৪ মাস ধরে বন্ধ কয়লা আমদানি!

সিলেটে ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত

প্রকাশ : ১৬ জুন ২০১৯, ০০:০০

সিলেট প্রতিনিধি

পরিবেশবাদী একটি সংগঠনের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে মেঘালয় রাজ্যের বিভিন্ন খনি থেকে কয়লা উত্তোলন ও রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারতীয় সরকার। ফলে প্রায় চার মাস ধরে বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশে কয়লা আমদানি। এ দিকে আমদানি বন্ধ থাকায় প্রায় ১০০ কোটি টাকার লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সিলেটের ব্যবসায়ীরা। এলসিকৃত কয়লা আমদানি করতে না পারলে শুল্ক ও অগ্রিম আয়কর (এআইটি) বাবদ পরিশোধিত তাদের প্রায় ২০ কোটি টাকা গচ্ছা যাবে। কবে আমদানি শুরু হবে সেটাও নিশ্চিত করতে বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট কেউ। এছাড়া এখন কয়লা মজুদ করা না গেলে আগামী শুষ্ক মৌসুমে ইটভাটাগুলোতে কয়লা সংকট দেখা দেওয়ার শঙ্কাও প্রকাশ করছেন তারা।

জানা গেছে, চার মাস বন্ধ থাকার পর গেল ১৭ মে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট মেঘালয় রাজ্যের খনিগুলো থেকে শুধু উত্তোলিত কয়লা ৩১ মে পর্যন্ত রফতানির অনুমতি দেয়। এই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ২২ মে থেকে সুনামগঞ্জের বড়ছড়া ও বাগলী সীমান্ত দিয়ে কয়লা আমদানি শুরু হয়। ৩১ মের পর ফের বন্ধ হয়ে যায় আমদানি। কয়লা আমদানিকারক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, মেঘালয় থেকে পুনরায় কয়লা রফতানির অনুমতি চেয়ে ভারতের ব্যবসায়ীরা আবারও উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন। আগামী ২ জুলাই এই আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওইদিন শুনানি শেষে আদালতের অনুমতি পাওয়া না গেলে বাংলাদেশের আমদানিকারকরা বড় ধরনের ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন। এর আগে প্রায় সাত মাস বন্ধ থাকার পর গত ডিসেম্বরে চালু হয়েছিল ভারত থেকে কয়লা আমদানি। তবে শুরুর ২৫ দিনের মাথায় হঠাৎ করেই ফের বন্ধ হয়ে যায় আমদানি।

কয়লা আমদানিকারক সমিতি সিলেটের সভাপতি চন্দন সাহা প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘কয়লা আমদানির জন্য বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের প্রায় ১৫০ কোটি টাকার এলসি করা ছিল। গত ১৭ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত প্রায় ৫০ কোটি টাকার কয়লা আমদানি হয়েছে। বাকি ১০০ কোটি টাকার এলসি এখন আটকে আছে। অনেক ব্যবসায়ী ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এলসি করেছেন। কিন্তু কয়লা আমদানি করতে না পেরে ঋণের সুদের বোঝা তাদের টানতে হচ্ছে। এছাড়া পুনরায় আমদানি শুরু না হলে শুল্ক ও এআইটি বাবদ প্রায় ২০ কোটি টাকা ফেরত পাবেন না ব্যবসায়ীরা। এতে তারা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।’ প্রসঙ্গত, মেঘালয়ের একটি পরিবেশবাদী সংগঠনের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালে কয়লা রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ভারতের ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল। এরপর সে দেশের রফতানিকারকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক দফা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য উত্তোলিত কয়লা রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেন আদালত।

 

 

"