ঈদের আগেই বেসামাল মসলার বাজার

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদ ঘনিয়ে এলেই কৌশলে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। রমজান ঈদের আগে যেমন বেড়েছিল ছোলা, বুট, খেজুর, বেগুন পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম। সে ধারাবাহিকতায় কোরবানির ঈদের আগে বেসামাল হয়ে পড়েছে মসলার বাজার। গত এক থেকে দেড় মাসের তুলনায় সব ধরনের মসলার দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। কোনো পণ্যের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। ক্রেতারা বলছেন, ঈদের আগে হঠাৎ করে দাম বাড়ালে তোপের মুখে পড়তে হবে এমন চিন্তাধারা করেই এক মাস আগে থেকে ধীরে ধীরে দাম বাড়িয়ে রেখেছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা।

তাদের অভিযোগ, বাজার মনিটরিংয়ে সরকারের নিয়মিত তদারকি না থাকায় ব্যবসায়ীরা এই সুযোগকে কাজে লাগায়। সরকার নিত্যপণ্যের দাম না বাড়াতে বললেও ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন কৌশলে পণ্যের দাম ঠিকই বাড়িয়ে নিয়েছে। কিন্তু এরপর মনিটরিংয়ে সরকার আর মনোযোগ দেয়নি।

রাজধানীর কারওয়ানবাজার ও স্থানীয় কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রোজার ঈদের সময় প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা দরে। খুচরা বাজারে সেই এলাচের দাম ঈদের পর তিন দফায় বেড়ে বর্তমানে এসে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। যা প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি। তবে শুধু এলাচ নয়, এভাবে বেড়েছে মসলাজাতীয় সব পণ্যের দাম। যেমন লবঙ্গের কেজি পাইকারি বাজারে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়, দারচিনির কেজি পাইকারি পর্যায়ে ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা, খুচরা পর্যায়ে তা ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা। গোলমরিচ পাইকারি বাজারে ৪৫০ থেকে ৪৭০ টাকায় বিক্রি হলেও খুচরা পর্যায়ে তা বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায়। জিরা পাইকারি বাজারে ৩২০ থেকে ৩৯০ টাকা পর্যন্ত, খুচরা বাজারে তা ৩৮০ টাকা থেকে ৪৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলু বোখারা পাইকারি বাজারে ২৮০ টাকা, যা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা দরে।

এছাড়া তেজপাতা পাইকারিতে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা হলেও খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। আর খুচরা পর্যায়ে দেশি আদা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, চীনা আদা ১৬০ টাকা থেকে ২০০ টাকা। রসুন দেশি ১৩০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা, ভারতীয় রসুন ১৭০ টাকা থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ পর্যাপ্ত মজুদ আছে জানিয়ে সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছিলেন, কোরবানিতে মসলাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়বে না। সে সময় তিনি দাবি করেন, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও গরম মসলাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি মজুদ রয়েছে এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। একজন ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এলাচ থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি মসলার দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। দাম বেশির কারণ সম্পর্কে ব্যবসায়ীদের সোজা উত্তর বেশি দামে এনে বেশি দামে বিক্রি করে। কিন্তু আসলে এর মনিটরিং করার দায়িত্ব কার? সরকারের। কিন্তু তা কী করা হয়?’ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাচ, জিরা, লবঙ্গ এই জাতীয় গরম মসলাগুলো মানভেদে কয়েক প্রকার হয়ে থাকে। নিম্নমানের থেকে ভালো মানের এসব মসলার দামেও থাকে বিস্তর ফারাক। গরম মসলার দাম নিয়ে কারওয়ানবাজারের একজন পাইকারি ব্যবসায়ী বলেন, এক থেকে দেড় মাস আগেও এক কেজি এলাচের দাম ছিল ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকার মধ্যে। দারচিনি ছিল ২৮০ টাকা। এভাবে অন্যান্য মসলার দামও ছিল তুলনামূলক কম। কিন্তু কিছু আমদানিকারকরা সিন্ডিকেট করে এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়।

তিনি বলেন, আমদানিকারকরা টনে টনে মালামাল কিনে তা স্টক করে রেখে দেয়। পরে বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখায়। পাইকাররা তাদের থেকে মালামাল কিনতে গেলে সংকট দেখিয়ে দাম বেশি রাখে। তখন পাইকাররাও বাধ্য হয়ে বেশি দাম রাখেন। কিন্তু খুচরা পর্যায়ে যেহেতু ভোক্তারা খুব স্বল্প পরিমাণে কিনে তাই তাদের আকাশ ছোঁয়া দাম দিয়েই কিনতে হয়। এটা অস্বীকার করার মতো নয়। বাজারের এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরামর্শ দিয়ে এই ব্যবসায়ী বলেন, সরকার আমদানি পর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং করলে দাম নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। আরেক ব্যবসায়ী বলেন, গুটি কয়েক বড় ব্যবসায়ীর ফায়দার কারণে লাখ লাখ মানুষকে খেসারত দিতে হয়। তবে দাম নিয়ে ভিন্ন কথাও বলছেন কোনো কোনো ব্যবসায়ী।

কারওয়ানবাজারের আরেক পাইকারি ব্যবসায়ী বলেন, দাম তেমন একটা বাড়েনি। রমজানের আগেই যা বাড়ার বেড়েছে। যারা এতদিন গরম মসলা কিনেনি তারা তো দাম জানে না। এখন বাজারে কিনতে এসে মনে হচ্ছে অনেক বেশি দাম।

"