সিটি করপোরেশনকে মানছে না ঠিকাদাররা

প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্ষা মৌসুমে রাজধানীর অলিগলি, রাজপথে চলছে নির্বিচার খোঁড়াখুঁড়ি। এ যেন খোঁড়াখুঁড়ির নগরী। নিয়ম থাকা সত্ত্বেও সারা বছরজুড়েই চলে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ। সাধারণত বর্ষাকালে বিশেষ করে মে, জুন, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বছরের পাঁচ মাস রাস্তা কাটায় নিষেধ রয়েছে। ঢাকায় কিছু পথ পরপরই কাটা রাস্তা। আর তার ফলে লেগে থাকে দীর্ঘ যানজট। রাস্তার এক পাশ কাটা থাকায় যান চলাচলের জায়গা থাকে বেশ সংকুচিত। অপরিকল্পিত ও অযাচিত খোঁড়াখুঁড়ির কারণে চরম দুর্ভোগের শিকার নগরবাসী। সিটি করপোরেশন বলছে, বর্ষায় রাস্তার খনন কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিলেও মানছেন না অধিকাংশ ঠিকাদার।

ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে অর্থ লোপাটের অভিযোগ তুলে নগরবিদরা বলছেন, গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য নাগরিক সুবিধার ক্ষেত্রগুলো সিটি করপোরেশনের অধীনে না দিলে কোনো সমাধান মিলবে না। বর্ষা মৌসুমে নির্বিচার খোঁড়াখুঁড়িতে জরাজীর্ণ চলার পথ।

পয়ঃনিষ্কাশনের কালভার্ট লাইন বসাতে গিয়ে এই এলাকার প্রায় সবগুলো রাস্তা খুঁড়ে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমের আগে শুরু হয়ে এখনো চলছে কাজ। এতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক চলাচল।

শুধু খিলগাঁও নয়, রাজধানীজুড়েই যত্রতত্র চলছে এই খোঁড়াখুঁড়ি। কোথাও পানির লাইন, কোথাও গ্যাসের আবার কোথাও বা সংস্কার হচ্ছে সুয়ারেজ লাইনের। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সমন্বয়হীন অপরিকল্পিত ও দায়সারা কাজে তৈরি হচ্ছে নতুন সমস্যার। নগরবিদরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে উন্নয়ন কাজের তোড়জোড় উদ্দেশ্যমূলক। এর থেকে পরিত্রাণে সিটি করপোরেশনের হাতে নগর পরিচালনার সব ক্ষমতা দেওয়ার তাগিদ তাদের।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর ২ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ সড়কের অধিকাংশই এখন ভাঙাচোরা, গর্ত ও খানাখন্দে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। সড়ক সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে শত শত কোটি টাকা ব্যয় হলেও এর সুফল পাচ্ছেন না নগরবাসী। বরং পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ।

জানা গেছে, কোনো সড়ক খোঁড়ার পর কাজ শেষে দ্রুত সেটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার নিয়ম সিটি করপোরেশনের থাকলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা মানছে না সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

 

"