বাজার দর

খুচরা বাজারে কমেনি পেঁয়াজের দাম, টিসিবিতে ৪৫ টাকা

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

আমদানি ট্যাক্স বাড়ায় দেশের বাজারে ব্যাপক হারে বেড়েছে অতিপ্রয়োজনীয় মসলা পেঁয়াজের দাম। সপ্তাহখানিক আগে এক লাফে বাড়ে কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা। এ অবস্থায় রাজধানীর পাঁচটি স্পটে ট্রাকে ৪৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে সরকারের ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। তবে সেই প্রভাব নেই বাজারে। বিক্রেতারা বরাবরের মতো বলছেন, সরবরাহ কম আর চাহিদা বেশি থাকায় দাম বাড়তি। তবে ভোক্তারা বলছেন, বাজারে সরবরাহ অনেক। সুযোগ বুঝে নানা অজুহাতে দাম বাড়ানো হচ্ছে। এ নিয়ে অনেক ক্রেতা অসন্তোষও প্রকাশ করেন। তবে বাজারে চাল, ডাল, ভোজ্য তেল, গরু ও খাসির মাংসের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর নয়বাজার, শান্তিনগর কাঁচাবাজার, কারওয়ান বাজার, মালিবাগ রেলগেট, মালিবাগ কাঁচাবাজার, খিলগাঁও, শান্তিনগর ও সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

এসব বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ দেশি ৭০ টাকা, হাইব্রিড (মোটা) ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা যায়। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি পেঁয়াজ দেশি ৮০ টাকা, হাইব্রিড (মোটা) ৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে দু-এক দিনের মধ্যেই সেটা ৭০ টাকায় নেমে আসে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা মো. খালেক বলেন, বাজারে একের পর এক নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। পেঁয়াজের দাম এক সপ্তাহ ধরে বাড়তি। সবজিতেও হাত দেওয়া যাচ্ছে না। ৫০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। এভাবে চলতে থাকলে না খেয়ে থাকতে হবে।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ দিন দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৬৮-৭০ টাকা কেজি। তবে বড় সাইজের দেশি পেঁয়াজ ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। আর ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৬০-৬৫ টাকা।

অপর এক বিক্রেতা মো. সোনাই আলী বলেন, সপ্তাহ ধরে বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়তি, এটা ঠিক। তবে দু-এক দিনের মধ্যে মিয়ানমার থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ ঢাকার বাজারে আসবে। তখন দেশি ও ভারতীয় পেঁয়াজের দাম কমবে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতি হালি ফার্মের ডিম বিক্রি হয়েছে ৩৮-৪০ টাকা, যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয় ৩৪-৩৫ টাকা।

নয়াবাজারে ডিম কিনতে আসা রকিবুল বলেন, এলাকার মুদির দোকানে ডিম কিনতে গিয়ে দেখি দাম বাড়তি। আশা ছিল বাজারে একটু কমে পাব। কিন্তু এখানেও বাড়তি দাম। তিনি বলেন, মাছ-মাংস ও সবজির দাম অনেক। ডিম দিয়ে যে একবেলা ভাত খাব তারও উপায় নেই। এখন ডিমের দামও বাড়ছে।

ডিম বিক্রেতারা বলছেন, সপ্তাহ ধরে পাইকারি বাজারে ডিমের সরবরাহ কম। কিন্তু চাহিদা বেশি। যার কারণে দাম বাড়ছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, শীতের আগাম সবজি শিম বিক্রি হয়েছে কেজি ১০০-১২০ টাকা। তবে একটু বড় আকারের শিম বিক্রি হয়েছে ১৩৫-১৪০ টাকা। প্রতিটি ফুলকপি বিক্রি হয়েছে ৪০-৫০ টাকা। মুলা বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা কেজি। ছোট আকারের লাউ প্রতিটি ৭০-৮০ টাকা। পাকা টমেটো মান ও আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা কেজি, গাজর ৭০-৮০ টাকা, করলা ৬০-৭০ টাকা কেজি।

নয়াবাজারের সবজি বিক্রেতা মো. আরিফ বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরেই সবজির দাম বেশ চড়া। লাভের আশায় কৃষক শীতের আগাম সবজি চাষ করেছেন, যা বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, পাইকারি বাজার থেকে এসব সবজি বেশি দাম দিয়ে আনা হয়েছে। তাই বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দামে। শান্তিনগর কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা আয়শা বেগম বলেন, বাজারে শীতের সবজি পাওয়া যাচ্ছে। এক কেজি শিম কিনেছি ১২০ টাকায়। বিক্রেতারা সরবরাহ কম এমন অজুহাতে দাম বাড়াচ্ছেন। কিন্তু বাজারে সরবরাহ অনেক। এ বিষয়ে বাজার মনিটরিং সদস্যদের অভিযান পরিচালনা করা দরকার বলে মনে করেন তিনি। এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। গত সপ্তাহে এক কেজি ওজনের ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৩০-১৪০ টাকা। লাল লেয়ার মুরগি ২২০-২৩০ টাকা, পাকিস্তানি কক ২২০-২৫০ টাকা কেজি, গরুর মাংস ৫৫০-৫৭০ টাকা ও খাসির মাংস ৭৫০-৮৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

বাজারভেদে এক কেজি ইলিশ ১১০০-১২০০ টাকা, ৯০০ গ্রামের প্রতি পিস ইলিশ ১০০০, ৮০০ গ্রামের ৮৫০-৯০০, ৭০০ গ্রামের ৭০০-৭৫০ ও ৫০০ গ্রামের প্রতি পিস ইলিশ ৩০০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া অন্যসব মাছ গত সপ্তাহের দামে বিক্রি হয়। প্রতি কেজি তেলাপিয়া ১৪০-১৫০ টাকা, পাঙ্গাশ ১৫০-১৬০, চাষের রুই ৩৫০-৪০০, পাবদা ৬০০-৭০০, টেংরা ৬০০-৭০০, শিং ৪০০-৫৫০, বোয়াল ৫০০-৭০০, চিংড়ি ৬০০-৮০০ এবং চিতল ৫০০-৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।

এদিকে এক মাসের ব্যবধানে মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণার দামও বেড়েছে। রাজধানীর বাজারে স্বর্ণা চাল মানভেদে বিক্রি হয়েছে ৩৫-৪৪ টাকা, যা গত মাসে বিক্রি হয়েছে ৩৪-৩৮ টাকা। এ বিষয়ে মালিবাগ বাজারের খালেক রাইস এজেন্সির মালিক মো. দিদার হোসেন বলেন, পাইকারিতে মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা জাতের চালে দাম বেড়েছে। মোকাম পর্যায়ে মিলাররা দাম বাড়িয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে পাইকারি ও খুচরা বাজারে।

 

"