এডিস লার্ভা ধ্বংসে দুই সিটির সর্বাত্মক অভিযান অব্যাহত

প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

এডিস লার্ভা ধ্বংসে ঢাকা দুই সিটি করপোরেশন (উত্তর ও দক্ষিণ) অভিযান অব্যাহত রেখেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুই সিটির ৯টি অঞ্চলে একযোগে অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে ৩৭৯টি ভবন পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে আটটি ভবনের মালিককে আর্থিক জরিমানা করা হয়।

ডিএসসিসি সূত্রে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার চারটি অঞ্চলে ১১৮টি বাড়ি পরিদর্শন করা হয়েছে। এর মধ্যে চারটিতে এডিস মশার লার্ভা এবং দুটিতে নোংরা-অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ পাওয়া মোট ৪৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১৯৩ ফকিরাপুলের নির্মাণাধীন একটি ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ১০ হাজার টাকা, ৪৩/১ হাজারীবাগ শেরেবাংলা রোডের বাড়ির ছাদে পরিত্যক্ত টায়ারে এডিসের লার্ভা পাওয়ায় ২৫ হাজার টাকা এবং কেএমদাস লেনের দুটি বাড়িতে লার্ভা জন্মানোর উপযোগী পরিবেশ পাওয়ায় ৫ হাজার ও অভয় দাস লেনের দুটি বাড়িতে নোংরা-অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ বিদ্যমান থাকায় ৪ হাজার টাকাসহ সর্বমোট ৪৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও অঞ্চল ১-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বড় মগবাজার ওয়্যারলেস এলাকার ৩২টি বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেন। ম্যাজিস্ট্রেট বাবর আলি হাজারীবাগ শেরেবাংলা এলাকার ৩০টি বাড়ি, ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ হোসেন ফকিরাপুল এলাকার ২০টি বাড়ি এবং ম্যাজিস্ট্রেট সোনিয়া হাটখোলা রামকৃষ্ণ মিশন কেএম দাস লেন ইত্যাদি এলাকার ৩৬টি বাড়ি পরিদর্শন করেন।

ডিএনসিসি সূত্রে জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার পাঁচটি অঞ্চলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। এডিস মশা নির্মূলের লক্ষ্যে সাড়ে ১০টায় গুলশান-বাড্ডা লিংক রোড থেকে ১১৩নং সড়ক পর্যন্ত ‘এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসকরণ ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান’ (চিরুনি অভিযান) চালানো হয়। এ সময় ১১৩নং সড়কে একটি নির্মাণাধীন ভবনে এবং ‘হাশেম ইলেকট্রিক’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের ছাদে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদ আনোয়ার প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন। এছাড়া ১১৫নং সড়কে ‘হারমোনি হোল্ডিংস’-এর ছাদে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। উল্লেখ্য গতকাল ‘চিরুনি অভিযানে’ ২৬১টি বাড়ি পরিদর্শন করে ১৮টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এ বাড়িগুলোর সামনে ‘সাবধান, এ বাড়িতে/প্রতিষ্ঠানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে’ লেখা স্টিকার লাগানো হয়। গত মঙ্গলবার থেকে গতকাল পর্যন্ত ১৯নং ওয়ার্ডের (গুলাশান-বনানী) মোট ৬৫৮টি বাড়ি পরিদর্শন করে ৫৬টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এছাড়া এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় বারিধারা জে ব্লকে ‘গালফ অটো কারস লিমিটেড’-এর মালিককে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সগীর হোসেন ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

মিরপুরের টোলারবাগে পরিত্যক্ত টায়ারে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় একটি দোকানের মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সালেহা বিনতে সিরাজ। ভাষাণটেকে চারটি দোকানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শফিউল আজম প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল হামিদ মিয়া সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বারিধারা ‘জে’ ব্লকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১৩টি দোকানের ট্রেড লাইসেন্স না থাকায় এবং ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করার অপরাধে মোট ১ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

 

 

"