সিলেটে ‘শীলং তীর’ আসরে আতঙ্ক, হার্ডলাইনে প্রশাসন

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

মুহাজিরুল ইসলাম রাহাত, সিলেট

সিলেটজুড়ে ‘শীলং তীর’ নামক জুয়া খেলা ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রাম-গঞ্জ ছাড়িয়ে এ খেলা এখন বিস্তৃত নগরের অলিগলিতে। দিনমজুর থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া শিক্ষার্থীরা পর্যন্ত আসক্ত হয়ে পড়েছে এ খেলায়। জড়িয়ে পড়েছেন নারীরাও। দিনমজুররা দ্রুত ধন লাভের আশায় আয় করা অর্থ বিলিয়ে দিচ্ছেন জুয়ার আসরে। স্বল্প পুঁজিতে, অল্প সময়ে জনসাধারণকে কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন স্বার্থান্বেষী দালাল ও এজেন্টরা। জুয়ার এ বাণিজ্যে জড়িত আছেন ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় রাজনৈতিক নেতা। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের সঙ্গে আঁতাত করেই সিলেটের বিভিন্ন স্থানে ‘শীলং তীর’-এর নামে চলে জুয়া ও মাদকের আড্ডা। সেইসঙ্গে সারা রাত ধরে চলে মাদক বেচাকেনা। সম্প্রতি ঢাকার ক্যাসিনো ক্লাবে র‌্যাবের কঠোর অভিযানের ফলে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে সিলেটের ক্লাবগুলোতে। সম্প্রতি নগরের কয়েকটি স্থানে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা, মদ, নগদ টাকা ও জুয়ার সরঞ্জামসহ জড়িত কয়েকজনকে আটক করেছে র‌্যাব-৯।

অভিযোগ উঠেছে, জুয়ার আসর (বোর্ড) বসার পেছনে সংশ্লিষ্ট মার্কেট কমিটির কতিপয় সদস্য, রাজনীতিবিদ, সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও স্থানীয় দাপুটে নেতারা জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। জুয়াড়িরা তাদের মাসোহারা দিয়ে নির্বিঘেœ চালিয়ে যাচ্ছেন অবৈধ এ খেলা। তীর খেলাকে আকর্ষণীয় করতে যুক্ত হয়েছেন বড় বড় ব্যবসায়ীরা। ‘তীর’ নামক এই জুয়ায় প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য হচ্ছে। এতে কেউ হচ্ছেন লাখোপতি, কেউ হচ্ছেন নিঃস্ব। আর তাদের প্রতারণার খপ্পরে পড়ে প্রতারিত হচ্ছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মাঝে মধ্যে জুয়াড়িদের ধরতে লোক দেখানো অভিযান চালালেও এ খেলা বন্ধ করতে তাদের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে সচেতন মহলে। অভিযোগ উঠেছে, সিলেটের সবগুলো থানা, ফাঁড়ি ও পুলিশের বিভিন্ন সংস্থার অসাধু কিছু কর্মকর্তারা তীর জুয়ার আয়োজকদের কাছ থেকে নিয়মিত বখরা নিয়ে থাকেন।

তথ্য সূত্রে জানা গেছে, নগরীর সুবিদবাজার, বাগবাড়ী, কাজলশাহ, কানিশাইল (খেয়া ঘাট), বেতের বাজার, লালাদীঘির পাড়, কুয়ার পাড়, শেখ ঘাট, টিকরপাড়া, ভাংগাটিকর (হাওর), কাজির বাজার, মোগল টুলা, ঘাসিটুলা, আম্বরখানা, মজুমদারি, ধুপাগুল, কাকুয়ার পাড়, নয়াবাজার, মিরাবাজার, যতরপুর, শিবগঞ্জ, টিলাগড়, উপশহর, মেন্দিবাগ, কাজিটুলা, বন্দরবাজার, সুরমা মার্কেট, লামাবাজার, বিল পাড়, ভাতালিয়া, তালতলাসহ প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় বসে এ জুয়ার জমজমাট আসর। জুয়ার এ আসর চলে মধ্যে রাত পর্যন্ত।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ‘শীলং তীর’ নামক জুয়া প্রথমে শুরু হয় সিলেটের সীমান্ত উপজেলা গোয়াইনঘাটে। ধীরে ধীরে তা বিস্তৃত হয় সিলেটের বিভিন্ন স্থানে। স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থী, নারী, কিশোর, দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, গাড়ি চালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ জুয়ায় জড়িয়ে সর্বস্ব বিলিয়ে দিচ্ছেন দিনের পর দিন। তবুও নীরব প্রসাশন। তীরের আগ্রাসন থামাতে নেই তেমন কোনো উদ্যোগ। ১০০ টাকায় ৭ হাজার টাকা, এ লোভনীয় লাভের আশায় নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে জুয়ার আস্তানায় আসন গেড়ে বসেছেন অনেকে। ১০ টাকায় ৭০০ টাকা, ২০ টাকায় ১ হাজার ৪০০ টাকা। এ খেলায় টাকার পরিমাণ যত বৃদ্ধি পায় লাভ্যাংশটাও তত বৃদ্ধি পায়।

জানা যায়, এ দেশের এজেন্টদের মাধ্যমে এক থেকে ৯৯ পর্যন্ত নাম্বার বিক্রয় করা হয়। যত মূল্যে বিক্রয় হয় তার ৭০ গুণ লাভ দেওয়া হয় বিজয়ী নাম্বার ক্রয়কারীকে। অর্থাৎ এক টাকায় ৭০ টাকা। একই নাম্বার একাধিক লোকও কিনতে পারেন।

 

"