রাজশাহীর পশুর হাট

পর্যাপ্ত পশু থাকলেও ক্রেতার হাঁসফাঁস

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

বিশেষ প্রতিবেদক, রাজশাহী

রাজশাহীর পশুর হাটগুলো পশুতে ঠাসা থাকলেও অধিক দাম হাঁকানোর কারণে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস অবস্থা দেখা গেছে। হাটে আসা বেশির ভাগই ক্রেতা দরদামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছেন। গত বছর অনেক খামারি লোকসানে পশু বিক্রি করায় এবার পুশিয়ে নেওয়ার জন্য অধিক দাম হাঁকাচ্ছেন দাবি হাট ইজারাদারদের। আর খামারিদের দাবি গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধির ফলে গতবারের চেয়ে এবার কোরবানির পশুর দাম একটু বেশি পড়বে। ফলে গত বুধবার পর্যন্ত রাজশাহীর সবচেয়ে বড় পশুর হাটে (সিটি হাট) উল্লেখযোগ্য বিক্রির খবর মেলেনি। তবে হাট ইজারাদারদের দাবি আগামী দুই দিনের মধ্যে পুরোপুরি জমে ওঠবে পশুর বাজার।

রাজশাহীতে কোরবানির বড় পশুহাটগুলোর মধ্যে রয়েছে মহানগরীর সিটি হাট, পবা উপজেলার নওহাটা ও কাটাখালি, গোদাগাড়ী উপজেলার মহিষালবাড়ী ও কাকনহাট, বাগমারা উপজেলার মচমইল, ভবানিগঞ্জ ও নরদাশ, পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর ও ঝলমলিয়া এবং মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট অন্যতম। এছাড়াও রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় ক্ষণস্থায়ীভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে কোরবানির জন্য পশুরহাট খোলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবার বাজার ধরতে রাজশাহীতে চাহিদার চেয়েও প্রায় ৭০ হাজার বেশি কোরবানির পশু প্রস্তুত আছে। যে কারণে শেষ পর্যন্ত দামও নাগালের মধ্যেই থাকবে। তারা বলেন, গত বছর রাজশাহীতে চাহিদার চেয়ে কোরবানির পশুর পরিমাণ বেশি ছিল। যে কারণে শেষের দিকে এসে অনেক খামারিকে লোকসানে পশু বিক্রি করতে হয়েছে। যে কারণে বেশকিছু খামারি এই ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। যারা অধিক খরচ করে খামার টিকিয়ে রেখেছেন, তারা এবার লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন কি-না এই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। আর গোখাদ্যের দাম বেশি থাকায় এবার খামারিদের খরচ একটু বেশি পড়ছে। যার ফলে গতবারের তুলনায় এবার গরু-ছাগলের দাম একটু বেশি পড়বে।

সিটি হাটের গরু ব্যবসায়ীরা বলেন, ছোট আকৃতির গরু এখন ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় মিলছে, মাঝারি আকৃতির গরুর দাম ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকার মধ্যে এবং বড় গরু ৯০ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। আর তুলনামূলকভাবে গরু এবং মহিষের দামের ব্যবধান খুব একটা লক্ষ্য করা যায়নি। তবে গতবারের চেয়ে এবার প্রতি গরু ও মহিষের দাম ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা বেশি। রাজশাহী সিটি হাটে গরু বিক্রি করতে আসা পুঠিয়া উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তা আশরাফুল ইসলাম প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘গত বছর কোরবানির ঈদের পর ৯৫ হাজার টাকা দিয়ে চারটি দেশি গরু ক্রয় করে এবার তা বিক্রির জন্য এনেছি। এসব গরুর খাদ্য ও পরিচর্যা করতে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত চারটি গরু মিলে দাম উঠেছে আড়াই লাখের মতো। ফলে লাভ তো দূরের কথা খরচের টাকা উঠবে কি-না ভাবছি। তবে শেষ পর্যন্ত দেখব, লাভ হলে আগামী বছরের জন্য আরো বেশি টাকা বিনিয়োগ করব। নয়তো, এবারই শেষ।’

সার্বিক বিষয়ে গত বুধবার সন্ধ্যায় রাজশাহী সিটি হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান কালু প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘কয়েক মাস হলো ভারত থেকে গরু আসা বন্ধ রয়েছে। এরই মধ্যে রাজশাহীসহ আশপাশের জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন খামার থেকে কোরবানির পশু আসতে শুরু করেছে। এখন বেচাকেনা শুরু হলেও হাট জমতে আরো দুই দিন সময় লাগবে।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বেশির ভাগ ক্রেতা হাটে এসে দরদাম হাঁকিয়ে যাচ্ছেন। তবে যাদের বাসায় পশু রাখার জায়গা আছে তারা দামে সুবিধা পেলেই কিনছেন।’ কালু আরো বলেন, ‘প্রতি বছরের মতো এবারও সিটি হাটে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের নিরাপত্তায় বাড়তি ব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। হাটে পশু চিকিৎসক রয়েছেন। এছাড়া হাটে জাল টাকা শনাক্তের জন্যও মেশিনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিকাল ৫টা পর্যন্ত তারা থাকছেন। তবে এখন পর্যন্ত জাল টাকা ধরা পড়েনি।’ রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অন্তিম কুমার সরকার জানান, জেলার ৯ উপজেলায় ১৭ হাজার ৭০০ খামার রয়েছে। যেখানে ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৫৭৪ কোরবানির পশু লালন-পালন করা হচ্ছে। এর মধ্যে গরু ৭৮ হাজার ১৩, মহিষ ২ হাজার ১৭৫, ছাগল ২ লাখ ৭৪ হাজার ৭৫ ও ভেড়া ১৩ হাজার ৬৭৫। রাজশাহীতে এবার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৮২৪টি।

এর মধ্যে গরু ৫৮ হাজার ৬১৩টি, ছাগল ২ লাখ ২৭ হাজার ৬৮০টি, ভেড়া ১২ হাজার ৫০০টি ও মহিষ ২ হাজারটি। এখানে পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে ৬৬ হাজার ৭৫০টি। ফলে এখানে কোরবানির জন্য বাইরের পশুর প্রয়োজন হবে না। গত বছর এখানে ৩ লাখের কিছু কম পশু কোরবানি হয়েছে।

 

"