এডিসের বিরুদ্ধে মেয়রের যুদ্ধ আজ

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

তাজুল ইসলাম পলাশ, চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামে প্রতিদিন বেড়ে চলেছে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল মিলে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩৭০ জনের মতো। এ নিয়ে জোরেশোরে চলছে প্রচার-প্রচারণা। এদিকে ডেঙ্গুমুুক্ত চট্টগ্রাম গড়তে এডিসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত একযোগে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হবে। গত বুধবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে ‘এডিস মশা নিধন ও ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধ’ শীর্ষক মহানগর ও বিভাগীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা গ্রহণ সম্পর্কিত সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এ ঘোষণা দেন।

নগরীর অপর্ণা চরন সিটি করপোরেশন বালিকা বিদ্যালয় থেকে এ প্রোগ্রাম শুরু হবে। মেয়র জানান, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করতে হবে। মসজিদ, মন্দিরসহ সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। মিডিয়াকর্মীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানসহ সবাই মিলে সমন্বিত উদ্যোগ নিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব। সবাই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিলে এডিস মশা আর জন্ম নিতে পারবে না।

অন্যদিকে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, জেলা প্রশাসন, ক্যাব, পিডিপি, এনজিওসহ বিভিন্ন সংঘঠন সচেতনতামূলক কর্মশালা, প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে ডেঙ্গুর ভয়াবহ পরিস্থিতিতে জেলা সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী এক সপ্তাহের ছুটি নিয়ে ট্রেনিং করতে গেছেন মালয়েশিয়ায়। সঙ্গে নিয়ে গেছেন কার্যালয়ের ১৯ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিশাল বহরও। অথচ ডেঙ্গু পরিস্থিতির কারণে গত ৩০ জুলাই সরকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করে।

সূত্র জানায়, মালয়েশিয়ায় কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট অব হেলথ সার্ভিস ডেলিভারি অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট শীর্ষক সাত দিনের একটি প্রশিক্ষণে অংশ নিতে গত ২ আগস্ট সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী চট্টগ্রাম ছেড়ে যান।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ থেকে প্রশিক্ষণের জন্য চট্টগ্রামের সিভিল সার্জনকে মনোনীত করা হয়। এই সফরে তার সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রশাসনের আরো ১৯ কর্মকর্তা-কর্মচারীও রয়েছেন। আর এই মুহূর্তে সিভিল সার্জনের মালয়েশিয়া সফরে যাওয়া নিয়ে সমালোচনা চলছে স্বাস্থ্য বিভাগে।

সাধারণ মানুষ বলছে, যেখানে ডেঙ্গু ‘মহামারি’ আকার ধারণ করেছে সেখানে একজন সিভিল সার্জন দেশ ছেড়ে বাইরে যাওয়া কখনো সমীচীন নয়। এর আগে সিভিল সার্জন ডেঙ্গু নিয়ে রহস্যজনক কথাও বলেছেন। ডেঙ্গু ভয়ানক কিছু নয়। সচেতনতা সতর্ক থাকলে ডেঙ্গু হয় না। একটি দৈনিককে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, চট্টগ্রামে ডেঙ্গু নেই। ঢাকা থেকে যারা এসেছেন তাদের থেকে ডেঙ্গু সংক্রমণ হয়েছে। হয়তো কিছু মানুষ ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তাদের সম্পূর্ণ বিশ্রাম নিলে সেড়ে যাবে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম হজযাত্রা বাতিল করেছেন। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ইচ্ছা করলে মালয়েশিয়া সফরও বাতিল করতে পারতেন। এ বিষয়ে চট্টগ্রামের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, মালয়েশিয়াতে এই প্রশিক্ষণের সময়সূচি দুই মাস আগে নির্ধারণ করা ছিল। হয়তো সে কারণে তিনি গেছেন। ডা. হাসান শাহরিয়ার বলেন, এই সময়ে কেন গেছেন তা তিনি জানেন না। তবে সবাই তো এই প্রশিক্ষণের সুযোগ পান না। অবশ্য মালয়েশিয়া যাওয়ার আগে তিনি ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জি এম তৈয়ব আলীকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে যান।

ডা. জি এম তৈয়ব আলী বলেন, তিনি আমাকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। ডেঙ্গু পরিস্থিতির বিষয়টি আমরা নজরদারি করছি।

 

"