১ কোটি ৩৭ লাখ টাকার উন্নয়নকাজ চলছে

সিলেট এখন খোঁড়াখুঁড়ির নগর!

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

তুহিন আহমদ, মহানগর (সিলেট)

সিলেট সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডেই চলছে কমবেশি উন্নয়ন কার্যক্রম। এজন্য চলছে সড়কজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি। বর্ষা মৌসুমে নগরজুড়ে এই উন্নয়ন কর্মকান্ডের খোঁড়াখুঁড়িতে বেশ ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মতে, নগরবাসীর ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে নগরজুড়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা দরকার। আর সিসিক কর্তৃপক্ষ বলছেন, বর্ষার কারণে বেশির ভাগ কাজই বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে পুরো বর্ষাকালই নগরবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হবে।

সিলেট নগরের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা জিন্দাবাজার। রমজান মাসের আগে থেকেই কালভার্ট নির্মাণের কাজ চলছিল সেখানে। ফলে পুরো সড়কটিতে যাতায়াত ব্যবস্থা বন্ধ ছিল। সড়ক বন্ধ থাকায় বেশ ভোগান্তিতে পড়েন সেখানকার ব্যবসায়ীরা। এমনকি ক্ষোভও প্রকাশ করেন। এখন ওই সড়কে চলছে ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের কাজ। যা প্রায় পাঁচ মাস নাগাদ চললেও অগ্রগতি খুব একটা বেশি নয়। খোঁড়াখুঁড়িতেই সীমাবদ্ধ হয়ে আছে এই প্রকল্পের কাজ।

শুধু জিন্দাবাজার এলাকা নয়। সিলেট নগরের প্রতিটি ওয়ার্ডেই রয়েছে খোঁড়াখুঁড়ির এমন চিত্র। পাশাপাশি রয়েছে সড়কের পাশে নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখার চিত্র। বৃষ্টির কারণে এসব নির্মাণসামগ্রী ও খোঁড়াখুঁড়ির মাটি মিশে একাকার হয়ে ভোগান্তি বাড়াচ্ছে নগরের মানুষের। রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়াও এখন অনেক কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, জাতীয় নির্বাচনের কারণে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের কাজ শুরু করতে হয়েছে ডিসেম্বরের মাসের পরে। উন্নয়ন কার্যক্রম শুরুর আগেই আগাম বৃষ্টিতে কাজে নামে ধীরগতি। আর এখন চলছে বর্ষাকাল। তাই বৃষ্টির কারণে বেশির ভাগ উন্নয়ন কাজই বন্ধ রয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দকৃত বাজেট পেতে বিলম্ব হওয়ায় চলমান উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি হচ্ছে না। সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বর মাসের আগে চলমান এসব উন্নয়ন কাজ পুরোদমে শুরু হবে না। ফলে নগরবাসীকে আরো অনেকদিন ভোগান্তিতেই কাটাতে হবে।

সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, নগরের বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ড্রেন, সড়ক মেরামত, খাল ছড়া সংরক্ষণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ভারতীয় অর্থায়নে ও ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের অধীনে বেশকিছু কাজ হচ্ছে। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কিছু কাজ বন্ধ রয়েছে আর বিদেশি অর্থায়নের কাজগুলোর বরাদ্দ না পাওয়ায় ওইসব প্রকল্পের কাজ বন্ধ আছে। ফলে রাস্তা খুঁড়েই ফেলে রাখা হয়েছে।

সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী খাদিজা বুশরা নূর প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, চৌহাট্টা থেকে জিন্দাবাজারমুখী সড়কটিতে প্রতিটা সময়ই খোঁড়াখুঁড়ি লেগে থাকে। নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা হয় সড়কের পাশে। বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয় আমাদের। তার মধ্যে রয়েছে ফুটপাত দখলের ভোগান্তি। জিন্দাবাজারের ব্যবসায়ী ইসরাক আহমেদ বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই সড়কে হাঁটু সমান পানি উঠে যায়। বিশেষ করে ভারী বৃষ্টির সময় সড়ক ভবনের সামনে গেলেই মনে হবে সুরমা নদীর ওপর দিয়ে হাঁটছি এমন অবস্থা।

সিলেট সিটি করপোরেশনে প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, উন্নয়ন ভোগান্তি শুধু সিলেটেই, সারা বাংলাদেশেই রয়েছে। জনগণের ভোগান্তি কমিয়ে এনে চলমান উন্নয়ন কাজগুলো শেষ করতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। তবে পরিবেশ, পরিস্থিতি সব সময় আমাদের অনুকূলে থাকে না।

 

"