হাতিরঝিলের আদলে সাজছে বুড়িগঙ্গা

নদী পারাপারে চালু হচ্ছে ওয়াটার বাস

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

আদি বুড়িগঙ্গা উদ্ধার করে হাতিরঝিলের আদলে সাজাতে কাজ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, আদি বুড়িগঙ্গাকে আগের রূপে ফেরানো সম্ভব হলে বদলে যাবে ঢাকার একটি অংশ। এদিকে, যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে বুড়িগঙ্গা নদী পারাপারে সদরঘাট ও কেরানীগঞ্জের মধ্যে শিগগিরই চারটি ওয়াটার বাস চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) উন্নয়ন, আর্থিক ও প্রশাসনিক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বুড়িগঙ্গার দ্বিতীয় চ্যানেলটি আদি বুড়িগঙ্গা নামে পরিচিত। ব্রিটিশ আমলে এই চ্যানেলে নোঙ্গর করতো জাহাজ। এখন আর দেখে বোঝার উপায় নেই আগের সেই প্রবহমানতা।

বুড়িগঙ্গার দ্বিতীয় চ্যানেলের পুরোটাই দখল আর দূষণের কবলে। চ্যানেলের দুটি শাখার একটি এরইমধ্যে বিলুপ্ত, অন্যটি উদ্ধারে পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। উৎসমুখ থেকে লোহারপুল পর্যন্ত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ।

বুড়িগঙ্গার দ্বিতীয় চ্যানেলটি উদ্ধার করতে ১৩ সদস্যের কমিটি ও আট সদস্যের উপকমিটি গঠন করা হয়েছে চলতি বছরের জানুয়ারিতে। সীমানা নির্ধারণ, দখলদারদের তালিকা তৈরির কাজ করছে এ কমিটি। বর্জ্য অপসারণ ও দখল উচ্ছেদ করে চ্যানেলটি পুনরুদ্ধারের পর হাতিরঝিলের আদলে বিনোদন পার্ক, সবুজায়ন করা হবে বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেলে। সচল হবে নৌপথও। কর্মকর্তারা বলছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চললে এ বছরই নতুন রূপ নিতে শুরু করবে আদি বুড়িগঙ্গা।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে অন্যদের মধ্যে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুস সামাদ এবং বিআইডব্লিউটিসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, বিআইডব্লিউটিসির ১২টি ওয়াটার বাস রয়েছে। এর মধ্যে বুড়িগঙ্গা নদীতে পর্যটন কাজে ব্যবহারের জন্য একটি ওয়াটার বাস একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের কাছে চার্টার দেওয়া হয়েছে। বাকি ১১টি গাবতলী থেকে ওয়াইজঘাট এবং নারায়ণগঞ্জ থেকে টঙ্গী রুটে চলাচল করছে। সেগুলোর মধ্যে থেকে চারটি ওয়াটারবাস সদরঘাট ও কেরানিগঞ্জের মধ্যে বুড়িগঙ্গা নদী পারাপারে ব্যবহৃত হবে।

বিআইডব্লিউটিসির সব যাত্রীবাহী জাহাজ ও ফেরি সার্ভিসে যাত্রীসেবার মান বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সংস্থার স্থাবর সম্পত্তির যথাযথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও বেশি সচেতন থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সভায় জানানো হয়, বিআইডব্লিউটিসির চারটি কন্টেইনার জাহাজ এমভি উদয়ন, এমভি উদ্দীপন, এমভি উত্তরণ ও এমভি উন্নয়ন এক্সপ্রেস ২০১৮ সালের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সাড়ে চার কোটি টাকা আয় করেছে। এই সময়ে জাহাজগুলোর অপারেশনাল ব্যয় হয়েছে দু’কোটি ৪০ লাখ টাকা। জাহাজ চারটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৫১ কোটি টাকা। কন্টেইনার জাহাজগুলোর নিয়মিত সার্ভিস পরিচালনার মাধ্যমে আয় বাড়ানোর ওপর বৈঠকে গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় জানানো হয়, বিআইডব্লিউটিসি ২০১৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ এর আগস্ট পর্যন্ত ছয়টি ফেরিরুটে ওয়েব্রিজ স্কেল (ওজন মাপার স্কেল) থেকে ৯৭ কোটি টাকা এবং রেকার থেকে ২০১৯ এর আগস্ট মাসে এক কোটি টাকা আয় করেছে। বিআইডব্লিউটিসি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১০টি ফেরি রুটে ৩০ লাখ ৪৮ হাজার ৬২৯টি বাস, ট্রাক ও হালকা যানবাহন পারাপার করেছে। বর্তমানে ৪৫টি ফেরি চালু রয়েছে। আরও ১২টি ফেরি সংগ্রহ এবং ১৯টি নতুন ফেরিরুট সমীক্ষার কাজ চলমান।

 

 

"