শাহজালাল বিমানবন্দর

লাগেজ চুরিতে যাত্রীরাও জড়িত

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ গায়েবের ঘটনায় জড়িত যাত্রীরাও। গত চার মাসে ২৪২টি ঘটনার ১১টিতে মিলেছে তাদের সংশ্লিষ্টতা। এ তথ্য দিয়েছে এপিবিএন। অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞের মতে, প্রতিটি লাগেজের ট্যাগ চেক করতে প্রযুক্তি কিংবা এয়ারলাইন্সে লোক নিয়োগ করতে হবে। তাহলে এ ধরনের অপরাধ কমে আসবে।

জানা যায়, গত ২৭ জুলাই বিকাল ৩টা ৩৫ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজের অপেক্ষায় ছিলেন ইতালি থেকে ফেরা এক বাংলাদেশি। কিছুক্ষণ পর লাগেজ নিয়ে স্বপরিবারে ত্যাগ করলেন বিমানবন্দর। আপাত দৃষ্টিতে এ পর্যন্ত ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু সপ্তাহ খানেক বাদে সামনে এলো আসল ঘটনা। ওই ফ্লাইটে আসা বেলজিয়াম প্রবাসী জাবের উদ্দিন তার লাগেজ হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) কাছে।

জাবের উদ্দিনের অভিযোগে পরিপ্রেক্ষিতে ওই দিনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এপিবিএন। যোগাযোগ করে ইতালি ফেরত ওই যাত্রীর সঙ্গে। প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেখানো হলে লাগেজ নেওয়ার কথা স্বীকার করেন তিনি। তবে, লাগেজের মালামাল ফেরত দিলেও সরিয়ে ফেলেন প্রায় ৪০ হাজার ইউরো, বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩৮ লাখ। পরে চাপে পড়ে ফেরতও দেন।

শুধু জাবের দম্পতি না, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ কাটা, চুরি নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে সিসি ক্যামেরা ব্যবহার ও নজরদারি বেড়েছে। এরপরও লাগেজ চুরি হচ্ছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভুলবশত অনেক যাত্রী আরেকজনের লাগেজ নিয়ে যাচ্ছেন। অনিচ্ছাকৃত ভুলের পাশাপাশি চুরির ঘটনাও ঘটছে। লাগেজ না পেয়ে প্রথমে বিমানবন্দর ও এয়ারলাইনস কর্মীদের দিকেই অভিযোগ যাত্রীদের। এপ্রিল থেকে আগস্টে কমপক্ষে ১১ যাত্রীর কাছ থেকে অন্য যাত্রীর লাগেজ উদ্ধার করেছে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একই রকম লাগেজ হওয়ায় অনেক যাত্রী ট্যাগ চেক না করে অন্য যাত্রীর ল্যাগেজ নিয়ে চলে যায়। এসব ক্ষেত্রে ভোগান্তি হলেও যাত্রীরা লাগেজ ফেরত পান। কখনো কখনো ভুলে বিমানবন্দরে ব্যাগ ফেলে যান যাত্রীরা। তবে অনেক যাত্রী লাগেজ বেল্ট থেকে অন্য যাত্রীর লাগেজ চুরি করে নিয়ে যান।

এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত ১৪২ জনকে লাগেজ ফেরত দিয়েছে আর্মড পুলিশ।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দরে দেশি-বিদেশি ৩৯টি এয়ারলাইনসের ফ্লাইট পরিচালিত হয়। এসব এয়ারলাইনসের দিনে গড়ে ২৫০টি ফ্লাইট ওঠানামা করে। এর মধ্যে ১৩০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ওঠানামা করছে। যাত্রীদের লাগেজ দ্রুত পেতে নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজন, জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে। অন্যদিকে বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে বাড়ানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। বিমানবন্দরের কর্মরত কর্মী, ল্যাগেজ হ্যান্ডলিংকর্মীদের ওপর বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। বিমান থেকে নামার পর তাদের শরীর তল্লাশি করা হয়। এরপরও কারো যাত্রী হয়রানি, চুরির সঙ্গে সম্পৃক্ততা ধরা পড়লেই চাকরিচ্যুত করাসহ নেওয়া হচ্ছে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।

বিমানবন্দরে লাগেজের অপেক্ষায় যাত্রীরা বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন্স অ্যান্ড মিডিয়া) আলমগীর হোসেন বলেন, পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। ভুলে ফেলে যাওয়া বা হারানো হোক, ব্যাগ যাত্রীর কাছে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখে শনাক্ত করেছি এক যাত্রী অন্য যাত্রীর ব্যাগ নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। কেউ ভুলে নিয়ে যাচ্ছেন, আবার কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে। এ রকম ঘটনায় যাত্রীদের অভিযোগ পেলে আমরা লাগেজ উদ্ধার করে দিচ্ছি।

রিজেন্ট এয়ারওয়েজের সহকারী মহাব্যবস্থাপক কে এম জাফরুজ্জামান বলেন, বিশ্বের সব বিমানবন্দরে যাত্রীরা ট্যাগ মিলিয়ে নিজেদের ব্যাগ লাগেজবেল্ট থেকে সংগ্রহ করেন। কিন্তু আমাদের বিমানবন্দরে অনেক যাত্রী ট্যাগ চেক করেন না। ফলে অনেকেই একই রকম দেখতে আরেক যাত্রীর ব্যাগ নিয়ে চলে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, নতুন আইনে জরিমানার হার বেড়েছে। এ কারণে এখন আমাদের সব যাত্রীকে চেক করতে হচ্ছে। এ কাজের জন্য জনবল বাড়াতে হয়েছে। আবার চেক করার কারণে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তিও হচ্ছে। কিন্তু কে চুরি করছে, কে ভুল করে অন্য যাত্রীর ব্যাগ নিচ্ছে এটা নিশ্চিত হয়ে ব্যাগ হস্তান্তর করা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায়ও নেই।’

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন আবু সাঈদ মেহবুব খান বলেন, গত তিন মাসে বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ কাটা হয়েছে এমন অভিযোগ আসেনি। বিমানবন্দরের সর্বত্র সিসি ক্যামেরা আছে। এগুলো ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং হয়। ফলে কেউ চুরি করলে ধরা পড়বে।

"