু পরিকল্পিত বালুর ব্যবসাটি বন্ধ হয়ে যায়। ব্যবসায় যারা অর্থ দিয়ে বিনিয়োগ করেছিলেন, তারা একাধিকবার সেই অর্থ ফেরত দিতে আবদুস সাত্তারকে বলেন। কিন্তু তিনি এতে অসম্মতি জানান। এ বছর সেই ড্রেজারটি আবার চালু করে ব্যবসা চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হলে আবদুস সাত্তার বাধা দেন। পরে মীমাংসার আহ্বান জানালে তিনি মীমাংসাও করেননি। গতকাল শুক্রবার সকালে ২৮ নম্বর পশ্চিম ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক জুবায়ের হাসান জনি (২৬), কর্মী সুজনসহ (২৮) অনেকে গিয়ে ড্রেজারটি ঠিক আছে কি না দেখতে গেলে তাদের ওপর চড়াও হয় সাত্তারের ছেলে টনি এবং ডনিসহ অন্তত ২০ জন। ড্রেজারে থাকা অবস্থায় জনিকে উদ্দেশ্য করে গুলি ছোড়ে তারা। এতে জনির ডান পায়ে গুলি লাগলে তিনি ড্রেজার থেকে নিচে পড়ে যান। এ সময় সুজনকে ধারাল চাপাতি দিয়ে কোপানো হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয়রা।

হাসপাতালে আহতাবস্থায় জুবায়ের হাসান জনি বলেন, ড্রেজার চালু করা নিয়ে বেশ কদিন থেকেই আবদুস সাত্তারের সঙ্গে স্থানীয়দের বিবাদ চলছিল। শুক্রবার সকালে তারা ড্রেজার চেক করতে গেছে শুনে সাত্তার তার ছেলে টনি ও ডনিকে পিস্তল দিয়ে পাঠায়। তার সঙ্গে আরো অন্তত ২০ জন এসে মারধর করে। এরপর তারা তিনটি গুলি ছোড়ে, যার একটি আমার পায়ে লাগে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগরীর রাজপাড়া থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, ফুলতলা এলাকায় ড্রেজার নিয়ে একটি বিবাদের ঘটনা শুনেছি। এ ঘটনায় দুজন আহত হয়েছেন। তাদের রামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একজনের পায়ে গুলি লেগেছে বলে শুনেছি। ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"