বাজার দর

পেঁয়াজের আমদানি বাড়লেও দাম কমতিতে ধীরগতি

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

হাসান ইমন

সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম ছিল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি। ১৩ সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজ রফতানি মূল্য বাড়িয়ে দেয়। পরদিন বাজারে একলাফে দাম বেড়ে ৬০ থেকে ৭০ টাকা গিয়ে দাঁড়ায়। এরপর ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত পুরাপুরিভাবে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়। ওই দিন বিকালে পেঁয়াজের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি। অস্থির পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দফায় দফায় বৈঠকেও কাজ হয়নি। নিয়ন্ত্রণে আসেনি পেঁয়াজের বাজার। দাম না কমায় মিসর, তুরস্ক, মিয়ানমারসহ কয়েকটি দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়। এরপর দাম কমতে থাকে। তবে যেভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়েছে, সে তুলনায় দাম কমেছে অত্যন্ত ধীর গতিতে।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে গিয়ে দেখা যায়, পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমে এলেও এখনো মানুষের নাগালের বাইরে। ১২০ টাকা কেজি পেঁয়াজ গতকালও বিক্রি হয়েছে ৯০ টাকায়। আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকা কেজি দরে। কিন্তু রাজধানীতে পেঁয়াজের বড়ো পাইকারিবাজার শ্যামবাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৬৫ টাকা ও আমদানিকরা মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৫৫ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা ও মিসরের পেঁয়াজ ৪৮ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এই হিসেবে পাইকারি বাজারের তুলনায় খুচরায় পেঁয়াজের দামের ব্যবধান অনেক।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সারা দেশে পেঁয়াজের অবৈধ মজুদ ও কারসাজি করে মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাজারে। যাদের কাছে দেশি পেঁয়াজের মজুদ ছিল তা ছেড়ে দিচ্ছে। এছাড়া মিয়ানমার ও মিসর থেকেও এখন পর্যাপ্ত পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে। ভারত থেকে রফতানি বন্ধের আগের এলসি করা পেঁয়াজও এসেছে।

কারওয়ানবাজারের পেঁয়াজ কিনতে আসা আনিছুর রহমান বলেন, দাম বাড়ার পর দুই কেজি পেঁয়াজ কিনলাম। শুনেছি এখন দাম কিছুটা কমেছে। কিন্তু যেভাবে ভেবেছি সে হারে দাম কমেনি। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ার কোনো ইস্যু পেলে একলাফে দাম বাড়িয়ে দেন। কিন্তু সরবরাহ বাড়লে আর দাম কমাতে চান না তারা। গত মাসের শুরুতে পেঁয়াজ কিনেছি ৩০ টাকা কেজি দরে। এখন লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বেড়ে দাঁড়ায় ১২০ টাকা কেজি। আর এখন হাঁকডাক দিয়ে দাম কমানোর ঘোষণা দিয়ে এখন দেখি ৯০ টাকা কেজি দরে। সাদমান ইসলাম নামে আরেক ক্রেতা বলেন, দাম আর কমল কই। কেজিতে বেড়েছে ৮০ টাকা এখন কমেছে ৩০ টাকা। সবই ব্যবসায়ীদের কারসাজি।

কারওয়ান বাজারের আড়তদার ফজলুর রহমান বলেন, আমদানিকারক দাম না কমালে আমরা কমাব কীভাবে। আর হয়তো সপ্তাহ খানেকের মধ্যে দাম আরো কমে আসবে বলে শুনেছি।

গতকাল শ্যামবাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, আড়তগুলোতে পেঁয়াজের ব্যাপক সরবরাহ। কিন্তু সেই অনুপাতে ক্রেতা নেই। পেঁয়াজ আমদানিকারক ও শ্যামবাজারের আড়তদার নারায়ণ চন্দ্র রায় গতকাল বলেন, বাজারে এখন পেঁয়াজের কোনো সংকট নেই। ভারত হঠাৎ করে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করায় সাময়িক সে সমস্যা তৈরি হয়েছিল তা কেটে গেছে। এখন মিয়ানমার ও মিসর থেকে প্রচুর পেঁয়াজ আসছে। দেশি পেঁয়াজের বাজারে সরবরাহ ভালো। তবে বাজারে কয়েকদিন আগেও পেঁয়াজের যে চাহিদা ছিল এখন তা নেই।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের যে দাম তা থেকে খুব একটা কমার সম্ভাবনা নেই। তবে মাস খানেকের মধ্যে পেঁয়াজের দর আরো কমবে।

পেঁয়াজের দামের বিষয়ে পানামা ট্রেডার্সের মালিক দেলোয়ার হোসেন বলেন, মিয়ানমার ও মিসর থেকে পেঁয়াজ আসছে। ফলে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ছে। এতে দাম কিছুটা কমেছে। আমরা আশা করছি, শিগগিনই পেঁয়াজের দাম আরো কমবে। তবে মিয়ানমারের পেঁয়াজ তড়িঘড়ি আমদানি করা ঠিক হয়নি। কারণ সেখান থেকে আসা প্রায় ২৫ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট।

এদিকে পেঁয়াজের দর স্বাভাবিক রাখতে সরকার টিসিবির মাধ্যমে খোলা বাজারে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশের পেঁয়াজ বাজারে ঢুকেছে। তবে দাম কমছে কচ্ছপের গতিতে।

 

"