সিলেটের কিন ব্রিজ হকারদের দখলে

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

মহানগর (সিলেট) প্রতিনিধি

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কিন ব্রিজ সংস্কারের জন্য যান চলাচল বন্ধ থাকায় হকারদের দখলে চলে গেছে পুরো ব্রিজ। ব্রিজজুড়ে নানা ধরনের পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা। সিলেট সিটি করপোরেশন এই ব্রিজকে স্থায়ীভাবে পদচারী ব্রিজে পরিণত করার পরিকল্পনার কথা জানালেও হকারদের কারণে সেই পরিকল্পনা অনেকটা ফিকে হয়ে যাচ্ছে। চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পদচারীদের।

গতকাল বুধবার বিকেলে কিন ব্রিজে গিয়ে দেখা যায় পুরোপুরি একটি বাজারে পরিণত হয়ে গেছে। কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে টি-শার্ট, মোবাইল সিম, চার্জারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব ধরনের জিনিসই পাওয়া যাচ্ছে সেখানে। প্রতিদিনই সেখানে প্রায় একশোর ওপর হকার বিভিন্ন ধরনের পণ্যের পসরা নিয়ে সেতুর দুই পাশে বসেন।

সিলেটের সুরমা নদীর ওপর অবস্থিত কিন ব্রিজ। লোহা দিয়ে তৈরি এই সেতুর আয়তন ১ হাজার ১৫০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ১৮ ফুট প্রস্থ। ব্রিটিশ আমলে ১৯৩৩ সালে লোহার কাঠামোয় দৃষ্টিনন্দন এই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। আসাম প্রদেশের তৎকালীন গভর্নর মাইকেল কিনের নামে এই সেতুর নামকরণ করা হয় কিন ব্রিজ। ১৯৩৬ সালে সেতুটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

সিলেটের সুরমা নদীতে স্থাপিত প্রথম এই সেতুটি সিলেটের ঐতিহ্যকে উপস্থাপন করে। সেতুটি সংরক্ষণের জন্য সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে পদচারী সেতুতে পরিণত করার পরিকল্পনা পুরো সিলেটবাসী সাধুবাদ জানায়। তবে পুরো সেতুটি হকারদের দখলে চলে যাওয়ায় অনেকটাই ক্ষুব্ধ নগরবাসী। তারা বলছেন, স্বাচ্ছন্দ্যে সেতুটি ব্যবহার করতে হলে অবিলম্বে এই হকারদের সেখান থেকে উচ্ছেদ করা জরুরি।

কিন ব্রিজের পথচারী আবুল কালাম বলেন, সেতুটি সংস্কারের জন্য যান চলাচল বন্ধ করে হাঁটার জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এটি শুনে খুবই ভালো লেগেছিল। কিন্তু এখন হকারদের কারণে এই সেতু দিয়ে হেঁটে যাওয়াও কষ্টকর। প্রায়ই এই সেতু দিয়ে হেঁটে পার হই। যত সময় যাচ্ছে হকারদের কারণে সমস্যা আরো বাড়ছে।

সেতু ব্যবহারকারী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী কবির আহমদ বলেন, সেতুর দুই পাশ দখল করে ফেলেছেন হকাররা। পথচারী সেতুর পরিকল্পনাটি এদের কারণে বৃথা যাবে বলে মনে হচ্ছে। হকার না থাকলে পরিবেশটাও সুন্দর থাকত, স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করা যেত। যত দ্রুত সম্ভব এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

চলতি বছরের ৩ সেপ্টেম্বর কিন ব্রিজ পরিদর্শন করতে আসেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত আল রবার্ট মিলার। এ সময় তিনি এই সেতুকে পৃথিবীর অন্যতম দীর্ঘ হাঁটার সেতু বলে মন্তব্য করেছিলেন। সেতুটি সংস্কার করে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করায় সিসিককে ধন্যবাদও জানান তিনি। পাশাপাশি সেতু রক্ষণাবেক্ষণে মার্কিন সরকারের সহায়তার আশ্বাসও দেন।

সিলেট সিটি করপোরেশন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, হকার উচ্ছেদে সবার সহযোগিতা দরকার। প্রতিনিয়তই সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় হকার উচ্ছেদ অভিযান চলছে। কিন ব্রিজ সিলেটের একটি প্রতীক। এটিকে সংরক্ষণ করতে নাগরিক সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে, একা কিছুই করা সম্ভব হবে না।

 

"