চট্টগ্রামে হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের সুইমিং পুল

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

তাজুল ইসলাম পলাশ, চট্টগ্রাম

এক সময় এই নদী মাতৃক বাংলাদেশে সাঁতার না জানা লোক খুঁজে পাওয়া যেত না। এখন প্রকৃতি থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন এই নগর জীবনে সাঁতার জানার সুযোগ কম। ফলে শিশুরাই শুধু নয়, নগর জীবনে বড়দের অনেকেও সাঁতার জানেন না। চট্টগ্রাম নগরীতে সাঁতার শেখার তেমন কোনো সুযোগ নেই। বাড়তে থাকা আবাসনের চাপে পুকুর-দীঘির অধিকাংশই ভরাট হয়ে গেছে। যেগুলো রয়েছে সেগুলোরও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা নেই। বর্ষা মৌসুমে প্রবল বৃষ্টিতে ডুবে যায় নিচু এলাকা। পানি এমনই প্রবাহিত হয় যে, সড়ক আর ড্রেন আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাছাড়া ছুটিতে সাঁতার না জানা শিশুদের নিয়ে শহরের বাইরে যাওয়া অভিভাবকরাও সবর্দা থাকেন উদ্বিগ্ন। নগরীতে এবং নগরীর বাইরে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনাও অনেক।

এই অবস্থা বিবেচনায় চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন আউটার স্টেডিয়ামে নির্মিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের সুইমিং পুল। গত ১০ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল সুইমিংপুলের উদ্বোধন করেন। এরপর সাঁতারদের জন্য পুলটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। সুইমিং পুল নির্মাণ খরচ ধরা হয়েছে ১১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা ওই সুইমিং পুল নির্মাণ করেছে।

চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা (সিজেকেএস) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের মার্চে চট্টগ্রামে প্রথম আন্তর্জাতিক মানের সুইমিং কমপ্লেক্সটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে নির্মিত হওয়া এ সুইমিং কমপ্লেক্সে রয়েছে ৫০ মিটার দৈর্ঘ্য, ২২ মিটার প্রস্থ এবং ১.৮ মিটার গভীর ৮ লাইনের একটি সুপেয় পানির সুইমিং পুল।

এছাড়াও আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সুইমিং কমপ্লেক্সটিতে থাকছে খেলোয়াড়দের জন্য অত্যাধুনিক ড্রেসিং রুম, প্লেয়ার্স লাউঞ্জ, ১ হাজার ৫০০ দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন গ্যালারি, বিশুদ্ধ পানির পিউরিফিকেশন প্ল্যান্ট, ডিপ টিউবওয়েল, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য ২৫০ কেভির বিদ্যুৎ সাবস্টেশন এবং নিজস্ব পার্কিংয়ের ব্যবস্থা।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘সুইমিং পুল করতে গিয়ে অনেকের বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছিলাম। কেন বিরোধিতা, সেটি আমার কাছে বোধগম্য নয়। অথচ এই সুইমিং পুল থেকে লাভবান হবে চট্টগ্রামের মানুষ। এরই মধ্যে সুইমিং পুলে সাঁতার শিখতে কয়েক হাজার আবেদন জমা পড়েছে। ১১টি সেশনে দিনে ১১ ঘণ্টা ২১ জন প্রশিক্ষক তাদের সাঁতার শেখাবেন। ছেলে ও মেয়েদের জন্য আলাদা প্রশিক্ষক রয়েছে। এখানে প্রতিবন্ধীদের জন্য ফ্র্রি সাঁতার শেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া সীমিত আয়ের মানুষের জন্যও ফ্রিতে সাঁতার শেখানো হবে। সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে আমাদের এ উদ্যোগ।’

সুইমিং কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম জামান বিল্ডার্সের প্রজেক্ট ডিরেক্টর মো. আরমান চৌধুরী জানান, পুরুষ মহিলা আলাদা করে সাঁতার শেখাতে দক্ষ প্রশিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এনএসসির সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার জাহিদ হোসেন জানান, দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরগুলোতে সুইমিং কমপ্লেক্স থাকলেও চট্টগ্রামে এত দিন ছিল না। সূত্র জানায়, প্রতিদিন ১১ শিফটে চলবে সাঁতার প্রশিক্ষণ এবং সুইমিং পুল ব্যবহার। সকালের সেশনে সর্বাধিক ৫টি শিফট রাখা হয়েছে। যার শুরু হবে সকাল ৭টা থেকে। আর শেষ হবে দুপুর ১২টায়। প্রতিটি সেশন হবে এক ঘণ্টার। সকালের ৫টি সেশন ছেলেমেয়েদের জন্য। দুপুরে দুটি সেশন রাখা হয়েছে শুধু মহিলাদের জন্য। দুপুর ১টা থেকে ২টা এবং ২টা থেকে ৩টা এই দুইটি সেশন কেবল মহিলাদের জন্য। বিকালে রয়েছে তিনটি সেশন। যা কেবল পুরুষদের জন্য। বিকাল ৪টা থেকে ৫টা, ৫টা থেকে ৬টা এবং ৬টা থেকে ৭টা। এছাড়া সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত রাখা হয়েছে একটি সেশন। আর সেটা কেবল যারা সাঁতার জানে তাদের জন্য।

প্রথম ক্যাটগরিতে এক মাসের সাঁতার শেখার কোর্সের ফি ধরা হয়েছে তিন হাজার টাকা। প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে সাঁতার শিখতে পারবেন তারা। সপ্তাহে চার দিন সাঁতারের সুযোগ পাবেন শিক্ষানবিসরা। দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে সরকারি কর্মকর্তা, সিজেকেএস কর্মকর্তা, কাউন্সিলর, তাদের সন্তান সন্তুতি এবং ক্রীড়া সাংবাদিক। তাদের বেলায় এক মাসের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে দুই হাজার টাকা। প্রতিদিন দেড় ঘন্টা করে সাঁতার কাটা যাবে। সপ্তাহে চারদিন। এছাড়া যারা ঘন্টা হিসেবে সাঁতার কাটতে চাইবে তাদেরকে প্রতি ঘন্টা সাঁতার কাটার জন্য ১৫০ টাকা প্রদান করতে হবে। তৃতীয় ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে বিভিন্ন ইভেন্টের জাতীয় দলের খেলোয়াড় ও জেলা দলের খোলেয়াড়দের। তাদেরকে প্রতি ঘন্টা সাঁতার কাটার জন্য খরচ করতে হবে দুই শত টাকা। তারাও সপ্তাহে চারদিন সাঁতার কাটতে পারবে। এছাড়া চতুর্থ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে সর্ব সাধারনকে। তাদের বেলায় একমাসের সদস্য পদ নিতে খরচ করতে হবে তিন হাজার টাকা। আর ছয় মাসের সদস্য পদের জন্য খরচ করতে হবে ১৫ হাজার টাকা। এছাড়া যারা ঘন্টা হিসেবে সাঁতার কাটতে চাইবে তাদের প্রতি ঘন্টার জন্য খরচ করতে হবে দুই শত টাকা। তারাও সপ্তাহে চারদিন সাঁতার কাটার সুযোগ পাবে। প্রতিটি ব্যাচে ৩০ জন ভর্তি করা হবে। এছাড়া যারা নাটক কিংবা সিনেমার শ্যুটিং করতে চাইবে তাদেরকে প্রতি দুই ঘন্টার জন্য দশ হাজার টাকা প্রদান করতে হবে। সিজেকেএস কোষাধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন মোঃ জাহাঙ্গীর জানান সুইমিং পুলের জন্য আলাদা হিসাব বিভাগ থাকবে। সেখানে ভর্তি হওয়ার পর প্রত্যেক সদস্যকে কার্ড প্রদান করা হবে। আর তাতেই লেখা থাকবে কে কোন সময়ে সুইমিং করতে পারবে।

 

"