চট্টগ্রাম শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে ৮ মাসে ১৬ শ্রমিকের মৃত্যু

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামে চলতি বছরে শুধু আট মাসে ১৬ শ্রমিকের দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে, জাহাজ ভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরাম। শ্রমিকের প্রাণহানি মোকাবিলা করে কারখানাগুলোতে নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টিতে ১০ দফা দাবি দিয়েছে সংগঠনটি। সাত দিনের মধ্যে দাবি মেনে না নিলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।

গত বুধবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক শফর আলী। লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, চট্টগ্রামের সীতাকু-ে বঙ্গোপসাগর উপকূলে ১৫০টির বেশি শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের নিবন্ধন আছে। কিন্তু কাজ চলছে ৫০ থেকে ৬০টি ইয়ার্ডে। এসব কারখানায় সরাসরি কাজ করেন প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক। পরোক্ষভাবে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত সাড়ে তিন বছরে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ৬৬ জন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিন বছরে প্রাণ হারিয়েছেন ৫০ জন। আর ২০১৯ সালের গত আট মাসে প্রাণ হারিয়েছেন ১৬ জন ও মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন ৩০ জন। ২০১৯ সালে নিহতদের মধ্যে জাহাজ কাটার সময় আগুনে দগ্ধ ও গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯ জন। লোহার পাতে চাপা পড়ে মারা গেছেন পাঁচজন।

শফর আলী বলেন, ‘২০১৯ সালে শ্রমিকের মৃত্যু অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। একজন শ্রমিকের মৃত্যুর দায়ও শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের মালিকরা এড়াতে পারেন না। অথচ মালিকদের বিরুদ্ধে কখনোই কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, অনেক শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের লাইসেন্সও নেয়নি। ঝুঁকি নিরসনে তাদের কোনো পদক্ষেপই নেই।

সংবাদ সম্মেলনে নিহত জাহাজ ভাঙা শ্রমিকের প্রত্যেকের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং এ পর্যন্ত সংঘটিত সব দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে উদ্ঘাটন ও দায়ী ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ ১০ দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে এসব দাবি মেনে নেওয়া না হলে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।

"