চট্টগ্রামে আউটার রিং রোডের মূল সড়ক খুলছে ডিসেম্বরে

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম নগরীকে যানজটমুক্ত করতে গ্রহণ করা হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৪২৬ কোটি টাকা ব্যয়ের আউটার রিং রোড নির্মাণের মেগা প্রকল্প। প্রকল্পটিকে চট্টগ্রামের উন্নয়নে নগরবাসীকে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অন্যতম উপহার হিসেবে দেখা হচ্ছে। আউটার রিং রোডের ১৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে মূল সড়কটি খুলে দেওয়া হবে আগামী ডিসেম্বরেই। তখন নগরবাসী যানজটের ভোগান্তি থেকে অনেকটা নিষ্কৃতি পেতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পটির বাস্তবায়নকারী সংস্থা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। রোডটি খুলে দেওয়ার বিষয়ে সিডিএ-এর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস গত রোববার প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘মহানগরীর যানজটের কথা চিন্তা করে সিডিএ-এর চেয়ারম্যান মো. জহিরুল আলম দোভাষের নির্দেশক্রমে আউটার রিং রোড প্রকল্পের পতেঙ্গা থেকে সাগরিকা পর্যন্ত বেড়িবাঁধ সড়কটি আগেই খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এতে নগরীর যানজট অনেকটাই কমবে আশা করছি।’

এই রিং রোডের শেষপ্রান্ত কর্ণফুলীর তলদেশে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু টানেলের সঙ্গে যুক্ত হবে। ফলে দক্ষিণ চট্টগ্রাম তথা টেকনাফ, কক্সবাজার ও বান্দরবানের লোকজন চট্টগ্রাম শহরের ভেতরে প্রবেশ না করেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিভিন্ন যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে।

সিডিএ সূত্রে জানা গেছে, উপকূলীয় বাঁধ কাম আউটার রিং রোড প্রকল্পের আওতায় অন্যান্য অংশের কাজ শেষ হওয়ার আগেই এটি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। তা ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহসড়কের সীতাকু- অংশ থেকে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর এলাকা পর্যন্ত চলাচলরত কার্গো পরিবহনের জট কমাতে বিকল্প সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হবে। রিং রোডটি ৩০ ফুট উচ্চতা ও ১০০ ফুট চওড়া বাঁধ হওয়ায় পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকার জনসাধারণকে জোয়ারের পানি থেকে রক্ষায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে। রিং রোডে ১১টি সøুইচগেট রয়েছে এবং শক্তিশালী ঢেউ মোকাবিলা করার জন্য থাকছে সুরক্ষিত প্রাচীর। পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত মূল সড়কটির সঙ্গে শহরের যোগাযোগব্যবস্থা নির্বিঘœ করতে পতেঙ্গা র‌্যাব-৭ রোড, পোর্ট টোল রোড এবং সাগরিকা রোডের সঙ্গে ফিডার রোডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সিইপিজেডের সঙ্গে রিং রোডের সরাসরি সংযোগ থাকায় সিইপিজেডের সামনের যানজটও কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে, আউটার রিং রোডের পতেঙ্গা নেভাল অংশে এগিয়ে চলছে কর্ণফুলীর তলদেশে টানেল নির্মাণের কাজ। আর তা নির্মিত হলে কক্সবাজারমুখী তথা দক্ষিণ চট্টগ্রামের গাড়িগুলো সহজেই আউটার রিং রোড ব্যবহার করে টানেল হয়ে সহজেই বান্দরবান, কক্সবাজার ও টেকনাফের দিকে যাতায়াত করতে পারবে।

সিডিএ সূত্র জানায়, নির্মাণকাজ শেষ হলে শহর রক্ষা বাঁধ চার গুণ বেশি শক্তিশালী হবে। এখন যেখানে বাঁধটি ২০ ফুট উঁচু, তখন তা হবে ৩১ থেকে ৩৩ ফুট। বাঁধের নিচের অংশে চওড়া হবে ২৫০ থেকে ৩০০ ফুট এবং ওপরে এর প্রশস্ততা থাকবে ৮০ থেকে ৮৪ ফুট। বর্তমানে তা ১৬ থেকে ২৪ ফুট।

উপকূলীয় বাঁধ কাম আউটার রিং রোড নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ১৭ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার সড়কটির মধ্যে ১৫ দশমিক ২০ কিলোমিটার মূল ও ২ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক। এ ছাড়া প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে তৈরি করা হচ্ছে।

সিডিএ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত বেড়িবাঁধের ওপর আউটার রিং রোড নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করে। শুরুতে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৮৬৫ কোটি ২৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা। দুবার সংশোধনের পর বর্তমানে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪২৬ কোটি ১৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ১ হাজার ৭২০ কোটি ১১ লাখ ৮০ হাজার ও জাপানি সাহায্য সংস্থা জাইকার সহায়তা ৭০৬ কোটি টাকা। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়ন হতে যাওয়া প্রকল্পটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্পেকট্রা ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড।

জানা গেছে, রিং রোড প্রকল্পের আওতায় পর্যটন শিল্পকে গুরুত্ব দিয়ে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত থেকে হালিশহরের দিকে পাঁচ কিলোমিটারজুড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে স্পেশাল পর্যটন জোন। এখানে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। বহির্বিশ্বের বিচগুলোতে দর্শনার্থীরা যেসব সুযোগ-সুবিধা পান, সেই আলোকে সাজানো হচ্ছে পতেঙ্গা সি-বিচকে। এটি বাস্তবায়িত হলে একসঙ্গে প্রায় ১০ হাজার দর্শনার্থী পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে এসে সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবে।

 

 

"