ডিএসসিসির হাট ইজারা

দ্বিতীয় দফা টেন্ডারেও কাক্সিক্ষত দাম উঠেনি

প্রকাশ | ০৯ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

হাসান ইমন

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) পশুর ১৪টি হাটের মধ্যে প্রথম দফা টেন্ডারে ১১টি ইজারা হয়েছে। দ্বিতীয় দফা টেন্ডারে তিনটি হাটের মধ্যে একটি হাট সরকারি নির্ধারিত দর পেয়েছে। বাকি দুটি হাটে এবার অস্বাভাবিক দর কম দিয়ে দরপত্র জমা দিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। ইজারা পেতে দরপত্র দাখিলকারীরা বলছেন, গত বছর হাটগুলো ইজারা নিয়ে আর্থিক ক্ষতি হওয়ায় তারা এবার কম দর উল্লেখ করেছেন। তবে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলেছেন, পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হবে।

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে মোট ১৪টি স্থানে অস্থায়ী কোরবানির পশুহাট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএসসিসি। গত ১০ জুন এসব হাটের জন্য ইজারাদার ঠিক করতে প্রথম দফায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। গত ২৬ জুন দরপত্র খোলার পর দেখা যায় ১১টি হাটে সরকারি দরের চেয়ে বেশি দর পড়েছে। এ কারণে হাট মূল্যায়ন কমিটি সর্বোচ্চ দরদাতাদের হাটগুলো ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু তিনটি হাটে সরকারি মূল্যের চেয়ে কম দর উঠায় আবারও দরপত্র আহ্বান করা হয়। গত বৃহস্পতিবার ছিল দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। পরে ডিএসসিসির কর্মকর্তারা দরপত্র বাক্স খুলে খুবই হতাশ হন। দেখা যায়, আফতাবনগরের হাটের জন্য মাত্র একজন দরপত্র জমা দিয়েছেন। জসিম উদ্দিন সবুজ নামে ওই দরদাতা অবশ্য এ হাটের সরকারি দর ৬৫ লাখ ৩০ হাজার থেকে কিছু বেশি ৬৭ লাখ টাকা দর দিয়েছেন। তবে এ হাটে প্রথম দফায় দরপত্র জমা দেওয়া মোকাস্সেদ হোসেন কিসলু এবার কোনো দরপত্রই জমা দেননি। প্রথম দফা দরপত্রে তিনি মাত্র ২০ লাখ টাকা দর দিয়েছিলেন। একইভাবে আমুলিয়া মডেল টাউনের আশপাশের খালি জায়গা নিয়ে গঠিত হাটে প্রথম দফায় দুটি দরপত্র জমা পড়েছিল। এবারও দুটি দরপত্র জমা পড়েছে। এ হাটের সরকারি মূল্য সাড়ে ১৮ লাখ টাকা। প্রথম দফায় এ হাটে মো. আহসান উল্লাহ মাত্র ৪ লাখ টাকা দর দেন। এবার তিনি মাত্র ৫ লাখ টাকা দর দিয়েছেন। হেলাল উদ্দিন ব্যাপারী নামে আরেকজন দরদাতা প্রথম দফা দরপত্রে ৩ লাখ টাকা দর উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি দ্বিতীয় দফা দরপত্র জমা দিয়ে পে-অর্ডার জমা দিলেও তিনি হাটের জন্য কোনো দর উল্লেখ করেননি। এছাড়া শ্যামপুর বালুর মাঠসহ আশপাশের এলাকার খালি জায়গার হাটের বিপরীতে দুটি দরপত্র জমা পড়লেও তারাও কোনো দর উল্লেখ করেননি। অথচ পে-অর্ডার জমা দিয়েছেন তারা। এ হাটের সরকারি মূল্য ছিল ৯৮ লাখ ৫৮ হাজার ২৪৮ টাকা। এর বিপরীতে প্রথম দফা দরপত্রে মোট চারজন দরপত্র জমা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে সিদ্দিকুর রহমান মাত্র ৪৫ লাখ টাকা, তাজুল ইসলাম ৩৫ লাখ টাকা, কাজী মো. শহীদ উল্লাহ ৩০ লাখ ও রাসেল ইকবাল ২৫ লাখ টাকা দর দিয়েছিলেন। কিন্তু এবার হাটে মাত্র দুজন দরপত্র জমা দিলেও তারাও কোনো দরপত্র জমা দেননি। এ হাটে হাজী আমিনুল ইসলাম এবং এস এম আমিনুর রহমান নামে দুজন দরপত্র জমা দেন। এ হাটে প্রথম দফায় যারা দরপত্রে অংশ নিয়েছিলেন তারা কেউই দ্বিতীয় দফায় দরপত্রে অংশ নেননি। যা হাট নিয়ে ব্যবসায়ীদের লুকোচুরি খেলা বলে মনে করছে সিটি করপোরেশন। ডিএসসিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শ্যামপুর ও আমুলিয়া হাটের বিপরীতে কাক্সিক্ষত দর না পাওয়ায় এ দুটি হাটের জন্য আবারও দরপত্র আহ্বান করতে হতে পারে। তবে হাট মূল্যায়ন কমিটির সভার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে। এ দিকে আমুলিয়া মডেল টাউনসংলগ্ন হাটের ইজারায় অংশ নেওয়া মো. আহসান উল্লাহ জানিয়েছেন, গত বছর এ হাটটি ইজারা নিয়ে আমাদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এ জন্য এ বছর দরপত্রে কম দর দেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ সিটির এ বছরের অস্থায়ী কোরবানির হাটগুলো হলো : ১) উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজারের মৈত্রী সংঘের মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা ২) ঝিগাতলা হাজারীবাগ মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা ৩) লালবাগের রহমতগঞ্জ খেলার মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা ৪) কামরাঙ্গীরচর ইসলাম চেয়ারম্যানের বাড়ির মোড় হতে দক্ষিণ দিকে বুড়িগঙ্গা নদীর বাঁধসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা ৫) শ্যামপুর বালুর মাঠসহ আশপাশের খালি জায়গা ৬) শ্যামপুর বালুর মাঠসহ আশপাশের এলাকার খালি জায়গা ৭) মেরাদিয়া বাজারসংলগ্ন আশপাশের এলাকার খালি জায়গা ৮) ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সামসাবাদ মাঠসংলগ্ন আশপাশের এলাকার খালি জায়গা ৯) লিটিল ফ্রেন্ডস ক্লাবসংলগ্ন গোপীবাগ বালুর মাঠ ও কমলাপুর স্টেডিয়াম সংলগ্ন বিশ্বরোডের আশপাশের খালি জায়গা ১০) শনির আখড়া ও দনিয়া মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা ১১) ধুপখোলা মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা ১২) ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউয়ারটেক মাঠসংলগ্ন আশপাশের এলাকার খালি জায়গা ১৩) দাওকান্দি ইন্দুলিয়া ভাগাপুর নগর (আফতাব নগর ইস্টার্ন হাউজিং মেরাদিয়া মৌজার সেকশন-১ ও ২) লোহারপুলের পূর্ব অংশ এবং খোলা মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা এবং ১৪) আমুলিয়া মডেল টাউনের আশপাশের খালি জায়গা।

 

"