৩০ শতাংশের মৃত্যু হৃদরোগে

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

মহানগর (সিলেট) প্রতিনিধি

সারা দেশে ৩০ শতাংশের মৃত্যু হচ্ছে হৃদরোগে, ৬৭ শতাংশ সংক্রামক ব্যাধিকে আক্রান্ত হচ্ছেন। ২০১৮ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক পরিসংখ্যানে বিষয়টি তুলে ধরেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আবদুল মালিক। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে সংক্রামক ব্যাধি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। কিন্তু জীবনধারার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যাভ্যাস এবং কায়িক পরিশ্রমের অভাবের ফলে অসংক্রামক ব্যাধি দিন দিন বেড়েই চলেছে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীর সংখ্যা বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে বেশি।’

সিলেট ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে এই প্রকল্পের আওতাধীন সিলেটের বিয়ানীবাজার, বিশ্বনাথ, ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জের সর্বস্তরের চিকিৎসকদের সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপের পাইলট প্রকল্পের মতবিনিময় সভায় গত শনিবার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য জানান।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের এনসিডিসি প্রোগ্রাম, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সহায়তায়, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেটের মাধ্যমে এবং রিসোলভ টু সেইভ লাইভস ইউএসএ-এর সাহায্য পৃষ্ঠপোষকতায়, সিলেটের চারটি উপজেলায় এই পাইলট প্রকল্পের কাজ চলছে।

এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘প্রাপ্ত বয়স্কদের ২০ থেকে ২৫ শতাংশের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ থাকলেও অধিকাংশই তা জানে না। এজন্য উচ্চ রক্তচাপকে বলা হয় নীরব ঘাতক। যার কারণে অনেকের মধ্যে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, কিডনি সমস্যা বা অন্ধত্ব দেখা দেয়। কাজেই উচ্চ রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা উচিত যেমন লবণ কম খাওয়া, ওজন ঠিক রাখা, শাকসবজি, ফলমুল খাওয়া, কায়িক পরিশ্রম এবং ধূমপান বা তামাক জাতীয় দ্রব্য সেবন থেকে বিরত থাকা। তাহলে অনেকাংশে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে স্বাভাবিক জীবন-যাপন করা সম্ভব হয়।

তিনি বলেন, ‘জনগণকে সুস্থ রাখতে হলে সচেতনতা বাড়াতে হবে। ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া এবং যাদের মা-বাবার উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাদের সবসময় রক্তচাপ মাপা জরুরি।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ডা. এ এইচ এম এনায়েত হোসেন বলেন, ‘প্রত্যেকটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উচ্চ রক্তচাপের রোগী চিহ্নিত করতে হবে। কারণ অনেকেই জানে না তার উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে। আমাদের জীবন যাত্রার মান পরিবর্তন করতে হবে। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দিতে হবে। হাইপারটেনশন কন্ট্রোল প্রোগ্রামের প্রজেক্ট ম্যানেজার ডা. মাহফুজুর রহমান ভূঁইয়া জানান, গত মার্চ ২০১৯ থেকে এই প্রকল্পে ১৬ হাজার ৪৩৪ জনের রক্তচাপ মাপা হয় এর মধ্যে ৩ হাজার ১৬৬ জনের উচ্চ রক্তচাপের রোগী শনাক্ত করা হয়।

প্রকল্পের সমন্বয়কারী আবু তালেব মুরাদের পরিচালনায় এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেটের সভাপতি প্রফেসর ডা. এম এনায়েত উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের এডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেল প্রফেসর ডা. এ এইচ এম এনায়েত হোসেন, সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. হিমাংশু লাল রায় এবং স্বাস্থ্য বিভাগ সিলেটের রোগ নিয়ন্ত্রণ সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান।

সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেটের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ডা. মো. আমিনুর রহমান লস্কর, হাইপারটেনশন কন্ট্রোল প্রোগ্রামের প্রজেক্ট ডিরেক্টর ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ইপিডিমোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী।

 

"