কমছে না সবজির দাম

পাইকারি ও খুচরা সবজি বিক্রিতে ব্যবধান দ্বিগুণ

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিনই রাজধানী ঢাকায় প্রবেশ করছে নানা ধরনের শাকসবজি। এসব পণ্য পচনশীল হওয়ায় দিনভেদে দামের পার্থক্য থাকে প্রতিনিয়ত। তবে, এ চিত্র শুধু পাইকারি বাজারের, খুচরা বাজারের অবস্থা একেবারে ভিন্ন। সেখানে পণ্যের দাম একবার বাড়লে কমার সম্ভাবনা ক্ষীণ। গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে চাল, ডাল, ভোজ্য তেল ও ডিম।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বেশ কয়েকটি পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে এমনটাই দেখা গেছে। বাজারভেদে শাকসবজির দামের ব্যবধান দ্বিগুণ বা তার চেয়েও বেশি।

এদিন কারওয়ান বাজারের পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পটোল বিক্রি করতে দেখা গেছে ২২ থেকে ২৫ টাকা, ঝিঙা ৩০ থেকে ৩২, করলা ২২ থেকে ২৪, কাঁকরোল ২৫ থেকে ৩০, বেগুন ৩০ থেকে ৫০, ঢেঁড়স ২০ থেকে ২২, শসা ২৫ থেকে ৩৫, কচুর ছড়া ৩০, কচুর লতি ২৫ থেকে ৩০ এবং পেঁপে ১০ থেকে ১৫ টাকায়। প্রতি পিস বাঁধাকপি ১২ থেকে ১৫ টাকা, ফুলকপি ১০ থেকে ১২, কলা হালি ১০ থেকে ১৫, লাউ প্রতি পিস ২৫ থেকে ৩০ এবং জালি কুমড়া ২০ থেকে ২৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে, পাইকারি এ বাজার থেকে খিলগাঁও, মালিবাগ, শান্তিনগর, সেগুনবাগিচা বাজারে দামের ব্যবধান পণ্যভেদে দুই থেকে তিন গুণ। সেখানে প্রতি কেজি পটোল বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ঝিঙা ৫০ থেকে ৮০, করলা ৫০ থেকে ৬০, কাঁকরোল ৬০ থেকে ৮০, বেগুন ৬০ থেকে ১০০, ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৫০, শসা ৬০ থেকে ১০০, কচুর ছড়া ৬০, কচুর লতি ৬০ থেকে ৮০ এবং পেঁপে ৩০ থেকে ৫০ টাকায়। আর প্রতি পিস বাঁধা ও ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কলার হালি ২৫ থেকে ৪০, লাউ প্রতি পিস ৪৫ থেকে ৭০ এবং জালি কুমড়া ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। এসব বাজারে প্রতি কেজি টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা, গাজর ৯০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা পাইকারি বাজারের চেয়ে ২০ থেকে ৪০ টাকা বেশি।

এ ছাড়া, বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের শাক। পাইকারি প্রতি আঁটি লালশাক ১০ থেকে ১৫ টাকা, মুলা ১৫ থেকে ২০, লাউশাক ৩০ থেকে ৪০, কুমড়ার শাক ২৫ থেকে ৩৫, পুঁইশাক ২০ থেকে ৩০ এবং কলমিশাক ১০ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।

বাজারভেদে বাড়তি দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়তি। আর ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে পণ্যের অভাব না থাকলেও বিক্রেতারাই কারসাজি করে দাম বাড়াচ্ছেন।

শাহিন সুমন নামে শান্তিনগর বাজারের এক ক্রেতা বলেন, বাজারে কোনো পণ্যের অভাব নেই, তবু বাড়তি দাম। এর পেছনে ব্যবসায়ীদের কারসাজি রয়েছে। বাজার মনিটরিং করা হলে অবশ্যই সব পণ্যের দাম কমে আসত।

মজিবর রহমান নামে খিলগাঁও বাজারের এক সবজি বিক্রেতা বলেন, পাইকারি বাজারে মালের সরবরাহ কমায় সেখানকার বাড়তি দামের প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। তবে, এ প্রতিবেদক তাকে পাইকারি বাজারের দামের তালিকা বললে মুহূর্তেই পাল্টে যায় সুর। তিনি বলেন, আসলে পাইকারি বাজার থেকে মাল আনতে দুই জায়গায় বাড়তি টাকা দিতে হয়, গাড়ি ভাড়া বেশি, দোকান ভাড়া-কর্মচারীর খরচ আছে। এ জন্য কিছুটা বাড়তি দাম রাখা হয়, তবে খুব বেশি না। কারওয়ান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী রফিক বলেন, সবজি পচনশীল হওয়ায় দাম প্রতিদিনই কমবেশি হয়। আজ দাম কম, কাল বেশি হতে পারে। তবে, খুচরা বাজারে দাম বাড়লে তারা আর কমাতে চান না।

এদিকে, পেঁয়াজের দাম দু-তিন দিন আগে কেজিপ্রতি ৫ টাকা কমলেও আবার ফিরে গেছে আগের দামেই। বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০, দেশি রসুন ১৭০ থেকে ১৮০, ভারতীয় রসুন ১৮০ এবং আদা ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

তবে, অপরিবর্তিত রয়েছে মাংসের বাজার। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং খাসির মাংস ৭২০ থেকে ৭৮০ টাকায়। সোনালি মুরগি ৪৫০ থেকে ৫০০ গ্রাম প্রতি হালি ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকা, ব্রয়লার ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

"