মাছ-মাংসে স্বস্তি : বেড়েছে পেঁয়াজ-আদা-রসুনের ঝাঁজ

প্রকাশ | ১৩ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

হঠাৎ করে বেড়েছে পেঁয়াজের ঝাঁজ। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ২০-২৫ টাকা। এক সপ্তাহ আগে দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজির দাম ছিল ৩০-৩৫ টাকা। আমদানি করা (ভারতীয়) পেঁয়াজের কেজি ছিল ২৫-৩০ টাকা। কিন্তু গতকাল শুক্রবার রাজধানীর খুচরা বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজ ৫০-৫৫ টাকা আর আমদানি করা পেঁয়াজ ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এদিকে সাত দিনের ব্যবধানে বেড়েছে আদা, রসুন ও ডিমের দামও। পেঁয়াজের দাম বাড়ার এই চিত্র সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজার মূল্য তালিকায়ও দেখা গেছে। ওই তালিকা অনুযায়ী, এক সপ্তাহ আগে যেখানে দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ২৫-৩০ টাকা, গতকাল সেটা বিক্রি হয়েছে ৪৫-৫০ টাকায়। আমদানি করা পেঁয়াজের দাম এক সপ্তাহ আগে ছিল ২৮-৩৫ টাকা। গত বুধবার তা বিক্রি হয়েছে ৪০-৪৫ টাকায়।

টিসিবির ওই হিসাবে আরো দেখা যাচ্ছে, দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ২০ টাকা আর আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ১০-১২ টাকা। কিন্তু হঠাৎ কেন দাম বাড়ছে? এর জবাবে অতিরিক্ত গরম আর বৃষ্টিকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এটা খোঁড়া যুক্তি। সরকারকে দাম বাড়ার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। এর তদন্ত করে দোষী ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় বছরের পর বছর এই রীতি চলতে থাকবে। ভোক্তাদের অভিযোগ, প্রতি বছর কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে কারসাজি করে পেঁয়াজের দাম ধীরে ধীরে বাড়ায় বিক্রেতারা।

রাজধানীর হাতিরপুল বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা তোহিদুল প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘৭-৮ দিন আগেও ২৫-৩০ টাকা দামে পেঁয়াজ কিনেছি। এখন দাম দ্বিগুণ হয়ে গেল কেন? একদিন বৃষ্টি হলেই ক্রেতারা বিভিন্ন উছিলা দিয়ে দাম বাড়ায়। সরকারের উচিত এখনি বাজার মনিটরিং করা। নতুবা কোরবানির ঈদকে ঘিরে দাম আরো বাড়াবে বিক্রেতারা।’

এ বিষয়ে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের পেঁয়াজের আড়তদার আমিনুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টি আর গরমে পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে দাম বাড়ছে। তবে বৃষ্টি হলে দাম আরো বাড়তে পারে। খুচরা বাজারের এই বিক্রেতা বলেন, পাইকাররা দাম বাড়িয়েছে। ফলে খুচরা বাজারেও বেড়েছে। তবে শ্যামবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য ও পেঁয়াজ আমদানিকারক ওয়াহিদ হাসান রনি বলেন, বৃষ্টির কারণে দাম বেড়েছে। এ ছাড়া পেঁয়াজ রফতানিতে ভারত প্রণোদনা তুলে নিয়েছে। এসব কারণে দাম বেড়েছে।

তিনি আরো বলেন, দুই দিন দাম বেশি ছিল। এখন কমেছে। বর্তমান খুচরা বাজারের প্রতি কেজির দাম ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এমন তথ্য জানালে রনি বলেন, পাইকারি পর্যায়ে দাম কম। ৩০ থেকে ৩২ টাকা। কিন্তু খুচরা বাজারে এত দাম নিচ্ছে কেন বলতে পারি না। তবে দাম কমে যাবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বলেন, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি সারা বছর যেন পেঁয়াজের দাম নাগালের মধ্যে থাকে, সে জন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। কয়েক দিনের ব্যবধানে কেজিতে ২০-২৫ টাকা বেড়ে যাওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

ব্যবসায়ীরা খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে দাম বাড়ায় মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাজারে সরকারের কোনো মোবাইল টিম কিংবা মনিটরিং ব্যবস্থা আছে বলে মনে হয় না। ভোক্তার স্বার্থে এখনি বাজার মনিটরিং করা উচিত। যেসব ব্যবসায়ী কোনো কারণ ছাড়াই পেঁয়াজের দাম বাড়িয়েছে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

এদিলে গতকাল খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চীনা আদা ১৬০ টাকা, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের আদা ১৮০-২০০ টাকা, চীনা রসুন ১৬০ টাকা ও দেশি রসুন ১৪০ টাকা চাইছেন বিক্রেতারা। ঈদুল ফিতরের আগেও রসুন ও চীনা আদার কেজি ১২০-১৩০ টাকার মধ্যে ছিল।

অন্যদিকে বাজারে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে শসা, টমেটো ও গাজর। এই ৩টি সবজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। আর গত সপ্তাহের থেকে কিছুটা দাম বেড়ে করলা বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা। ঝিঙ্গা, ধুন্দুল, কাকরোল ও ঢেঁড়স বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা কেজি। এছাড়া পটোল ৩০, বেগুন ৫০, পেঁপে ৩০, বরবটির ৬০ ও কচুর লতি ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

মাংসের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগির আগের সপ্তাহের মতো ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। পাকিস্তানি কক মুরগি ২২০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি। একই দামে বিক্রি হচ্ছে লাল লেয়ার মুরগি। গরুর মাংস বাজার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৫৭০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি। গত সপ্তাহের দামে বিক্রি হয়েছে মাছ।

 

"