দুই সিটির বাজেট পর্যালোচনায় বিআইপি

টেকসই উন্নয়নে ওয়ার্ডভিত্তিক বাজেট দেওয়া প্রয়োজন

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরের টেকসই ও সুষ্ঠু উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ওয়ার্ডভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করার সঙ্গে সঙ্গে বাজেট বরাদ্দের ওয়ার্ডভিত্তিক ম্যাপিং করা প্রয়োজন। স্থানীয় পর্যায়ে সুষ্ঠু নাগরিকসেবা নিশ্চিত করতে ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সিটি করপোরেশনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

গতকাল শনিবার নগর পরিকল্পনাবিদদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) নিজস্ব কার্যালয়ে ‘ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২০১৯-২০ অর্থবছরের ঘোষিত বাজেট পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনাবিদরা উপরোক্ত মতামত দেন।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. এ কে এম আবুল কালামের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে বিআইপির সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ঘোষিত বাজেটের ওপর পর্যালোচনাগুলো উপস্থাপন করেন। ড. আদিল বলেন, সিটি করপোরেশনের বাজেট বরাদ্দ ও প্রকল্প প্রণয়নে এলাকাভিত্তিক এবং ওয়ার্ডভিত্তিক সুষম উন্নয়নের বিষয়ে দ্রুত নজর দেয়া প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, ওয়ার্ডভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ, ওয়ার্ড প্রোফাইল তৈরি করার মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক নাগরিক সেবা ও অবকাঠামোর বিদ্যমান অবস্থা এবং করণীয়গুলো নির্ধারণের মাধ্যমে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও ওয়ার্ডভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা (পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা) গ্রহণ করে বার্ষিক বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করা। এলাকার প্রকৃত চাহিদা জনমত যাচাই ও জনগণের অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার নিরূপণের মাধ্যমে ওয়ার্ডের জন্য কার্যক্রম/প্রকল্প নির্ধারণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশনের কাছে এলাকাভিত্তিক অভ্যন্তরীণ রাস্তা, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ নাগরিকসেবা সংশ্লিষ্ট সব তথ্য বিস্তারিতভাবে থাকা প্রয়োজন যার ভিত্তিতে সিটি করপোরেশন প্রকল্প গ্রহণ ও বাজেট বরাদ্দ করতে পারে ইত্যাদি সুপারিশ দেওয়া হয়।

বিআইপির সহ-সভাপতি পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেন, সিটি করপোরেশনের বাজেটে এলাকাভিত্তিক সমস্যা সমাধানের প্রতিফলন থাকবে। বর্তমানে বাজেট প্রক্রিয়া গতানুগতিকভাবে চলে আসছে, এতে কোনো নতুনত্ব নেই। কোন এলাকায় কী কী প্রয়োজন তার একটি স্থানিক বিন্যাস থাকা প্রয়োজন। এই বাজেট সরকারি এবং বিদেশি অনুদান নির্ভরশীল। এজন্য আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। নিয়মিত কর ব্যবস্থার মূল্যায়ন এবং কর গ্রহণ প্রথাকে প্রযুক্তিনির্ভর করতে হবে। ভূমি ব্যবহার পরিবর্তনগুলো হালনাগাদ করতে হবে এবং জনগণের কাছে যথাযথ জবাবদিহি থাকতে হবে।

পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. গোলাম মর্তুজা বলেন, সিটি করপোরেশনের বাজেটে স্থানিক বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি। সাধারণ অর্থে বাজেটের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলেও মুদ্রাস্ফীতির বিষয়টি চিন্তা করলে দেখা যায় বাজেটের পরিমাণ আগের মতোই রয়েছে বা এর থেকে কমেছে। বাজেটে উদ্ভাবনী চিন্তাধারার প্রবর্তন করতে হবে। কর দেয়া নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রত্যেকটি সিটি করপোরেশনকে শহরের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বাজেট প্রণয়ন করতে হবে।

সভাপতি পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. এ কে এম আবুল কালাম বলেন, বাজেটে আয়ের পরিমাণ বাড়লে ব্যয়ও বাড়বে। বিগত বছরের বাজেট হতে দেখা যায় প্রস্তাবিত বাজেট এবং সংশোধিত বাজেটের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। প্রতি বছরই সংশোধিত বাজেট কমে যাচ্ছে। স্থানীয় সরকারকে আয় বাড়ানোর দিকে দৃষ্টিপাত করতে হবে। অর্থনৈতিক সক্ষমতা না বাড়ালে উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব নয়।

 

"